আবারও করোনা মৃত্যুর সংখ্যায় ফিরলো, আক্রান্ত বাড়ছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

আবারও করোনা মৃত্যুর সংখ্যায় ফিরলো, আক্রান্ত বাড়ছে

নতুন করে আবারও প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। বেশ কিছুদিন মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য থাকলেও সেটাও গত কয়েকদিন ধরে এক দুই করে বাড়তে শুরু করেছে। ফলে বুঝা যাচ্ছে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা করোনার দ্বিতীয় আক্রামণ শুরু হয়ে যাচ্ছে। তবে এবার করোনার আক্রমণ ভয়াবহ হতে পারে এমনটাই দাবি করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতো উদ্যোগ যাদের জন্য সেই সাধারণ মানুষের মধ্যেই নেই সতর্কতা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নূন্যতম পদক্ষেপও।

৯ নভেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের বাবুরাইল জল্লারপাড় এলাকার মজিবর রহমান (৮২) করোনা আক্রান্ত হয়ে খানপুরের কোভিড ডেডিকেটেট হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরে টিম খোরশেদ দুপুর ১২টায় তার মৃতদেহ মাসদাইর কবরস্থানে গোসল ও প্রথম জানাযা শেষে তার গ্রামের বাড়ী মুন্সিগঞ্জের আড়িয়ল মাদ্রাসায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করে।

সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘বিগত টানা ২৫দিন করোনায় কোন ব্যক্তি মারা যায়নি। কিন্তু ৬ নভেম্বর থেকে আবারও এক দুই করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ওইদিন সোনারগাঁও থানার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের ডেউটিন ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লা (৫৮) করোনা আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার পরিবারের আহবানে টিম খোরশেদ রাত ২টায় তার মরদেহ মাসদাইর কবরস্থানে গোসল ও জানাযা শেষে গ্রামের বাড়ী পিরোজপুরে ২য় জানাযা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে কারণ আক্রান্ত বাড়ছে। গত কয়েকদিন আমাদের টিমের সদস্যরা ৫ থেকে ৬জনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করিয়েছে। যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখনই মানুষকে সচেতন হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শীত শুরু না হতেই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে যখন প্রচন্ড শীত শুরু হবে তখন লকডাউনও দিতে হতে পারে। তাই আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় ২৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনায় সংক্রমিত ১৮ জন শনাক্ত হয়েছে। কারো মৃত্যু ঘটেনি। সুস্থ হয়েছেন ৯ জন। এ নিয়ে জেলায় ৫১ হাজার ৮৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৭ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৯২৩ জন।

রোববার ৮ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণ শনাক্ত ছিল ৭ হাজার ২৫৬ জন।

ডাক্তারদের সূত্রে জানা গেছে, ‘শীতে করোনার আক্রামণ বাড়তে পারে। কারণ শীতে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কমে যায়। ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য দেশগুলোতে যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে ঠান্ডা বা যেখানে তাপমাত্র অনেক কম সেখানে করোনার প্রভাব বেশি ছিল। এসব কিছু বিবেচনা করেই সবাই করোনার সংক্রামণ বাড়ার আশঙ্কা করছে। তবে আমরা যদি সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি অবশ্যই আমরা করোনার সেকেন্ড ওয়েভ থেকে রক্ষা পেতে পারবো।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ইতোমধ্যে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ থেকের নগরবাসীকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করা। কেনাকাটা থেকে শুরু করে চলার পথে সর্বত্র মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।’


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও