প্রেমের বিয়ের পর সেলিম ওসমানকে ৬ টাকা তুলে দেন স্ত্রী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:০৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রেমের বিয়ের পর সেলিম ওসমানকে ৬ টাকা তুলে দেন স্ত্রী

ইতোপূর্বে বিভিন্ন বক্তব্যে নিজের প্রেম ও পরিণয়ের কথা বলেছিলেন নারায়ণগঞ্জের এমপি সেলিম ওসমান যিনি একই সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা। প্রেমের গল্প বলতে গিয়ে কখনো আবেগ তাড়িত দেখা গেছে তাঁকে। সেই সেলিম ওসমানের প্রেমের বিয়ের ৩৭ বছর পূর্ণ ২৫ সেপ্টেম্বর। আর এদিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটু অন্যভাবেই পালন করলো বিবাহবার্ষিকী। চিরসাথীকে পাশে রেখে মেয়ে, মেয়ে জামাতা ও নাতিদের সঙ্গে রেখেই বিবাহ বার্ষিকীর কেক কাটা হলো।

সেলিম ওসমান সাপোর্টার্স ফোরামে পরিবারের সকলের একটি ছবি পোস্ট হয়। এতে লেখা হয়, ‘শুভেচ্ছা জানাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দম্পতির জন্যে, সর্বদা যেন বসন্ত বিরাজ করে আপনাদের খুশির অরণ্যে...... শুভ ৩৭ তম বিবাহবার্ষিকী বাবাও মা...........আরিফেন ও অপূর্ব।’

এর আগে একটি অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান বলেন, ‘৭৫ এর পর আমাদের পারিবারিক অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। খাবারের পয়সাও ছিল না। তখন আমার স্ত্রী যাকে আমি প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম সে ঘর থেকে মাত্র সাড়ে ৬ টাকা আমার হাতে তুলে দিয়ে বলেছিল ঘর থেকে বের হও। কাজ করো। তুমি যুদ্ধ করতে পারলে কেন কাজ করতে পারবে না। সেদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রেরণাতে ঘর থেকে বেরিয়ে কাজের সন্ধান শুরু করি। ধীরে ধীরে ব্যবসা শুরু করে এখন ব্যবসায়ী। তবে আমি অনেক উদ্যোক্তা তৈরি করেছি যারা এখন আমার চেয়েও বড় ব্যবসায়ী।’

প্রসঙ্গত ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলন থেকে মহান ভাষা আন্দোলন, ১১ দফা, ৬ দফা সহ স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও প্রতিষ্ঠিত পাট ব্যবসায়ী খ্যাত ওসমান পরিবারের সন্তান একেএম সেলিম ওসমান। দাদা খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার এমএলএ। বাবা ভাষা সৈনিক একেএম শামসুজ্জোহা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর। ভাষা আন্দোলন, ১১ দফা, ৬ দফা, আন্দোলোনে অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭০ সালে গণপরিষদ ও স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত।

াত্র থাকা অবস্থায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন সেলিম ওসমান। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে স্বপরিবারের হত্যার পর বাবা সামসুজ্জোহা গ্রেপ্তার হন এবং তাকেও ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে বঙ্গবন্ধুর খুনী চক্র। খুনিদের অত্যাচার আর লুটপাটে যখন সম্পূর্ন ওসমান পরিবার প্রায় সর্বশান্ত তখন নিজে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাত্রা ত্যাগ করে সংসারের হাত ধরেন। বাবা জেলে, বড় ভাই নাসিম ওসমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে সশস্ত্র বিপ্লবে যোগ দেন কাদের বাহিনীতে। তখন সংসাদের দায়িত্ব নিতে গিয়ে সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ থেকে চৌমহনী পর্যন্ত বাস চালিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের ৫নং ঘাট এলাকায় মাছ বিক্রি করেছেন। কালীরবাজার ও ঢাকা বাইতুল মোকারম মসজিদের সামনে ফেরি করে মুরগী বিক্রি করেছেন। শহরের উকিলপাড়া এলাকায় হোসিয়ারীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে সেলিম ওসমান বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর একজন পরিচালক। এছাড়া তিনি বিকেএমইএ এর সভাপতি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর