যেমন চলছে প্রতিবাদী সেই রায়হানের দিনকাল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫১ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০ বুধবার

যেমন চলছে প্রতিবাদী সেই রায়হানের দিনকাল

আল জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে মালয়েশিয়ার গ্রেফতার হওয়া সেই প্রতিবাদী রায়হান কবির নিরবে নিবৃতে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখিনও হতে হচ্ছে। এছাড়া মানবকল্যাণে কাজ করতে নিজের ইচ্ছের কথাও জানিয়েছেন রায়হান কবির। সেই সাথে আন্তর্জাতিক মহল থেকে নানা সুযোগের কথাও জানিয়েছেন।

সম্প্রতি রায়হান কবিরের সঙ্গে নিউজ নারায়ণগঞ্জের এ প্রতিবেদকের আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।

রায়হান কবির বলেন, বর্তমানে সৌদিআরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের নির্যাতন নিপীড়নের প্রতিবাদে কাজ করছি। মূলত প্রবাসীদের নির্যাতন আমাকে সবচেয়ে বেশি ব্যাথিত করে। কারণ আমিও সেই অন্ধকারটা দেখেছি। সৌদি আরবে কুলসুমকে নির্মমভাবে নির্যাতন করার ফলে মৃত্যুবরণ করে। এছাড়া নদী নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছি। বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কল্যাণ সংস্থা সহ বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন করেছি ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। গত ৪ বছরে ১৭৫ জন্য বাংলাদেশি নারী শ্রমিক হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে। এটা নিয়ে বিশাল মুভমেন্টে (আন্দোলনে) আগাবো। ব্যাক্তি উদ্যোগে এই ১৭৫ জনের পরিবারকে নিয়ে ডকুমেন্টরী তৈরি করবো। আগামী জানুয়ারীর মধ্যে এটা ডকুমেন্টরীর কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন।

‘‘এছাড়া দেশের বেগমগঞ্জের ধর্ষণ ইস্যু নিয়ে রাজধানীতে গণঅবস্থান এবং চাষাঢ়ায় সাইক্লিষ্টদের আয়োজনে র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেছি, প্রতিবাদ করেছি। একইভাবে ফাতেমা ইস্যু সহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। কোথাও কোন প্রতিবাদের জন্য ডাক আসলেই আমি ছুটে যাই। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ অক্টোবর রাজধানীর টিএসসিতে রাজু ভাষ্করে ফাতেমা ইস্যুতে আমি প্রতিবাদ করেছি। আমি ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, বিচার চেয়েছি। আমি কিন্তু শুধু মাত্র ভিপি নূরকে নিয়ে কথা বলিনি। তাছাড়া আমি কোথাও বলিনি ‘ভিপি নূর ধর্ষক’। অথচ ভিপি নূর লাইভে এসে ওই মেয়েকে নিয়ে বাজে বাজে কথা বলেছে। আইন অনুয়ায়ী তদন্তাধীন কোন ব্যাপারে অভিযুক্ত কথা বলতে পারেনা। তখন নূর সহ তার লোকজন আমাকে নিয়ে নানান বাজে বাজে মন্তব্য করেছে। তারা আরো বলেছে, আমি যখন মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হই তখন নাকি নূর প্রতিবাদ করেছে কাজ করেছে। আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, ভিপি নূর আমার ব্যাপারে একটা ওয়ার্ডও বলেনি। সে আমার ব্যাপারে কোন প্রতিবাদ বা আন্দোলন করেনি, এগুলো সব মিথ্যা কথা। আমি ভিপি নূরের একটা ওয়ার্ড বা আন্দোলনের কিছু পাইনি।’’

চাকরির ব্যাপারে রায়হান বলেন, এখন পর্যন্ত কোন চাকরি বা ব্যবসা করছিনা। তবে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা থেকে চাকরির অফার এসেছে। কোভিড-১৯ এর প্রকোপ শেষ হলেই এর ট্রেনিং শুরু হবে। আপাতত সেখানেই চাকরি করার ইচ্ছা আছে বলে জানিয়েছেন। তবে চাকরি শুরু করার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখার অনুরোধ করেন রায়হান।

‘রায়হান কবির এখন তেমন কিছু করছেনা। তবে নিজের যোগ্যতায় তিনি কিছু করতে চান। সেজন্য মালয়েশিয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে কোন সুযোগ নিতে চাননা বলে জানিয়েছেন। এজন্য তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বিদেশ যেতে চান। মাইগ্রেশন ‘ল’ নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা পোষন করেন। ইউরোপের একটি দেশ তাকে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে এশিয়ায় এই বিষয়ের উপর কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। তাই বিট্রিশ কাউন্সিলের অধীনে অনলাইনে এই বিষয় নিয়েও পড়াশোনা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।’

আক্ষেপ করে বলেন, মালয়েশিয়া সরকার আমার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট সহ সার্টিফিকেট জব্ধ করে রেখেছে। জমানো অর্থ ও ব্যবসা সহ সবকিছু এখন শেষ। এখন পরিবারের সদস্যরা আমার বাবার উপার্জনের টাকায় চলছে। আমার চাহিদা একেবারে কম। আমার কিছু জমানো টাকা রয়েছে সেই টাকা দিয়ে চলছি। তবে বাংলাদেশের অনেকে ব্যবসার জন্য সহযোগিতা করতে চেয়েছে। আর অগণিত চাকরীর অফার এসেছে। কিন্তু আমি কারো সহযোগিতা নেইনি। আমি নিজের যোগ্যতায় কিছু করতে চেয়েছি।

রাজনীতিক ইস্যুতে বলেন, আমি পদ পদবীর জন্য রাজনীতি করিনা। রাজনীতি নিয়ে তেমন কোন ভাবনা নেই। তবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। আর অন্যায় অবিচার হলেই আমি আমার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করে যাব। যতদিন বেঁচে আছি প্রতিবাদ করে যাবো।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়াতে অভিবাসী শ্রমিকদের উপর নিপীড়নের বিষয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনের একটি তথ্য চিত্রে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর তাকে গত ২৪ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করার পর তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৩ জুলাই আল-জাজিরার ইংরেজি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি লকডাউন চলাকালে দেশটির সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের বিষয়টি উঠে আসে।

এ ঘটনায় রায়হান কবির বলেন, ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টে হ্যান্ডকাফ পড়া ছিলাম আমি। মূলত হ্যান্ডকাফ নয়, শিকল পড়া ছিল। সেখানকার পুলিশ, ৯ টা সংস্থা ও আইজিপি আমার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন এবং জানতে পেরেছেন কোন কিছুর প্ররোচনায় নয় মূলত আমি প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করি বলেই তাদের স্বার্থে কথা বলেছি। আমার যেটা মনে হয়েছে, মানুষকে বোঝাতে হয়তো আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে। তবে আমি প্রবাসীদের জন্য কাজ করেছি, করছি। প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনে আমি আবারো লড়বো।’

রায়হান বলেন, যখন আমি ফিরে আসি, মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ডিজি আমার সাথে দেখা করে বলেন ‘আই এম সরি’। তুমি কি চাও আমার দেশ থেকে। তখন আমি বলি, আমার বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী মালয়েশীয়া জেলে আটক আছে। তারা ভিসা অর্থসহ নানা কারণে দেশে যেতে পারছেনা। তাদেরকে দেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করে দেন। তখন তিনি হেঁসে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি তোমার জন্য কি চাও বলো। আমি আমার উত্তরটিই রিপিট করি। তখন তিনি হেঁসে দেন।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও