টানবাজার নিষিদ্ধ পল্লীর মালিকেরা বর্তমানে সিআইপি : শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

টানবাজার নিষিদ্ধ পল্লীর মালিকেরা বর্তমানে সিআইপি : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ১৯৯৬ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। সে সময় নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পল্লী যার কারণে আমরা কলংকিত ছিলাম। সেখানে যারা ছিল আমার মতোই ১২ থেকে ১৩ হাজার নারী ছিলেন। সাড়ে ৪ হাজার মেয়ে ছিল যাদের বয়স ১১ বছরের নিচে। সেখানে হাত দেয়ার কারও ক্ষমতা ছিল না। বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে তাদের বাহিনী ছিল।

৬ অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির গণতন্ত্রের সংলাপ অনুষ্ঠানে কার ব্যর্থতায় ধর্ষণ বাড়ছে বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাই আমি আল্লাহর ঘর ছুয়ে শফথ করেছি নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ পল্লী পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদেরকে উঠাবো। আল্লাহ কবুল করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের উঠানোর জন্য। আমি কখনও ভিতরে যাইনি। আমরা আমাদের স্বেচ্ছাসবকদের পাঠালাম, মেয়ে ওয়ার্কারদের পাঠালাম। একটা পর্যায়ে অবস্থান তৈরি করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, যারা এটার মালিক ছিল তারা সমাজের সিআইপি। শুধুমাত্র বাংলাদেশ না অনেকেই আছে আমেরিকান সিআইপি। অনেক দেশের কাউন্সির আছেন অনেকে। এরা মা বোনদের সম্ভ্রম বিক্রি করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছিল। তখন অনেকেই বলেছিলেন এটা নাকি পরুষ মানুষের ময়লা পরিস্কারের জায়গা ছিল। আমি তাদেরকে ইবলিশ বলি। তাদের সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার নাই।

শামীম ওসমান বলেন, আজকে আমার মেয়ে প্রশ্ন করেছে ‘এই জায়গায় আমি হইতাম তুমি কি করতা।’ বাংলাদেশে যে আইন আইনে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আমি একজন ল মেকার্স। প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানাবো আইন সংশোধন করে হোক কিংবা নির্দেশ দেয়া হোক পরপর চারটি ঘটনায় চারজনকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে দিবালোকে ফাঁসি দেয়া হোক। এটা হওয়া উচিত।

শামীম ওসমান বলেন, আমি মনে করি এটা পুরানো দিনের আইন। আইনটাকে সংশোধন করা উচিত। চীনে দেয় মৃত্যুদন্ড। সৌদি আরবে কল্লা কাটে, ফ্রান্সে ৩০ বছর সাজা দেয়। একেক দেশে একেক রকম। আমি মনে করি যদি কাউকে ছাড় দেয়া হয় তাহলে এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। ছাত্রলীগ করুক যুবলীগ করুক, আওয়ামী লীগ করুক, বিএনপি করুক কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। এটা মানসিক অবক্ষয়। আমি যাবজ্জীবনে সন্তুষ্ট না। আমার নিজের দিক দিয়ে চিন্তা করলে মৃতুদন্ডের নিচে নামতে রাজী না। সেই সাথে ৩০ থেকে ৬০ দিনের বিচার হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বহু সভ্য দেশেই মৃত্যুদন্ড আছে। আমি উদাহারণ হিসেবে বলছি আইন করা হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেয়েও কিন্তু একজন ছাত্রনেতার নামে ধর্ষণ মামলা দিয়েছেন। এই মামলা কিন্তু সরকার করে নাই করেছেন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সেটাও দেখার বিষয় শুধু নোয়াখালী কিংবা সিলেটের ঘটনা না।

শুধু আইন দিয়ে এটা বন্ধ করা যাবে। যদি আইন দিয়ে বন্ধ হতো নরওয়ে সুইডেনের মতো দেশে রেপ হতো না। আমি মনে করি এখন থেকেই স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের সেল্প ডিফেন্স শিক্ষা নেয়া উচিত। যারা ছেলে তাদের বুঝানো উচিত একজন মেয়ের সম্মানটুকু। এটা এটা একটা পথ হতে পারে। এটা ক্লাস নেয়া উচিত। আইনজীবীদের অঙ্গীকার করতে হবে ধর্ষণকারীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে থাকবো না।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও