ঠান্ডা জ্বর বাড়ছে আতঙ্ক

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৬ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার

ঠান্ডা জ্বর বাড়ছে আতঙ্ক

ঘরে ঘরে জ্বর,বাড়ছে আতঙ্ক। আলহাম মোহম্মদ (ছদ্মনাম), বয়স ৫ বছর। সর্দি-কাশি জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। গত ক’দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ডাক্তারের পরামর্শে করোনা টেস্ট করানো হয়েচে। তবে টেস্টে করোনা শনাক্ত হয়নি। ডেঙ্গুও নেগেটিভ। এ অবস্থায় কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না তার পিতা সদর উপজেলার দেওভোগ পালপাড়া এলাকার জামিল হোসেন। জ্বর না কমায় বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করানো হয়েছে। বর্তমানে ডাক্তার বলছেন, টাইফয়েডের লক্ষণ। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এরই মধ্যে চলে গেছে বড় অঙ্কের অর্থ। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু কম হলেও বেড়েছে জ্বরের প্রকোপ। এখন মহানগরী ও শহরতলীতে বলা চলে এক প্রকার ঘরে ঘরে জ্বর। বেশির ভাগ বাড়িতে একাধিক ব্যক্তি জ্বরে আক্রান্ত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়। ঠান্ডা-জ্বর একটু হবেই। চিন্তার কোন কারণ নেই। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে ঘরের ভেতরেই মাস্ক পরে থাকাটা সবচেয়ে নিরাপদ। কেননা, এটা ছোঁয়াচে রোগ। ঘরে একজনের হলে সবাই আক্রান্ত হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। জ্বর বেশিদিন হলে করোনা টেস্ট করিয়ে নেয়াটা উত্তম। নইলে সন্দেহ থেকে যাবে।

জানাগেছে, অধিকাংশ বাড়িতে জ্বর থাকলেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে তথ্য মিলেছে। এ কারণে হাসপাতালে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধসহ অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, গত ছয়দিনে মেডিসিন বিভাগ ও জরুরী বিভাগ থেকে কমপক্ষে ৬‘শ ৩০ জন ঠান্ডা-জ্বরের রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর ৯৭ জন, ১৯ সেপ্টেম্বর ১১৪ জন, ১৮ সেপ্টেম্বর ৯৫ জন, ১৬ সেপ্টেম্বর ১০২ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ১০৬ জন ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১১৬ জন রয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ছয়দিনে ভর্তি হয়েছিল অন্তত ১৪ জন। এরমধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর চারজন, ১৯ সেপ্টেম্বর তিনজন, ১৮ সেপ্টেম্বর দুইজন, ১৬ সেপ্টেম্বর দুইজন, ১৫ সেপ্টেম্বর তিন জন, ১৪ সেপ্টেম্বর একজন ও ১৩ সেপ্টেম্বর একজন রোগী ভর্তি হয়। তবে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। রোগীরা ভর্তি হয়ে বিভিন্ন টেস্টের ভয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। অধিকাংশ রোগীই করোনা টেস্ট করতে ভয় পান।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বরের মতো মৌসুমি রোগ। ঘরে-বাইরে অনেকেই খুকখুক করে কাশছে। কেউবা নাক টানছে। দিনে গরম ও রাতে ঠা-ার কারণে এমন অবস্থা হচ্ছে। এ জ্বর চার থেকে ১০ দিন পর্যন্ত থাকছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। এই সময়ে প্রতিবছর মানুষের মধ্যে জ্বর দেখা যায়।’ জ্বর আসা মাত্রই হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখানোর পরমর্শ দেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ইএমও ডাঃ নাজমুল আলম বিপুল বলেন, এটা সিজনাল ফ্লু। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাসায় মাস্ক পরাটা সবচেয়ে উত্তম। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগেও ঠান্ডা জ্বরের রোগী আসছে। ঠান্ডা জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। কেননা ঠান্ডা জ্বরের মধ্যেই করোনার ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন ধরে জ্বর-কাশি, হাঁচি-সর্দির উপসর্গগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, জ্বর কিংবা ঠা-া মানেই করোনা না। তবে এই সময়ে গলাব্যথা, খুসখুস ভাব, নাক বন্ধ বা অনবরত হাঁচি, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, ‘বর্তমানে বহির্বিভাগের বেশির ভাগ রোগী জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসছে। হাঁচি-কাশির সাথে শরীরে তীব্র ব্যথাও হচ্ছে। এক্ষেত্রে যথাযথ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা নিতে হবে। একইসাথে পর্যাপ্ত পানি পান, ফলমূল, শাক-সবজি খেতে হবে। নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। এতে সমস্যা বাড়তে পারে। ঘরের ভেতর মাস্ক পরাটা জরুরী। জ্বর বেশি দিন থাকলে করোনা টেস্ট করিয়ে নেয়াটা রোগীর জন্যই ভাল।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও