৬৮ বছরে তৈমূর আলম খন্দকার, শুভ জন্মদিন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
৬৮ বছরে তৈমূর আলম খন্দকার, শুভ জন্মদিন

৬৭ বছর শেষ করে ৬৮তে পা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

এ জন্মদিনে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে প্রতিক্রিয়াতে বলেছেন, সর্ব অবস্থায় আল্লাহর রহমত চাই, জনগণের পাশে থাকতে চাই। সম্মানজনক একটি মৃত্যু চাই। বিএনপির কাছে কথা ও কাজের সমন্বয় চাই।

১৯৫৩ সালের ১৯ অক্টোবর জন্ম নেন শাহআলম খন্দকার ও রোকেয়া খন্দকারের পরিবারে জন্ম দেন তৈমুর। ইতোমধ্যে বাবা ও মা চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ভাই বোনদের মধ্যে তৈমুর আলম খন্দকার সবার বড় ছেলে।

তৈমুরের বাবা শাহআলম খন্দকার ছিলেন বিলুপ্ত গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক এর বাংলাদেশ ও নারায়ণগঞ্জ শাখার ম্যানেজার। ইস্ট পাকিস্তান গ্রীন্ডলেজ ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন। শাহআলমের বাবা তোরাব আলী খন্দকার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তির একজন।

তৈমুরের শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জ ও রূপসীতে। শহরের গলাচিপা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপসী খন্দকার বাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রাইমারী পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু সড়কে গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক এলাকাতেই প্রথমে তারা বসবাস করতেন। পরে শাহআলম খন্দকার শহরের মাসদাইরে জায়গা কিনে সেখানে বসবাস শুরু করেন।

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ফাস্ট ক্লাস পান তৈমুর। ৬৯ সালে তোলারাম কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়। এ কলেজে পড়াশোনা কালে সংগঠক হিসেবে নিজেকে জাহির করেন।

মাসদাইরে প্রভাতী কল্যাণ সংস্থা, মুসলিম একাডেমী করার পাশাপাশি দিনমজুরদের বিভিন্ন সংগঠনও শুরু করেন। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান গাড়ি, রিকশা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ শুরু করেন তৈমুর। কলেজ জীবনেই বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার সঙ্গে ঘনিষ্টতা হয় তৈমুরের। ওই সময়ে চুনকার আশেক হিসেবেই পরিচিতি পান তৈমুর।

তৈমুরের দাবী, সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে যখন চুনকার বিরোধ তুঙ্গে তখন আমাকে খুব অনুভব করতেন চুনকা ভাই। আমরা দুইজন প্রায় সময়ে নীরবে অনেক কথা আর আলোচনা করতাম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। ৭৪ সালে ডিগ্রী পরীক্ষায় সেকেন্ড ক্লাস পায়। পরে তৈমুর ভর্তি হন নারায়ণগঞ্জ ল কলেজে। এ কলেজ থেকে ৭৬ সালে ল পাশ করে ৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮২ সালে ঢাকার মগবাজার এলাকার হালিমা ফারজানার সঙ্গে বিয়ে হয় তৈমুর আলম খন্দকারের।

৮৪ সালে তৈমুর চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ব্যারিস্টার পড়াশোনা করে ৩পার্টের মধ্যে পার্ট ১ ও ২ শেষ করেন।

৮৫ সালে দাদা তোরাব আলী মাস্টার মারা গেলে তৈমুর দেশে ফিরে আসলে আর বিলেতে যাওয়া হয়নি। তৈমুর আলম খন্দকারের ২ মেয়ে।

বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মার ই য়াম খন্দকার বিবাহিত। তিনি এখন বাবা তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গেই কাজ করেন। ঢাকার পল্টনে মেহেরাবা প্লাজায় তৈমুর আলম খন্দকারের চেম্বার।

ছোট মেয়ে নুসরাত খন্দকার ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে এলএলবি অনার্স শেষ করে মাস্টার অব ল পড়ছেন।

১৯৯৬ সালে তৈমুর নারায়নগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার ইচ্ছা পোষন করলেও শামীম ওসমানের কারনে তা হয়ে ওঠেনি। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

ওই সময়ে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল মিলনায়তনের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তন করে আওয়ামী লীগ যার তীব্র বিরোধীতা করেন তৈমুর। একই সময়ে সাবেক এমপি আবুল কালাম নিস্ক্রিয় হলে তৈমুরকে সে সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ দেওয়া হয়।

শহরের শায়েস্তা খান সড়কে তৈমুরের চেম্বার থাকলেও শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে ঢাকায় থেকে হাইকোর্টে আইন পেশা চালিয়ে যান তিনি। ওই সময়ে একটি রাজনৈতিক মামলায় হাইকোট থেকে গ্রেপ্তার হয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় ওঠে আসেন।

১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি মিছিলে গুলি করে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। ওই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। ঢাকায় অবস্থান করা কালীন ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা ঘটনায় তৈমুর আলমকে আসামী করা হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-জামাত জোট সরকার তৈমুর আলম খন্দকারকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান বানায়।

২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী তৈমুর আলমের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আতাতীয়দের হাতে খুন হয়। সাব্বির আলম হত্যার ঘটনায় তৈমুর আলম বাদী হয়ে বিএনপি দলীয় এমপি সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছাত্রদল ক্যাডার জাকির খানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর তৈমুর আলমের সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তৈমুর আলমের ক্ষমতা কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়।

২০০৩ সালে তৈমুরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের পর বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রথমবারের মত তার আইনজীবি হিসেবে আইনী লড়াই চালিয়েযান তৈমুর। পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করে যার মধ্যে একটি মামলায় ১২ বছরের জেল হয়। ২০০৯ সালের মে মাসে মুক্তি পান তৈমুর। ওই বছরের জুন মাসে তৈমুরকে আহবায়ক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। বছরের শেষের দিকে ২৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তৈমুর হন জেলা বিএনপির সভাপতি। একই সঙ্গে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ১৮দলীয় ঐক্য জোটের আহবায়ক করা হয়। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। বিএনপি প্রথম দিকে তাকে সমর্থন দিলেও ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর