নারায়ণগঞ্জে কোন ভেরিয়েন্ট?

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১২ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১ শনিবার

নারায়ণগঞ্জে কোন ভেরিয়েন্ট?

যত দিন যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে করোনা রোগী। দৈনিক শনাক্ত হচ্ছে ২০০ এর বেশি রোগী। এর মধ্যে থেকে গুরুতর ৪০/৫০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। অবস্থা গুরুতর দেখে ২০ জনের মত ভর্তি নিয়ে বাদ বাকিদের পাঠানো হয় আইশোলেশনে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় বর্তমানে কোভিড এর কোন ভেরিয়েন্ট চলছে-সেটা পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে সংক্রমণের বর্ধিত হার দেখে খানপুর কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডাঃ মোঃ আবুল বাসার এই ভেরিয়েন্টকে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বলে ধারণা করছেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে কোন ভেরিয়েন্ট চলছে তা টেস্ট করার সুযোগ নেই। ধারণা করা হচ্ছে ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট। দেখেন ছোট্ট একটা শহর। ৮৫ লাখ লোকের বসবাস। লকডাউন সেভাবে মানা হচ্ছে না। ফলে সমস্যা বাড়ছে। শহরের মেইন সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট আছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক থাকায় মানুষের চলাচল শিথিল। কিন্তু হাট-বাজার, অলিগলির দিকে তাকালে লকডাউন মনে হবে না। এই যে আম-জনতা লকডাউন মানছেনা, এর একটা প্রভাবতো পড়ছেই। আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে। এটা উদ্বেগজনক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ২৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনার জন্য ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৮৪ জন রোগী। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ১৯৩৬ জন। সন্দেহজনক ছিলেন ২৬৩ জন রোগী ও করোনা নেগেটিভ ১৮৫ জন। ডিসচার্জ হয়েছেন মোট ২২৮২ জন। মোট নিরাময় হয়েছে ১৭১৭ জন। মারা গেছে মোট ২২৪ জন রোগী। বাকি রোগী ছিল ১০২ জন। এরমধ্যে ৬৩ জন করোনা পজিটিভ , নেগেটিভ ১জন, সন্দেহজনক ৩৮ জন। মোট আইসিইউ রোগী ৩২২ জন। এরমধ্যে মৃত্যু ১৫৬ জন। ১১৭ জন সুস্থ। রেফার্ড ৩৯ জন। করোনার মোট ট্রায়াজ ৬৫৪২ জন। এরমধ্যে ২৪৮৪ জন ভর্তি এবং বর্হি:বিভাগে সেবা গ্রহণ ৪১৫৮ জন। মোট পিসিআর টেস্ট ৭৬৪৫৭ টি। এরমধ্যে ১০০১৬ জন পজিটিভ। ৯৯২৩ নতুন কেস। ৮৪ জন ফলোআপ কেস। এন্টিজেন রেপিড টেস্ট ১৪৭৭ জন। এরমধ্যে পজিটিভ ২৫১ জন এবং নেগেটিভ ১২২৬ জন।

করোনা সংক্রমণ হার ঊর্ধ্বমুখী। আক্রান্তের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। মাস্ক ছাড়াই বাজার, গণপরিবহনে চলাফেরা করছে মানুষ। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। দেশে সংক্রমণ শুরু হওয়ার এক বছর পর সংক্রমণ পরিস্থিতির নতুন মাত্রায় উদ্বেগ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে। একজন সচেতন নাগরিকের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন। শুধু নির্দেশনা দিলে হবে না, সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এ জন্য মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বাইরে বের হলে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সুস্থ থাকতে চাইলে এগুলো অবশ্যই মানতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন বয়স্করা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অন্যান্য রোগ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৬ জনের মধ্যে ১৩ জনই ষাটোর্ধ্ব। গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয় বলে জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রথম তিন রোগী শনাক্তের ঠিক ১০ দিন পর গত বছর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যুর কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। বিদেশফেরত স্বজনের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া ব্যক্তিটি ছিলেন পুরুষ এবং তার বয়স ছিল ৭০ বছরের বেশি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বলছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ৯২ শতাংশই মারা গেছেন আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ১৪ দিনের মধ্যে। আর ২৮ দিনের মধ্যে মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৭৬ শতাংশ ও নারী ২৪ শতাংশ। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) ‘কভিড-১৯ রোগীদের পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিসমূহ নিরূপণ’ শিরোনামে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের সংক্রমিত হয়ে প্রথম ১৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুহার ২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ১৫ দিন থেকে ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশের এক বা একাধিক অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও