বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইউএনও নাহিদা বারিকের (ভিডিও)

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার

বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইউএনও নাহিদা বারিকের (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লায় অবস্থিত বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আহতদের দেখতে জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটেও ছুটে গিয়েছিলেন। ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে নিজ চোখে দেখা ভয়াবহ সেই দৃশ্য নিজেই বর্ননা করেছেন তিনি।

২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি সেই বর্ণনা দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন প্রমুখ।

এসময় নাহিদা বারিক বলেন, ‘যে দুর্ঘটনাটি ঘটে গিয়েছিল ৪ তারিখ রাতে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা। সাথে সাথে আমি মসজিদে আগে গিয়েছি। সেখানে দেখেছি যে কিভাবে মাথার চামড়া, শরীরের চামড়া, দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ছিল। অন্ধকারে অনেকটাই বুঝা যাচ্ছিল না। হেঁটে যখন যাচ্ছিলাম পায়ের পাতা পর্যন্ত ভিজে গিয়েছিল। আমি যখন আলোতে আসি তারপরে দেখতে পারলাম যে রক্ত লেগে আছে। তারমানে সেটি রক্ত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে যখন যাই সেই দৃশ্য আসলে বলে বুঝানো যাবে না। হাসপতালে একটি জায়গায় ফরিদ নামে একটি ছেলে ছিল। ওকে বলেছিলাম তুমি চিন্তা করছো কেন? তুমি তো সুস্থ হয়ে যাবে। বাহিরে তোমার মা দাঁড়িয়ে আছে। তুমি তো চলে আসবে সুস্থ হয়ে। আসলে সেটা বলার জন্য বলা। একদম নিছক অসত্য কথা ছিল। এরকম ঘটনা আর যাতে না হয়।’

তিনি বলেন, ‘এর পরের দিনের ঘটনা। একই সাথে প্রথম আশে পাশে যে কফিন আমরা দেখি দোকনের সামনে। আসলে একটা দুইটা কফিন সাজানো থাকে। ওই মুহূর্তে প্রথম ১২ টা কফিন ম্যানেজ করা তারপরে সাথে সাথে ১২ টা রেডি করতে করতে ১৪ টা। ১৪ টা বলতে বলতে ১৬ টা। ১৬ টা বলতে বলতে ১৮ টা। এটা আসলে বলে বুঝাতে পারব না। আমি চাকরির ৯ বছর শেষ করেছি। বন্দরে একটি দুর্ঘটনায় ১০ জন মারা গিয়েছেন। কিন্তু এইরকম ঘটনা যেন কখনো কাউকে সম্মুখীন হতে না হয়। আল্লাহ যাতে কখনো কাউকে এইরকম পরীক্ষা না নেয়।’

নাহিদা বারিক বলেন, ‘এমপি স্যারের সাথে প্রতিনিয়ত কথা হচ্ছিল। ভাবী (লিপি ওসমান) খোঁজ নিচ্ছিল। ডিসি স্যার দৌঁড়ে দৌঁড়ে যাচ্ছিলেন সেখানে। পুলিশ সুপার মহোদয় ছিলেন। প্রত্যেকে এবং এলাকাবাসী যারা রয়েছেন। তাঁরাও যার যার অবস্থান থেকে করেছে। ওইখানে খাবার পৌঁছিয়েছে। কাফনের কাপড় ম্যানেজ করা। ওইখানে যদি তাৎক্ষনিকভাবে না থাকতাম তাহলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না যে কাফনের কাপড়টা যদি আমরা দেই তাহলে তাঁদের জন্য কতটা সহজ হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখনো দুইজন হাসপাতালে আছেন। তাঁদের একজনের ৩৫ শতাংশ আরেকজনের ২৫ শতাংশ বার্ণ আছে। আর মসজিদের সামনে দিয়ে একজন যাচ্ছিলেন ওষুধ কিনে সালমা সেও আহত। ওইদিন হাসপাতালে যায়নি। পরের দিন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় আছে। আর মমুন নামে একজন সেও বাহিরে ছিল। সেও বাহিরে থেকে আহত হয়। সেও বাড়ি ফিরে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ থাকবে যে যেখানে থাকবেন অন্তত তাঁর আশেপাশের অংশটুকু খেয়াল রাখা যে কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। দেখার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে জানানো। এটি যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ চলাকালে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হন। ইতোমধ্যে মারা গেছেন ৩৪ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২ জন।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও