ফতুল্লার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মিরু ডিবিতে আটক


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
ফতুল্লার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মিরু ডিবিতে আটক

হুইল চেয়ারে বসে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রন করা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলার কুতুবপুরের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মিরু হোসেন মিরুকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে তাকে কুতুবপুর থেকে আটক করা হয়।

ডিবির ওসি আলমগীর হোসেন হোসেন, মিরুর বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। তাকে ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত গত কয়েক মাস তিনি কিছুটা নিস্ক্রিয় ছিলেন। কিন্তু আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠতে শুরু করেছেন মিরু। ফের হুইল চেয়ার আর রিকশায় চড়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছেন অপরাধ জগত।

প্রায় দেড় ডজন মামলার এ আসামী সবশেষ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন পুলিশের এক সদস্যকে। প্রকাশ্যে আঙুল উচিয়ে শাসিয়ে দেন ওই পুলিশকে। এ নিয়ে এখন শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। কোথায় হতে এত সাহস পেলেন সেটাই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মীর হোসেন মিরু নিজেকে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তার কোনো পদ নেই। কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন।

জানা গেছে, মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা, মারামারি ও চাঁদাবাজী মামলাসহ সর্বমোট ১৯ মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে অর্ধশত। পাগলা বউ বাজার ও শাহী মহল্লার মাদকসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে মীরুর রয়েছে বিশাল বাহিনী। মীরু এক মূর্তমান আতঙ্ক। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও রয়েছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেনি মীরু।

সম্প্রতি পাগলায় খুন হন রাজীব ওরফে ভিপি রাজীব। এর বিচার দাবীতে ১২ অক্টোবর ফতুল্লার পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ড মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

সেখানে মিরু সহ অন্যরা উপস্থিত হন। সেখানে পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কর্মকর্তা আবদুল মতিন উপস্থিত হলে তাকে শাসাতে থাকে।

তাকে মিরু বলেন, ‘আপনি কি আলাউদ্দিনের লোক। কেন এখানে আসছেন। আপনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ করেন। যদি না করেন তাহলে কেন আমাদের লোকজনদের দৌড়ানি দিবেন। এসব ভালো না। আগের ইতিহাস করাবেন না।’

ডিএসবির কনস্টেবল আব্দুল মতিন বলেন, মিরু তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজসহ দেড় ডজন মামলা রয়েছে। পাগলায় মীরুর নেতৃত্বে ভিপি রাজিব হত্যার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে আমি উপস্থিত হওয়ার পর মীরু আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়। আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। কী কারণে মিরু আমার সঙ্গে এমন আচরণ করলো তা বুঝতে পারিনি।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, মীরু কেন একজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণ করলো তা খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় হত্যাসহ দেড় ডজন মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত করে দেখব। যার দোষ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারী মীরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ ছিল। ওই ঘটনায় সে গ্রেপ্তারও হয়।

২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর ফতুল্লার পাগলায় আওয়ামী জনতা লীগের নেতা শেখ স্বাধীন মনির হোসেনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে মিরু বাহিনী। ২০ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে জনতা লীগ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে ফতুল্লার কুতুবপুরের সেচ্ছাসেবক লীগ ক্যাডার মীর হোসেন মীরু ও তার বাহিনীর ফাঁসির দাবী করা হয়। পরে ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল ল্যাংড়া মিরু।

২০১৫ সালের ১০ জুন ফতুল্লার পাগলা রসুলপুরে মাদক ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় ব্যবসায়ী নূরুল হককে হত্যার হুমকি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বৃদ্ধ মায়ের সামনে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা পরিচয় দানকারী মির হোসেন মিরু বাহিনীর লোকজন। ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী পাগলা শাহী বাজার এলাকায় ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (ডিশ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিতে শাহজাহান নামের এক ডিস কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করে মিরু বাহিনী।

২০১২ সালের ৩ নভেম্বর রাতে নিজ বাসা থেকে মীরু এবং তার সহযোগী ইকবালকে ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি পিস্তল ও ১৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০। ২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মীরু বাহিনী ভাঙ্গাপুল এলাকায় গিয়ে জাকের পার্টি নেতা হোসেনের বাড়ির সামনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ২০১৪ সালে বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নেয়ার অপরাধে এই বছরের ২৮ এপ্রিল রাতে স্থানীয় দুই সহোদর আব্দুর রহমান ও সজলকে শাহী বাজার এলাকার একটি দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় মীরু বাহিনী। ২০১৫ সালের ১০ জুন নূরুল হককে নামে এক ব্যবসায়ীকে তার মায়ের সামনেই পিটিয়ে হত্যা করে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। ফতুল্লা মডেল থানায় মীরুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ১৯ মার্চ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী মীরুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর দু’দিন আগে এক এএসসি পরীক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায় মীরু বাহিনী। এ হামলায় ২০ জন নিরীহ এলাকাবাসী আহত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর