ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে চাইলে এসপিকে ব্যবস্থা নিতে হবে : মাসুম

হাফসা আক্তার, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৪৭ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার

ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে চাইলে এসপিকে ব্যবস্থা নিতে হবে : মাসুম

গণধর্ষণ ও হত্যার পর শীতলক্ষায় ভাসিয়ে দেয়া কিশোরীকে ৫১ দিন পর নাটকীয়ভাবে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা কারো অজানা না। ১৫ বছরের এ কিশোরী জিসা মনি আক্তারকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে তার বন্ধু আব্দুল্লাহ, রাকিব ও মাঝি খলিল কারাভোগ করছেন। এদিকে ফিরে আসার পর জিসা মনি নিজেই বলে যে, তার নিখোঁজ হওয়ার পিছনে উক্ত তিনজন কোনোভাবেই দায়ী ছিল না।

ফলে এ প্রশ্ন উঠে আসে যে আব্দুল্লাহ, রাকিব ও মাঝি খলিল কেন গণধর্ষণ ও হত্যার পর শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেছে? তাদের পরিবার গণমাধ্যমে দাবি করছেন যে উক্ত তিন অভিযুক্তকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন সর্ষের ভেতরে ভূত থাকতে পারে। এটাকে আগে সরাতে হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন সচেতন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিবেদক যাঁরা জিসা মনি ইস্যুতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকি মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম ও আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন আহমেদ।মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘জিসা মনির ঘটনাটাই রহস্যময় এবং বিস্ময়কর। যারা জবানবন্দি দিয়েছে তারাই বা কিভাবে জবানবন্দি দিল, মূল রহস্যটা এখানে। আর জিসা মনি এই ৫১ দিন কার কাছে ছিল এবং কিভাবে ছিল তা আমি একেবারেই রহস্যময় বিষয় মনে করি। পুলিশের মধ্যে স্বল্প কিছু অসৎ ব্যক্তি রয়েছে, যাদের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। ফলে যারা তদন্তে এক্সপার্ট তাদেরকেই মামলা পরিচালনা করতে দিতে হবে। সকলকেই তদন্ত করতে দিতে হবে, তা নয়। বর্তমানে পুলিশ সুপার যদি ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে চায়, তবে তাৎক্ষনিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রথমেই পুলিশের এ কাজে নিন্দা জানাই। আজকে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়াই প্রমাণ করে যে, পুলিশ ওই নিরীহ মানুষগুলোকে ফাঁসিয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে লাভ ভোগ করতে চেয়েছে। আমরা মনে করি মূল ঘটনায় ওসিসহ আরও অনেকেই সম্পৃক্ত। এস আই শামীম ও ওসি কৃতিত্ব নেয়ার জন্য ৩ দিনের মধ্যে দ্রুত ১৬৪ করায়। এটাও লক্ষ্য করার বিষয় যে ৩ দিনের মধ্যে এতো বড় মামলা কিভাবে তদন্ত করে ১৬৪ করায়? এটাও একটি সন্দেহের বিষয়।’

রফিউর রাব্বি বলেন, ‘পুরো ঘটনাটাই আসলে প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনা। তার উপর পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেখানে অভিযুক্তদের দিয়েই তদন্ত করানো হচ্ছে। এটা শুধুমাত্র করার জন্য করা হয়েছে। যদি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হতো তাহলে হয়তো কিছুটা সমাধান পাওয়া যেত। প্রশাসন থেকে বাঁচিয়ে দেয়ার একটা বিষয় তো হয়-ই। সিনহার হত্যার পরেও এই ঘটনাই ঘটেছে। বিষয়টা হচ্ছে যারা ভুক্তভোগী, তারা একেবারেই দরিদ্র পরিবারের। ফলে তারা কোনো কিছুই দাবি করতে পারবে না। ওসিকে স্বপদে বহাল রেখে তদন্ত ফলদায়ক হবে না। ওসি কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না।’

নুরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মেয়ে কিন্তু নিজেই বলেছে যে, যাদের আটক করা হয়েছে তারা কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না। এখন কথা হলো কি হয়েছে তা পরে তদন্তে জানা গেছে। তাহলে তারা কেন ধর্ষণ এবং হত্যার কথা স্বীকার করেছে? হত্যা এবং ধর্ষণের দায় মানুষ বিনা অপরাদে কখন স্বীকার করতে পারে? নিশ্চয়ই তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করার কারণেই তারা এ স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত করতে চাইলে ওসিকে দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে। পুলিশ কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারবে না।’

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে প্রথম দিন আমরা মেয়েটি ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। একই সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীর যে ঘটনাস্থল সেখানেও পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে। এ তদন্তের স্বার্থে আমরা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এর জন্য সময় প্রয়োজন।’

জিসা দেওভোগ পাক্কা রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল সে। এর এক মাস ২ দিন পর ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন তার বাবা।

গত ৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পৃথক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামিরা। স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, ওই স্কুল ছাত্রীকে নৌকায় করে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শামীম আল মামুন জানান, মামলায় আব্দুল্লাহ্ ও রকিব দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিলো। রিমান্ড শেষে ওই দুই আসামিসহ তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এখানে আমার কোন হাত নাই।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও