নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে, ৬ দিনে ৪

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে, ৬ দিনে ৪

নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে মৃত্যু কমতির দিকে ছিল। তবে সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা আবারো বাড়তে শুরু করেছে। গত ৬ দিনে নারায়ণগঞ্জে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জন।

গত ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের মধ্যে দিয়ে দেশে করোনার অস্তিত্বের কথা জানানো হয়। করোনা শনাক্তের পর শুরুর দিকে নারায়ণগঞ্জে মৃত্যু প্রায় নিয়মিত হয়েছিল। করোনার সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যাও ছিল বেশি। তবে পরবর্তিতে নারায়ণগঞ্জে করোনার সংক্রমন ও মৃত্যু উভয়ের সংখ্যাই কমতে থাকে। করোনা শনাক্তের ৭ম মাসে এসে করোনার সংক্রমন শনাক্তের সংখ্যা কমতে থাকা অব্যাহত থকালেও মৃত্যুর সংখ্যা আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ দিনে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের ৪ জনই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসীন্দা। এছাড়া গত তিনদিন ধরে প্রতিদিন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনেই ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ গত ১৪ দিনে নারায়ণগঞ্জে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রূপগঞ্জ উপজেলায় ৬০ বছরের একজন পুরুষ, বন্দর উপজেলায় ৪৩ বছরের একজন পুরষ এবং সদর উপজেলায় ৫৬ বছরের এক নারীর মৃত্যু হয়। পরবর্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারো মৃত্যু ঘটেনি। তবে ৯ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশন এলাকার সিদ্ধিরগঞ্জে ৫০ বছরের এক নারীরর মৃত্যু হয়। পরের দুই দিনে কারো মৃত্যু না ঘটলেও ১২ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের পাঠানটুলি এলাকায় ৪৪ বছরের এক পুরুষের মৃত্যু হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের উত্তর চাষাঢ়া এলাকায় ৬৮ বছরের এক নারীর মৃত্যু হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের খানপুর এলাকায় ৪৯ বছরের এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ এখনো করোনা ঝুঁকিতে উল্লেখ করে জেলা করোনা ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে করোনার সংক্রমণ কমলেও এখনো সবাই ঝুঁকিতে কারণ সবাই মাস্ক পড়ে না। সরকার মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু সবাই মাস্ক পড়ছে না। মাস্ক না পড়লে তো ঝুঁকি থাকবেই। নারায়ণগঞ্জে সংক্রমনের সংখ্যা কমে গেছে। অনেক দিন ধরেই ২০ এর নিচে আছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষ কি আর কোথাও যাচ্ছে না? পার্শবর্তি জেলাতে এখনো কমে নাই। ঢাকায় এখনো কমে নাই। সেসব জায়গায় মানুষ যাতায়াত করছে। অফিস খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা। সব কিছুই খোলা। এখন কেউ যদি মাস্ক না পড়ে সেসব জায়গায় অংশ নেয়, বাজারে যায়, মাস্ক ছাড়া গণপরিবহনে যাতায়াত করে। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন লকডাউন ছিল তখন যার জরুরি প্রয়োজন সে ছাড়া বাইরে কেউ যেতো না। কিন্তু এখন সবাই ঢাকা যাচ্ছে। ব্যবসার জন্য বা চাকরির জন্য যার যে জেলাতে দরকার সেই জেলায় যাচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কেউ মাস্ক পড়ছে না। যে কারণে বরং আগের চাইতে ঝুঁকি আরো বেশি। গণপরিবহনে যখন কেউ উঠবে তাঁকে মাস্ক পড়তে হবে। গণপরিবহন থেকে নেমে বাসায় ফিরে বা যেখানে সুবিধা পাবে সেখানে হাত ধুতে হবে। সরকার তো সব বলে দিচ্ছে যে হাত ধোন, মাস্ক পরুন। তারপরেও যদি আমরা না করি তাহলে তো ঝুঁকির মধ্যে থাকবই।’

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৮টা গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে নতুন করে ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এ পর্যন্ত জেলায় ৪১ হাজার ৩৯৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৪০ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ২৪৯ জন।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও