১০০ বছর আগের নারায়ণগঞ্জ গড়তে চান আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০২০ রবিবার

১০০ বছর আগের নারায়ণগঞ্জ গড়তে চান আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার কাজের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানিয়েছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি কিভাবে কি করতে চান এবং ভবিষ্যতের নারায়ণগঞ্জ কেমন হবে এসব জানিয়েছেন তিনি।

৪ নভেম্বর বুধবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী স্বাধীন সাদেকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে মেয়র আইভীর দেওয়ার একটি দুই মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড করেন। ওই ভিডিও থেকেই মেয়র আইভীর চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যায়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমাদের শহরে আগে থেকেই অনেক বেশি জনসংখ্যা আছে। নি¤œ শ্রেনি থেকে প্রতিদিনই এখানে লোক আসছে। কারণ শতকরা ৮০ ভাগ পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) এখানে অবস্থিত। এখানে শ্রমিক অনেক বেশি। যার ফলে আমার শহর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর নগরীতে অনেক লোক বসবাস করে। ইতোমধ্যে আমাদের শহর অনেক ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এখানে চ্যালেঞ্জও অনেক বেশি। এখন আমরা চিন্তা করছি কিভাবে এ মানুষগুলোকে সুবিধা দেওয়া যায়, তাদের জন্য আরো কিভাবে উন্নত প্রকল্প করা যায়। সেটাই আমরা চিন্তা করছি। আর এটাই এখন আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কিভাবে এ শহরে আয়োজন করে মানুষকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা (যেসব সুযোগ সুবিধা একটা মানুষের পাওয়া দরকার) দেওয়া যায়। এবং প্রকল্প করে কিভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটিকে সাজানো যায়। বিশেষ করে গণপরিবহন আমাদের জন্য খুবই কঠিন। বাংলাদেশে গণপরিবহন এখন সেভাবে নাই। আবার সাধারণ মানুষের নিজস্ব পরিবহনও নাই। তাদের চলা খুবই কঠিন। এখন আমি গণপরিবহনের উপরই বেশি চিন্তা করছি। এ সুবিধাটা কিভাবে দেওয়া যায়। এবং এ শহরকে কিভাবে ম্যানেজ করা যায়, মানুষ থাকবে এবং মানুষকে ঘিরেই এ শহরকে কিভাবে সাজানো যায় সেই চিন্তাটা করছি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংক আমাকে অনেক ভাবে সহযোগিতা করছে। কাঠামোগত উন্নয়নে অনেক ধরনের সহযোগিতা করছে। এ মুহূর্তে আমি যে বিষয়ে খুব খুশি সেটা হলো, বিশ্ব ব্যাংক আমাকে যে অর্থায়ন করছে সেটা অনেক দিনের পুরানো একটি বড় খাল। সেই বাবুরাইল খালটাকে আমরা খনন করছি এবং খনন করার পর এ শহরের চিত্র বদলে যাবে। এ নারাণগঞ্জ শহরের চিত্র হবে পূর্বে, ১০০ বছর আগে যেমন শহর ছিল সেরকম হয়ে যাবে।’

এর আগে এক টক শোতে যানজট, অবৈধ স্ট্যান্ড ও যত্রতত্র পার্কিংকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি। এ সমস্যার কারণে শহরের প্রকৃত রূপ চেনা যায়না বা বোঝা যায়না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি সমস্যা সমাধান করতে গেলে অনেকগুলো সংস্থার প্রয়োজন হয়। যে কোনো শহরের রাস্তা হলো সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার। ট্রাক, বাস স্ট্যান্ডগুলোও তাদের মানে স্থানীয় সরকারের আওতায় থাকে কিন্তু বাস, ট্রাক কার আন্ডারে থাকে? রোড পারমিট দেয় বিআরটিএ। রোড পারমিট দেয়ার আগে তারা জিজ্ঞাসা করে না বাস স্ট্যান্ডের ধারণ ক্ষমতা কতটুকু! যদিও কমিটিতে নামে মাত্র রিপ্রেজেন্টেটিভ থাকছে, কিন্তু অনেক সময়ই তার কথা গ্রহণ করা হয়না। এখানে সমন্বয়ের অনেক বড় অভাব। একটি সিটিকে সাজাতে চাইলে সিটি গভার্নেন্স সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।’

মেয়র আইভী আরও বলেন, ‘যেখানে সরকার খুব সুশৃঙ্খলভাবে নগরায়ন করতে চাচ্ছে, কিন্তু আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরগুলো সেদিকে নজর না দিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে উন্নয়ন করতে চাচ্ছি।’

এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই লঞ্চ টার্মিনাল, বাস, স্ট্যান্ড ও রেল স্টেশন এক সাথেই। নারায়ণগঞ্জে ব্যপক পরিসরে পাটের কাজের সুবাদে এই টার্মিনাল থেকেই দেশের বাইরে লঞ্চ, স্টিমার চলাচল করতো। এই স্টেশন থেকে মালবাহী ট্রেনও চলাচল করতো। বর্তমানে সরকারের এসটিপিতে ঢাকা ডিসিসি বোর্ড এবং নারায়ণগঞ্জ একটি মিটিং করে। আমিও সেই মিটিংয়ে ছিলাম। মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেটার সভাপতিত্ব করেন। সেই এসটিপিতে কিন্তু ১৪ টা মাল্টি মর্ডান হাব অর্থাৎ মাল্টি মর্ডান স্টেশন করার জন্য সরকারের অনুমতি নেয়া আছে। মন্ত্রি পরিসদে তা পাশও হয়েছে। এখন সেই মাল্টি মর্ডান হাব ঢাকাতে সেই কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে রেলে রেলের মতো কাজ করছে। নৌ পরিবহন পত্র দিল যে আমার বাস স্ট্যান্ডটা সরাইয়া নিতে হবে।’

আইভী বলেন, ‘মেয়র আইভীর সফলতা বলতে নারায়ণগঞ্জের ৯৫ ভাগ জনতা মেয়র আইভীর সাথে। তারা মেয়র আইভীকে বিশ্বাস করে। যে সে এ কথাটা বলছে সে কথাটা রাখবে। নিজের জীবন দিয়ে হলেও কথাটা রাখবে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ জানে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবার জন্য উৎসর্গ করেছি।’

ব্যর্থতা প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ‘আমার ব্যর্থতা হলো আমি প্রশাসনকে বুঝাতে পারি না যে এ কাজটা আমি সরকারের জন্য করতে যাচ্ছি। সরকার যে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেকই করছি। আমার এখানে ব্যক্তি কোন স্বার্থ নাই। কেন যেন প্রশাসন সাড়া দেয় না। প্রশাসন কাকে যেন ভয় পায়। কেন প্রশাসন মেয়র আইভীর টেবিলে যেতে পারে না, ইচ্ছা থাকার পরেও কেন প্রশাসন সিটি করপোরেশনকে একটি জমি দিতে ইতস্ততবোধ করে সেটাই বোধহয় আমার ব্যর্থতা। আমি মনে করি প্রকাশ্যে আমি বলছি এটাই ব্যর্থতা। কারণ এ কথা শোনার পরে অনেকেই মনে করে কেন সে সরাসরি কথা বলে। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে যেটা সঠিক সেটাই বলবো। সত্যকে সত্য বলতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করি।’


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও