নারায়ণগঞ্জে মহাবিপদ সংকেত, করোনা হাসপাতালের সব শয্যা পূর্ণ

সাবিত আল হাসান,স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:০৬ এএম, ২ আগস্ট ২০২১ সোমবার

নারায়ণগঞ্জে মহাবিপদ সংকেত, করোনা হাসপাতালের সব শয্যা পূর্ণ

নারায়ণগঞ্জে করোনা ডেডিকেটেট হাসপাতাল খানপুরে রোগীদের শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী স্থানান্তর শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সোনারগাঁ ব্যাতিত প্রতিটি উপজেলায় করোনা রোগীদের জন্য ২০ শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্স সমূহ রোগী পূর্ণ হলে নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান সড়কে জুডিশিয়াল ভবনে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের চিন্তা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

শনিবার (৩১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ ও রোগী বেড়ে যাওয়ায় খানপুর হাসপাতালের শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে থাকা ১১০টি বেডের কোনটিই খালি নেই। এই মুহূর্তে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করছি রোগীদের। সেখানে অক্সিজেন সেবা সহ যাবতীয় করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ২০ শয্যার জন্য যে কয়টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন তা রয়েছে। তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে সেগুলো রিফিল করার কাজ অব্যহত রয়েছে। শুধু মাত্র সোনারগাঁ উপজেলা ব্যতিত বাকি সকল স্থানেই ২০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের কাজ চলমান থাকায় সেখানে এর সংখ্যা কম।

জেলার পাশাপাশি উপজেলাগুলোতে করোনা চিকিৎসা পরিস্থিতি জানতে খবর নেয়া সহ সবকটি উপজেলায়। অধিকাংশ উপজেলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ প্রাথমিক উপকরণ রয়েছে বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। তবে গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীদের এসব হাসপাতালে রাখা সম্ভব নয় তাও নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। সেক্ষেত্রে রোগীদের অন্যত্র রেফার্ড করা ছাড়া উপায় থাকেনা চিকিৎসকদের। ফলে রোগীর তুলনায় বেড বেশী থাকলেও রোগীরা ছুটছেন উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় এমন হাসপাতালে।

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। ২০ শয্যার এই চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ইন্সট্রুমেন্ট না থাকলেও মোটামুটি সরঞ্জামাদি আছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ সায়মা আফরোজ।

সোনারগাঁ উপজেলায় করোনা রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হলেও বর্তমানে সেখানে কোন রোগী ভর্তি নেই। তবে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইতিপূর্বে রোগী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ পলাশ কুমার সাহা। তিনি বলেন, রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য আমাদের অক্সিজেন সহ যাবতীয় যা যা প্রয়োজন তা প্রস্তুত আছে। রোগী পেলেই আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারবো।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যার ভেতর ১৩ জন করোনা রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। প্রতিনিয়তই রোগী এই কেন্দ্র থেকে রেফার করা হচ্ছে অন্যত্র। তবে পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট আছে বলে দাবী করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মশিউর রহমান সরকার।

বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ শহরের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। এই কেন্দ্রে ২০ শয্যার ভেতর ৪ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে এই ৪ জনের ভেতর ৩ জনই হাসপাতালের স্টাফ বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. রেজওয়ানা শারমীন। তাদের এই কেন্দ্রে অক্সিজেন সহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট আছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জে ৩১ জুলাই শনিবার ২৪ ঘণ্টায় ২২১ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৫ বছরের নারী ও ৭৩ বছরের পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৭৪০ জনের। শনাক্তের হার ২৯.৮৬ শতাংশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য মতে, এ পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫৯০ জন। এ নিয়ে জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৫৯ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ৩১০ জন। বর্তমানে শনাক্ত করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৩০২১ জন।

শুক্রবার ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৩৬৯ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০৯ জন, সদর উপজেলায় ৬৫ জন, রূপগঞ্জ উপজেলায় ১৪ জন, সোনারগাঁ উপজেলায় ৮ জন, বন্দর উপজেলায় ২৩ জন, আড়াইহাজার উপজেলায় ২ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও