কদমরসুল পৌরসভার জন্ম বিলুপ্তি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা


নাসিম আফজাল | প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার
কদমরসুল পৌরসভার জন্ম বিলুপ্তি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ‘ক’ বিশেষ শ্রেণির নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা হতে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়কে আলাদা করে ২৭ আগস্ট ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে ‘গ’ শ্রেণিভুক্তির তিলক ললাটে লিখে মদনগঞ্জ, বন্দর, কদমরসুল ও নবীগঞ্জ ইউনিয়ন সম্বলিত চারটি অঞ্চল নিয়ে ‘কদমরসুল’ পৌরসভা নামে জনপ্রতিনিধিবিহীন একটি পৌরসভা যাত্রা শুরু করে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আলাদা হয়ে কেন কদমরসুল পৌরসভা ও কোন প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ৫ মে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তির জন্য কেন-ইবা বন্দরবাসীর আর্তি ছিল নিদারুণ, করুণ!

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে আলাদা হওয়ার পর কদমরসুল পৌরসভা এলাকাভুক্ত নাগরিক তাদের নানাবিধ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

জবাবদিহীবিহীন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি দ্বারা জন্মাবদি বিলুপ্ত কদমরসুল পৌরসভাটি পরিচালিত হওয়ায় এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ছিল টপ টু বটম।

প্রশাসক থেকে পিওন পর্যন্ত ছিল দুর্নীতি পরিবারভুক্ত। সেবা গ্রহণে আগত বন্দরবাসীদের দেখে মনে হতো তারা হয় বোকা অথবা অতিভদ্রজন।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে কেন আলাদা হয়ে কদমরসুল পৌরসভা হয়েছিল সেই তলানিতে বন্দরের জনগণ অবগাহন করেনি। যারা অবগত ছিলেন তাদের মতে শ্বশুর জামাইয়ের দ্বন্দ্বই নাকি ‘ক’ শ্রেণি থেকে বন্দরবাসীকে ‘গ’ শ্রেণিতে নামিয়ে এনেছিল।

জানা যায়, বন্দর উপজেলা কমপ্লেক্সটি নবীগঞ্জের কাছে স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল উক্ত এলকার একজন জনপ্রতিনিধির। অন্যদিকে সেই জনপ্রতনিধির ভ্রাতুষকন্যা জামাতা সেটি মেনে নিতে পারেনি। শ্বশুর জামাতার সাথে এই বিষয়টি নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনাও হয়। বন্দরের কাছাকাছি বা মাঝামাঝি স্থানে কমপ্লেক্সটি স্থাপনের জন্য জামাতা প্রস্তাব করেন।

নবীগঞ্জকে মধ্যস্থান মনে করেন শ্বশুর অন্যদিকে জামাতা বন্দর এলাকাকে মিডেল পয়েন্ট প্রস্তাব করলে সিদ্ধান্তহীনভাবে আলোচনা ভেঙে যায়। জামাতা-শ্বশুর দুইজনই বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক নেতা বা আমলা পর্যায়ের উচ্চ মহলে জামাতার দখল ছিল প্রচন্ড। অন্যদিকে আমলা পর্যায়ে শ্বশুরের ঘাটতি ছিল ততোধিক। ফরে শ্বশুরকে ঘুমে রেখে বন্দর উপজেলা কার্যালয়টি কলাগাছিয়া ইউনিয়নস্থ আলী নগরের উত্তর-পশ্চিমে হাজী আলম চান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন স্থানে জামাতা প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন করিয়ে নেন। জামাতার এমন কর্মকান্ডে শ্বশুর ক্ষুব্ধ হন ও উক্ত অনুমোদন বাতিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতাকে বুকে ধারণ করেই শ্বশুর ইহলোক ত্যাগ করেন।

দুষ্টজনদের মতে, উক্ত প্রয়াত পিতার সুযোগ্য সন্তান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন ও পিতারই রাজনৈতিক আসন প্রাপ্ত হয়ে ভগ্নিপতির সাথে জেদের ফলোশ্রুতিতে নিজ সরকারকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ ‘ক’ বিশেষ শ্রেণির পৌরসভা থেকে আলাদা করে বন্দর থানার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘গ’ শ্রেণির বদমরসুল পৌরসভা ঘোষণা করেন এবং নবীগঞ্জ এলকাস্থ একরামপুর এলকায় একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে এর কার্যক্রম চালু করেন।

লেখার প্রারম্ভিকে যাই থাক, প্রাসঙ্গিক আলোচ্য বিষয় হলো কদমরসুল পৌরসভা চালু হওয়ার পর প্রকৌশল বিভাগের আওতায় সড়ক উন্নয়নের কাজের জন্য রোড রোলার ও একটি মটর সাইকেল ক্রয় করা হয়েছিল যা বিধ্বস্ত অবস্তায় অবহেলায় আজো স্মৃতি বহন করে চলছে। রোড রোলার ও মোটর সাইকেলটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনস্থ কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমুখে খোলা আকাশের নিচে অযত্ম অবহেলায় ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে।

কদমরসুল পৌরসভার শেষ স্মৃতি নিদর্শন হিসাবে উল্লিখিত রোলার ও সাইকেলটি ভবনের সম্মুখের খালি স্থানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিষয়টির উপর মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঠিক, সুচিন্তিত পদক্ষেপ স্মৃতি সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মধ্য সময়ের সতেরটি বছরে বন্দরবাসী উন্নয়নের বদলে অবনতির অতলে নিমজ্জিত ছিল।

পুনশ্চ : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বন্দরবাসীর দৈন্যদশা ঘুচেছে যা নিয়ে অঞ্চলবাসী যথার্থই গর্ববোধ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর