নারায়ণগঞ্জে পৌনে ৫ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪০ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২১ শনিবার

নারায়ণগঞ্জে পৌনে ৫ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছে

করোনা সুরক্ষায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ শহরের দুটি টিকাদান কেন্দ্রে ভীড় বেড়েই চলেছে। গণটিকাদান কার্যক্রমে যা ছিল তুলনামূলক বেশি। টিকা নিলে সুস্থ ও করোনা মুক্ত থাকায় যায় বিশ্বাসে প্রতিদিনই টিকা নিতে আসছে সাধারণ নগরবাসী। এ হিসেবে এখনও পর্যন্ত জেলায় ৭টি টিকাদান কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন পৌনে ৫ লাখ মানুষ। যা জেলায় বসবাসকারীদের শতকরা ১০ ভাগ। পর্যায় ক্রমে ১০০ ভাগ টিকা দেওয়া হবে বলে জানান করোনা মোকাবেলায় গঠিত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সরেজমিনে শহরের খানপুর এলাকায় কোভিড ডেডিকেটেট হাসপাতালের (৩০০ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত) টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ‘শত শত মানুষের লম্বা লাইন টিকা নেওয়ার জন্য। কেউ এসেছেন প্রথম ডোজ নিতে আবার কেউ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য। টিকা নেওয়ার জন্য সবার মধ্যেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ উদ্বীপনা। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েও খুশি নগরবাসী।

তবে এসব টিকাদান কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায় না। গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বলাই নেই। অনেকের মাস্ক আছে তো আবার অনেকের মাস্ক নেই। যাদের আছে তারাও মাস্ক খুলে হাতে কিংবা থুতনিতে রেখেছে। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে কখন টিকা নিবেন সবাই যেন সেই প্রতিযোগিতায় ব্যবস্থ।

টিকাদান স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, ‘টিকা নিতে যারা আসছেন তারা নিজেরাই স্বাস্থ্যবিধি মানে না। বার বার বলার পরও কথা শুনে না। পর্যাপ্ত টিকা আছে তাতেও তাদের মধ্যে দ্রুত টিকা নেওয়ার অহেতুক প্রতিযোগিতা করে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধীরে ধীরে আসলে সুন্দর ভাবে টিকা দেওয়া যায়। কিন্তু তারা সেটা মানে না। এতে টিকা দিতে আমাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

একই চিত্র দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রেও। তবে একাধিক বুথ হওয়ায় ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তুলনায় এখানে ভীড় অনেকটাই কম।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘টিকা নিতে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। যার জন্য ভীড় হচ্ছে। তবে যাদের ম্যাসেজ গিয়েছে তারাই টিকা নিতে পারছে। আর যাদের ম্যাসেজ দেওয়া হচ্ছে তাদের সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। টিকাও পর্যাপ্ত আছে। তারপরও যদি নিজে থেকে সচেতন না হয় তাহলে কিভাবে সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাইছি সবাইকে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে। কারণ টিকা গ্রহণ করলে করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’

ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলায় এখনও পর্যন্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। এ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বসবাসকারী শতকরা ১০ ভাগ মানুষ করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছে। যার ফলে এখনও ৯০ ভাগ মানুষ টিকা নেওয়ার বাকি। তাই অবশ্যই সবাইকে করোনা সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর বিকল্প নেই।’


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও