রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরী

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩০ পিএম, ২ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরী

করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই বলা হচ্ছে। যার জন্য শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আগামী ৪ অক্টোবর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা আলী।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সাংবাদিক ওরিয়েন্টন সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই এবার দুই সপ্তাহ ধরে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এজন্য শিশুদের নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে ভীড় করতে হবে না। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্য বিধি মেনে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভিটামিন ‘এ’ আমাদের শরীরে তৈরি হয় না। যার জন্য আমাদের ভিটামিন এ আছে এসব খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয়। এছাড়াও টিকা নিতে হয়। এ ভিটামিন এ শুধু শিশুকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে দূরে রাখে না বরং শিশুরো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়। একটি ক্যাপসুল ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে রোগ প্রতিরোধ করতে সহযোগিতা করে। ফলে বছরে দুই বার ভিটানামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো প্রয়োজন।’

শেখ মোস্তফা আলী বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু খাবে নীল রঙের আর ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু খাবে লাল রঙের। মানে নীল রঙের ক্যাপসুলে আছে এক লক্ষ্য আই ইউ আর লাল রঙের ক্যাপসুলে দুই লক্ষ্য আই ইউ। কম বয়সে যেন অতিরিক্ত মাত্র না হয় সেজন্য দুই ভাবে ভাগ করা হয়েছে।

টিকাদান কেন্দ্রের বিষয়ে তিনি বলেন,‘করোনা কালীন সময়ে কোন টিকাদান কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি ঠিক ভাবে মানা না হয় সেহেতু আমাদের জানাবেন। আমরা দ্রুত সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন জানান, ‘বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে প্রতি বছরের মতো আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত (দুই সপ্তাহ কর্মদিবস) ইপিআই রুটিন অনুযায়ী খাওয়ানো হবে।

এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪৭টি ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে ৩৪০টি সেশনের মাধ্যমে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২১ হাজার ৭৪৩ শিশুকে নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের মধ্যে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা প্রচার করা হবে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতে শিশুর সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ইপিআই কেন্দ্র সমূহে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ( যেমন মুখে মাস্ক পড়া, সাবান ও পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধুরে ভালো ভাবে বারবার দুই হাত ধৌত করা) শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমন হতে প্রতিরোধ করার স্বার্থে কেন্দ্র সমূহে সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক সর্তকতা (ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিতকরণ) মেনে চলতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, ‘ কোভিড-১৯ এর কারণে একদিনের বদলে আগামী ৪ অক্টোবার থেকে ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার ছাড়া) ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৭ হাজার ৩৯৩ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৮০ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।’


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও