স্বাস্থ্য সেবায় নীরব পরিবর্তন

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৮ পিএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার

স্বাস্থ্য সেবায় নীরব পরিবর্তন

খুব বেশীদিন আগের কথা নয়, কাঁটা ছেড়ার মত রোগীকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিলে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হতো ঢাকায়। ঢাকায় নেয়ার খরচ বেশী মনে হলে দালাল মারফত পাঠিয়ে দেয়া হতো শহরেরই কোন একটি ক্লিনিকে। সেই ক্লিনিকেও নেই স্থায়ী কোন ডাক্তার। কেবলমাত্র অপারেশনের জন্য ঘন্টা দুয়েক থেকে চলে যান অন্যত্র। সরকারি হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালে করানো ছিলো অসাধ্য একটি ব্যাপার। যত মা আসেন সকলেই যেন ক্রিটিকাল এবং তাদের সিজার ছাড়া ডেলিভারি সম্ভব নয়।

এমন অসংখ্য অনিয়ম চলছিলো বছরের পর বছর। কিন্তু দৃশ্যপট পাল্টে যেতে লাগলো ২০১৯ এর শেষ দিক থেকে। একের পর এক ক্লিনিক, প্যাথোলজিতে অভিযান। বেশ কিছু ক্লিনিককে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো সিভিল সার্জন অফিসের তরফ থেকে। সেবার নামে অনিয়ম চলায় কঠোর হাতে তা দমনের চেষ্টা চলে। কিছুদিন পর সেসব ক্লিনিক চালু হলেও অনিয়ম অব্যহত রাখার সাহস পাননা তারা।

করোনা সংক্রমণ শুরু হতেই নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এরপর সরকারি সেবা নেয়ার জন্য একমাত্র কেন্দ্র হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু সেখানকার দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা এবং দালাল চক্রের কারনে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছিলেন না রোগীরা। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর হন স্বাস্থ্য বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

হাসপাতালে ২টার পর হাসপাতালে ডাক্তারের উপস্থিতি, অফিস টাইমে সরকারি ডাক্তারকে বেসরকারি চেম্বারে না পাওয়া, রোগী ভর্তি হলে তাকে অন্যত্র ফেরত না পাঠানো, রাতে অপারেশন চালু করার মত বেশ কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করে দেখিয়েছেন তারা। আর এজন্য কঠোর ভুমিকাও পালন করতে হয়েছে সেবা প্রদানে নিয়োজিত থাকা ওই কর্মকর্তাদের। একের পর এক চাপের কারনে ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালে থাকা দালাল সিন্ডিকেট। এর অস্তিত্ব এখনও থাকলেও আগের মত শক্তিশালী নেই বলে জানায় বেশ কয়েকটি সূত্র।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জে এখন ৯০ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে নিজস্ব ডাক্তার রয়েছে। যারা সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আগে কেবল ডাক্তার এসে অপারেশন করে চলে যেতেন। এখন সেই অবস্থা নেই। তবে গুটি কয়েক ক্লিনিকে থাকতে পারে। কিন্তু এর সংখ্যা আগের তুলনায় কম।

এছাড়া ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ভেতর বেশ কিছু দালাল ছিলো। তারা রোগীকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করতো এবং সরকারি হাসপাতালে অপারেশনে নিরুৎসাহিত করতো। তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি এবং এদের দ্বারাই রোগীদের সরকারি সেবা দিতে বাধ্য করেছি। আমাদের সেই চেষ্টা এখনও অব্যহত রয়েছে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রসেস। এই চেষ্টা ধরে রাখা গেলে আগামীতে নারায়ণগঞ্জের মানুষ খুব সহজেই সরকারি স্বাস্থ্য সেবা পাবেন কোন হয়রানি ছাড়াই।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও