করোনা রোগীরাও ঘুরছে বাইরে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২১ বুধবার

করোনা রোগীরাও ঘুরছে বাইরে

টানা ১৪ দিনের লকডাউনে নারায়ণগঞ্জে সফলতা বয়ে এনেছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রামণ কমে এসেছে। তবে সচেতন না হলে সেটা আবারও বাড়বে বলছেন জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রামন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অসচেতন বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। ফলে তাদের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

২৬ এপ্রিল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলা ১ লাখ ৮৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১২ হাজার ৬৯০ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে মারা গেছেন ২১০ জন আর সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৯৪ জন। তবে এখনও আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৫৭ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ১ জন আর সুস্থ হয়েছেন ১৯৬ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর বলেন, ‘ভারতের যে হারে মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে সেটা দেখে কান্না আসে। কিন্তু সেটা দেখেও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যেহারে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাতে এখন নিজেদেরই ভয় হয়।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার পরিচিত এক ব্যক্তি আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তার ভবনের ৫ তলার এক বাসিন্দা যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। সেই চাকরিজীবী নারী চাদর গায়ে গরমের মধ্যে বাইরে বের হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসা করেন চাদর গায়ে কেন বের হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে নারী বলেন, ‘ব্যাংকে জরুরী কাজ ছিল আর করোনা সংক্রামণ ভয়ে চাদর গায়ে বের হয়েছেন। কিন্তু বিকেলে বাসার অন্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন ওই নারী করোনা পজেটিভ। এখন আমাকে বলেন তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। এটা শুনেই আমি চমকে উঠি। একজন সচেতন মানুষ কিভাবে অসচেতন হয়ে ঘুরে বেড়ান। পরে খোঁজ নিয়ে আমি বলতে গিয়েও বিব্রত কর পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘করোনার শুরুতে যেভাবে পজেটিভ ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে সচেতন করা হয়েছে কিংবা ভবনে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনটা আবারও করা উচিত। অন্যথায় এরকম অসচেতন ব্যক্তিরা কখনো সচেতন হবে না।’

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৬১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জন। তাদের প্রত্যেককেই ওভার ফোনে টেলিমেডিসিন সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় সংক্রামন অনেকটা কমে এসেছে। সেই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যাও কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘যাদের নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ শনাক্ত হয় তাদেরকে আমরা ওভার ফোনে নিশ্চিত করি। তাদের ডাক্তারী পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি। তবে এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করা হয় না। এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলেন,‘আমাদের ভবনের একটি পরিবারের পুরুষ সদস্য আক্রান্ত। কিন্তু ওই পরিবারের বাকি সদস্যরা ঠিকই বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাসার সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবে সেটা তারা পালন করছে না।’

টানবাজার এলাকার বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, ‘ঠান্ডা, জ্বর, কাশি নিয়ে এক ব্যবসায়ী দোকানে আসছে। কিন্তু তারা সবার সঙ্গে ঘুরে বাসায় গিয়েছে। পরে মোবাইলে ম্যাসেজ এসেছে তিনি সুস্থ আছেন কিন্তু তার ছেলে করোনা পজেটিভ। এর পরও তিনি বাজারে যাচ্ছেন, বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কে কি বলতে যাবে?

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ এখন ভালো দিকে রয়েছে। করোনা সংক্রামন কমে এসেছে। মূলত লকডাউনটা সুফল বয়ে এনেছে। যেহেতু আবারও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেহেতু এটা উপকারী হবে। তবে যেহেতু জীবিকার জন্য বের হতে হয় সেহেতু সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই।’

করোনা পজেটিভ ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকেই অভিযোগ করেছেন? প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘যারা বের হচ্ছেন তারা অসচেতন। নিজ থেকে সচেতন না হলে সংক্রামন আরো বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আগে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করার যে পক্রিয়াটা ছিল সেটা এখন বন্ধ আছে। কিন্তু এটা করতে পারলে আরো উপকৃত হবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আমাদের বলা হয়েছিল যে, সামাজিক ভাবে তাদের অবস্থানটা যেন আক্রান্ত ব্যক্তিরা মানুষের কাছে ছোট না হয়। তখন কিছু সমস্যা দেখা দিলে এটা না করতে বলা হয়। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যদি আমাদের বলা হয় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে কোরাইন্টাইন নিশ্চিত করতে তাহলে আমরা করবো।’

তিনি বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই। তারপরও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করার সেটা আমরা করছি না। স্বাস্থ্য বিভাগ যদি আমাদের নির্দেশ দেয় এটা করার জন্য তখন আমরা সহযোগিতা করবো।’

আপনারা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোন উদ্যোগ নিবেন কিনা? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা করোনা বিষয়ক কমিটির প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো। যদি কোন নির্দেশনা থাকে তাহলে আমরা সেটা পালন করবো।’

বি : দ্র : এ প্রতিবেদনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা এজন্য প্রকাশ করা হয়নি যাতে তারা সামাজিক ভাবে কোন ধরনের অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন না হন। যা কিনা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও