রোগীর চেয়ারের পাশেই বর্জ্য

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১০ পিএম, ৫ জুলাই ২০২১ সোমবার

রোগীর চেয়ারের পাশেই বর্জ্য

কি হচ্ছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রোগ সারাতে এসে উল্টো ভয়ানক জীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের রোগীরা। পাঁচতলার ফ্লোরটিতে মূলত: আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই,সিটি স্কেন বিভাগ। অসুস্থ্য রোগীরা ওয়েটিং চেয়ারে বসে থাকেন। কখন সিরিয়াল ধরে ডাকা হবে। রোগীরা ঘুণাক্ষরেও টের পান না যে, তাদের পাশেই জীবাণুর আধার। একটি বড় পলিথিনের বস্তা ভরা মেডিক্যাল বর্জ্য রেখে দেয়া হয়। এর সাথেই একটি মুখ খোলা প্লাস্টিকের ড্রাম। সেই ড্রামেও মেডিক্যাল বর্জ্য রাখা হয়। কয়েকজন স্বাস্থ্য সচেতন রোগী অভিযোগ করে বলেন, একটি ভাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কেনো রোগীদের বসার স্থানের পাশেই মেডিক্যাল বর্জ্য রাখা হয় ? এখান থেকেও মারাত্মক রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে। সেই জীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন টেস্ট করাতে আসা রোগী ও তার সাথে আসা লোকজন। রোগ সারাতে টেস্ট করাতে এসে উল্টো ভয়ঙ্কর জীবাণু বাড়ি বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রোগীরা।

একাধিক সূত্রে জানাগেছে, শহরের অধিকাংশ ডাক্তার ভাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে পপুলারে যেতে পরামর্শ দেন। একজন রোগীর পক্ষে ডাক্তারের পরামর্শ এড়িয়ে যাওয়া মুশকিল। অন্য প্যাথলজী থেকে টেস্ট করালে ডাক্তাররা সন্তুষ্ট হন না। অনেক সময় রেগে যান। তখন রোগীকে বাধ্য হয়ে ফের টেস্ট করাতে হয়। এ জন্য চাষাড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সব সময় রোগীদের ভিড় থাকে। প্রতিটি ফ্লোরেই রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু পপুলার কর্তৃপক্ষ কি মনে করে মেডিক্যাল বর্জ্য রোগীদের বসার স্থানের পাশেই রাখার ব্যবস্থা করেছেন তা কারো বোধগম্য নয়। সচেতন রোগীদের মারাত্মক অভিযোগ এই মেডিক্যাল বর্জ্য নিয়ে। অনেকে নাকি বিষয়টি কাউন্টারে জানিয়েছেন কিন্তু ফল হয়নি।

সূত্রমতে, আভিধানিক অর্থে চিকিৎসা বর্জ্য বলতে যে কোনো কঠিন বা তরল বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়, যা মানুষ অথবা পশুর রোগ নির্ণয়, কিংবা টিকা প্রদানের সময়ে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থান হতে সংগৃহীত হয়। স্বাস্থ্য খাত কলেবরে বেড়েছে, ডিসপোজিবল বা একবার ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এই বর্জ্যের বেশির ভাগই কমবেশি সংক্রামক, এগুলোর মাধ্যমে রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। মেডিকেল বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশনের মানদ-ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পিছিয়ে আছে। পপুলার কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বর্জ্য যেমন, রক্ত-পুঁজ মিশ্রিত তুলা ও গজ ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুচ, রক্তের ব্যাগ, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লভস মুখ খোলা ড্রামে রাখছে।

গবেষণা থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর চিকিৎসা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ৫২ লাখ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, তাদের মধ্যে ৪০ লাখই শিশু। এ বিষয়ে বাংলাদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে এই বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি, নানা ধরনের চর্মরোগ, ও শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহসহ অনেক রোগ ছড়াতে পারে চিকিৎসা বর্জ্যের অনিরাপদ নিষ্কাশনের জন্য। আর হাসপাতালে ভর্তি অনেক সাধারণ রোগীও এসব রোগে আক্রান্ত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, হাসপাতাল ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও হাসপাতালে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনা থাকা অপরিহার্য। কঠিন বর্জ্য ধ্বংসের জন্য পৃথিবীর বেশির ভাগ হাসপাতালেই মেডিকেল ইনসিনেরেটর এবং অটোক্লেভ বা দাহন যন্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা আছে। আর তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এভাবে মারাত্মক বর্জ্যকে দূষণমুক্ত করে সাধারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্যান্য তরল বর্জ্যের সঙ্গে নিষ্কাশন করা হয়।

কোভিড ছড়িয়ে পড়ার পর এটা আরও বেড়ে থাকতে পারে। মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেট লিখেছে, শুধু ঢাকা শহরেই কোভিডের কারণে ২০৬ টন চিকিৎসা বর্জ্য তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশনের অভাবে কতজন মানুষ কোভিড-১৯সহ নানা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বটে, তবে সংখ্যাটা যে অনেক, তা অনুমান করা যায়।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও