সচেতন না হলে করোনা বিস্ফোরিত হতে পারে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৫ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ বুধবার

সচেতন না হলে করোনা বিস্ফোরিত হতে পারে

করোনা সংক্রামণ ও মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ ছিল। আর সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে আক্রান্ত, সংক্রামণ ও মৃত্যুর সংখ্যায় প্রথম ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এরিয়া। বর্তমানে করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এখনও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় এখনও প্রথম স্থানে রয়েছে যদিও এখনও আক্রান্ত ও মৃত্যুর দুই সংখ্যায় ছড়ায়নি। যার জন্য মানুষকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা আলী। তিনি বলেন,‘সিটি করপোরেশন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতন না হলে করোনার সংক্রামণ যে কোন সময় বিস্ফোরিত হয়ে উঠতে পারে।’

১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের নিজ কার্যালয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘নারায়ণগঞ্জে ৪১ হাজার ৬৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৬ হাজার ৫৯৩জন কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়। এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৫৮২জন এবং মারা গিয়েছেন ১৪০জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২৫৮জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১১জন করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। তবে ২৪ ঘণ্টায় করো মৃত্যু হয়নি। কিন্তু সুস্থ হয়েছেন ৪জন।

এ তথ্য অনুযায়ী সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩ হাজার ৭২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২ হাজার ৩৬২ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ৭৪জন ও সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৮২জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১০৩জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৭জন পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। তবে কারো মৃত্যু না হলেও সুস্থ হয়েছে ৪জন।

এ হিসেবে ভিত্তিতে পুরো জেলার তুলনায় সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত বেশি। জেলার অর্ধেকের বেশি মারা গেছে সিটি করপোরেশন এলাকায় আর সুস্থ হয়েছে তিন ভাগের এক ভাগ।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা আলী বলেন, ‘বর্তমানে করোনার সংক্রামন কম তাই নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জনের নির্দেশ অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের নমুনা সংগ্রহের বুথগুলো তুলে ফেলা হয়েছে। যখন আবারও তারা সহযোগিতা চাইবেন আমরা নমুনা সংগ্রহ সহ সব ধরনের সেবা দিতে প্রস্তুতি আছি। কারণ এখন যে পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ হয় সেটা ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের জন্যই যথেষ্ট নয়। তাই যদি কেউ আমাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য ফোন দেয় তাদের আমরা ৩০০ শয্যা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। এছাড়া মেডিকেল সেবা সহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এমনকি শহর জুড়ে জীবাণুনাশন স্প্রে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম এখনও চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে করোনা সংক্রামন সংখ্যা কম। তবে এ কমের মধ্যেও যদি তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের দিক থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বেশি। মারাও যাচ্ছে সিটি এলাকায়। তাই সবাইকে বাধ্যতামূলক সচেতন হতে হবে। সচেতনতার বিকল্প নেই।’

শহরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যদি দেখা যায় বিভিন্ন অফিস আদালত, ব্যাংক বীমা সহ সরকারি বেসরকারি অফিসগুলোতে সবাইক সচেতন। এখন তারা মাস্ক, জীবাণুনাশক স্প্রে ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর বিপরীতে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, বাজার, ফুটপাত সহ বিভিন্ন জনবহুল জায়গাগুলোতে নূন্যতম মাস্ক ব্যবহার করছে না। যা আগামী দিনগুলোর জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মানুষের মধ্যে যে ভয়টা ছিল এখন সেটা নেই। যার জন্য মানুষ অনেকটাই অসচেতন হয়ে পড়ছে। ফলে এখন উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই করোনার নমুনা পরীক্ষা করান না। যারা সচেতন তারাই নমুনা পরীক্ষা করে পজেটিভ শনাক্ত হলে নিয়ম মেনে চলছেন। কিন্তু নি¤œ শ্রেনির যারা আছেন যারা নমুনা পরীক্ষা করায় না এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছে না তাদের নিয়ে ভয় বেশি। কারণ তাদের থেকে করোনার সংক্রামণ বাড়বে। যার জন্য করোনা গুড়া থেকে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। আর হার্ড হিউমোনিটি দিয়েই সব সম্ভব না। কারণ যারা প্রথম আকান্ত হয়েছে তারাও পরবর্তীতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ এখনও করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। এখানে শ্রমিক শ্রেনি সহ নি¤œ পেশার মানুষের সংখ্যা বেশি। যাদের মধ্যে সচেতনতা অনেক কম। আরা তারা করোনার উপসর্গ থাকলেও নিয়ম কানুন মানছে না। যার জন্য ভয় হয়। তাই সচেতন না হলে করোনার সংক্রামণ যে কোন সময় বিস্ফোরিত হয়ে উঠতে পারে।’

শীতকাল আসছে সেক্ষেত্রে করোনার সংক্রমাণ বাড়তে পারে? তিনি বলেন,‘করোনার সংক্রামন বাড়তে পারে এটা আশঙ্কা করা যাচ্ছে। যার জন্য আমরা নতুন করে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি। মাইকিং করা, লিফলেট বিতরণ, হাত ধোয়া সহ মাস্ক পড়তে বাধ্য করা সহ বিভিন্ন কিছু। করোনার সংক্রামন রোধে মানুষকে সচেতন করতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চলছে।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও