সেলিম ওসমান ও ডিসিকে দুই করোনা যোদ্ধার আঁকুতি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৩৯ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার

সেলিম ওসমান ও ডিসিকে দুই করোনা যোদ্ধার আঁকুতি

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে করোনা হাসপাতালের প্রতি নজর দিতে এমপি সেলিম ওসমান ও জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিনের প্রতি আহবান রেখেছেন দুইজন করোনা যোদ্ধা কাউন্সিলর। তাঁরা হলেন সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।

৩ সেপ্টেম্বর শহরের খানপুরে করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই আহবান রাখেন।

কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বলেন, ‘সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান আপনি এই হাসপাতালে যথেষ্ট টাকা খরচ করেছেন এখনো যথেষ্ট পরিমাণে দিচ্ছেন। কোভিড-১৯ পেশেন্টদের স্বাস্থ্য এবং জীবিত রাখার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন আপনি করছেন। আপনি হাসপাতালের ডাক্তার সিস্টার ওয়ার্ড বয় সবার খাবার দিচ্ছেন। কিন্তু এখানে রোগীদের নিয়ে যে তামাশা হচ্ছে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যারা আছে ডিসি তাঁরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারণ এখানে একজন পেশেন্ট আসছেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওনা দাফাতে দাফাতে চোখের সামনে মরে যাচ্ছেন। অথচ আইসিইউতে নিচ্ছে না। আজকে আইসিইউতে মাত্র একটা রোগী। দুপুরে একজন রোগী মারা গেছেন ওনার নাম সামছুন্নাহার। আর এই মুহূর্তে আইসিইউতে মাত্র একটা পেশেন্ট আছেন। বাকি সবকটা সিট খালি। আমার এই বোনটিকে যদি শ্বাসকষ্টের কারণে আইসিইউতে নেওয়া হতো তাহলে হয়তো ওনি বেঁচে যেতো। ওনার পরিবারের আরো চারজন পাঁচজন লোক কোভিড-১৯ পজিটিভে মারা গেছেন। এই পরিবারের অবস্থাটা কি দাঁড়ালো?’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সহকর্মী মাকসুদুল আলম খোরশেদ একজন করোনা যোদ্ধা। কোভিড-১৯ মহামারিতে যথেষ্ট কাজ করেছেন জীবণ বাঁচানোর জন্য, মানুষকে বাঁচানোর জন্য। আমরাও পাশাপাশি করে যাচ্ছি। আমরা দুইজনে আজকে মাননীয় সাংসদ একেএম সেলিম ওসামান আপনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি। আপনি এই মুহূর্তে যদি হাসপাতালের দিকে দৃষ্টি না দেন এই যে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছে। আজকে এই রোগী আমার চোখের সামনে মারা গেছে। আপনি প্লিজ এই বিষয়গুলো দেখেন। একটা আইসিইউ দশটা বেড একটা মাত্র রোগী। এই যে রোগীটা চোখের সামনে মারা গেলো। এটাতো দেখতে পারব না। আপনার সমস্ত অর্জন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনি দয়া করে এই বিষয়টি দেখেন। একটা রোগী পজিটিভ না হওয়া পর্যন্ত মারা যাবে। অথচ রোগীটা শ্বাসকষ্টে ভূগছে এবং ওনি সাসপেক্ট। সার্টিফিকেটে ওনি কোভিড-১৯ সাসপেক্ট। তাহলে কেন ওনাকে নেওয়া হলো না?’

১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘ওনি আমাকে বিকেল বেলায় জানিয়েছিলেন যে, ‘শ্বাসকষ্ট বাড়ছে কিন্তু বার বার বলার পরেও আইসিইউ দিচ্ছে না। আর আইসিইউ এর যে সিস্টেম নারায়ণগঞ্জে আমরা জানি করোনা পজিটিভ না হওয়া পর্যন্ত আইসিইউ সুবিধা দেওয়া হয় না। তাঁর স্যাম্পল নেওয়া হয়েছিল কিন্তু রিপোর্ট এখনো আসেনি। যে কারণে সে আইসিইউ সুবিধা পায়নি। বর্তমানে তাঁরা মৃত্যু হলো কোভিড সাসপেক্ট হিসেবে।’

তিনি বলেন, ‘তাঁকে সকালে ভর্তি করার পরে বিকেলে মৃত্যু হয়। যদিও মৃত্যু আসলে আল্লাহর হাতে। কিন্তু তারপরেও রোগীর আত্মীয় স্বজনেরা মেন্টাল সেটিসফেকশন পায় যে আমরা খানপুর হাসপাতালে যাওয়ার পরে সেবা পেয়েছি বা যে সাপোর্ট পাওয়া দরকার পেয়েছি। এমনিতেও মানুষের মৃত্যু হলে স্বজনদের কষ্ট বাড়ে। কিন্তু অসন্তুষ্টি থাকলে সেটা আরো বাড়ে। যেহেতু আমরা নারায়ণগঞ্জে অনেক চেষ্টা করে আইসিইউ চালু হয়েছে। এখন আইসিইউটা যেন প্রোপার ভাবে সেবা পাওয়া যায় এই জন্য আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে শওকত ভাই যিনি ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর যিনি হাসপাতালে যথেষ্ট শ্রম এবং সময় দিচ্ছেন। শওকত ভাইয়ের মাধ্যমেও কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাবো যেন আইসিইউ পদ্ধতি সহজ করা হয়। পজিটিভ রিপোর্ট আসতে আসতে অনেকের মৃত্যু হয়ে যায়। যেমন আজকের এই ঘটনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু নারায়ণগঞ্জের প্রধান হাসপাতাল এটা। সকল চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে শুধুমাত্র কোভিড-১৯ এর জন্য এত বড় একটি হাসপাতাল ব্যবহৃত হচ্ছে। কোভিডের কারণে আমরা সাধারণ চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছি না। অতএব কোভিডের চিকিৎসা তো শতভাগ হওয়া দরকার। নয়তো এরকম অভিযোগ থাকলে আমাদের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন সকলের জন্য এটা লজ্জার হবে। এমপি মহোদয় সহ যারা দায়িত্বে আছেন তাঁদের অবশ্যই এই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও