খানপুরে করোনা হাসপাতালে আইসিউতে ১২২ জন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪০ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার

খানপুরে করোনা হাসপাতালে আইসিউতে ১২২ জন

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা হাসপাতালে স্থাপিত আইসিইউতে ১২২ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এরমধ্যে ভাল হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৫৭ জন। মারা গেছে ৪৮ জন। ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে ১৭ জন।

গত ২ জুলাই কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে (কোভিড ডেডিকেটেট হাসপাতাল) আইসিইউ চালু করা হয়।

৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে করোনা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল ৪০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট তৈরির কাজ শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল সীমিত পরিসরে চালু করা হয় হাসপাতালটির ফ্লু-কর্নার। আর ১৩ এপ্রিল থেকে হাসপাতালটিতে শুরু হয় কোভিড-১৯ চিকিৎসা কার্যক্রম।

এখন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে শুধু করোনা রোগীর চিকিৎসাই দেয়া হয়। জরুরী বিভাগে রোগী আসে। সেখান থেকে আলামত অনুসারে রোগী ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক হলে আইসিইউ’তে দেয়া হয়। তাছাড়া কোন করোনা রোগীর এক্সরে দরকার হলে এক্সরে বিভাগের রেডিওলজিস্ট এক্সরে করে। রক্ত পরীক্ষার দরকার হলে প্যাথলজিতে পরীক্ষা করা হয়। সব বিভাগের চিকিৎসকরাই এখন শুধুমাত্র করোনা রোগীর চিকিৎসা করেন।

৪ জানুয়ারী পর্যন্ত হাসপাতাল সূত্রে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনার শুরু থেকে এ যাবত খানপুর ৩০০ শয্যা করোনা হাসপাতালে আইসিইউতে মোট রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ১২২ জন। এরমধ্যে ভাল হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৫৭ জন। মারা গেছে ৪৮ জন। ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে ১৭ জন। এ যাবত করোনা রোগী টেস্ট করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩০ জন। ঢাকা থেকে কিট পাওয়া গিয়েছিল ৩০ হাজার ৫২৮ টি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, খানপুর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ করোনা টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে ৬০/৮০ টি টেস্ট , বিদেশগামী ৫০ জন ও অন্যান্য ২০ জন।

সূত্রমতে, খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে সাধারন রোগীদের কাছ থেকে করোনা টেস্টের জন্য নেয়া হয় ১০০ টাকা। বিদেশগামীদের কাছ থেকে দু’ধরনের ফি নেয়া হয়। তাছাড়া বিদেশগামীদের আলামত সংগ্রহ করা হয় কালীবাজার সিজেএ ভবনে। যাদের শ্রমকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্ড আছে তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। যাদের মন্ত্রণালয়ের কার্ড নেই তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা। খানপুর হাসপাতাল থেকে বিদেশগামীরা টেস্ট করালে তা চলবে না। বিদেশগামীদের টেস্ট করাতে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমেই। করোনাকালীন সময়ে ৩০০ শয্যায় ডিউটি করেছেন ৮৬ জন ডাক্তার। ২১৬ জন নার্স ও ১৯২ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য। ডাক্তারসহ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ১০২। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা করোনাকালীন সময়ে মানুষকে সেবা দিয়ে গেছে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও