ডিএনডি প্রকল্পের রড চুরি আরো ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার
ডিএনডি প্রকল্পের রড চুরি আরো ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া ক্যানেলপাড়স্থ ডিএনডি প্রকল্পের সেতু নির্মাণের ১৩ টন রড লুট করার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আরো ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক লুন্ঠিত ১৩টন রডের মধ্যে সাড়ে ৪ টন উদ্ধার সহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক (নারায়ণগঞ্জ-ট-০৫-০০৬২) জব্দ করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো শরিয়তপুর জেলার গোসাইহাট থানার বড় কাচনা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে ও ঢাকার শ্যামপুর বটতলার নুরু মিয়ার ভাড়াটিয়া কালু মিয়া (৩৫), ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাতগাঁওয়ের মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে নান্টু মিয়া (৪০), পটুয়াখালি জেলার গলাচিপা থানার আমির বাড়িয়া গ্রামের হাফেজ হাওলাদারের ছেলে রিয়াজ (৪৫) ও কেরানীগঞ্জের চন্ডিপুরের হাজী রেজাউল করিমের ছেলে মাসুদ (৩০)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল বুধবার রাত ১০ টায় ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সরকার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমানুর, এসআই আসাদ সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে ফতুল্লার সাইনবোর্ড থেকে প্রথমে কালুকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মেতাবেক কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা বাজার, ডাকপাড়া থেকে নান্টু মিয়াকে আটক করে। ডাকপাড়া নাদিয়া ট্রেডার্সের সামনে থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও নাদিয়া ট্রেডার্সের ভেতরে লুকায়িত থাকা ৫৫০ কেজি লুন্ঠনকৃত রড উদ্ধার করে পুলিশ। একই এলাকা থেকে রিয়াজকে আটক করে পুলিশ। রিয়াজের স্বীকারোক্তি মোতাবেক কেরানীগঞ্জের আটিপাড়াস্থ রেজা হাডওয়ার্ডের মালিক মাসুদকে আটক করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তিমোতাবেক তার মালিকানাধীন রেজা হাডওয়ার্ডের ভিতরে থাকা ৪৬ বান্ডিলে থাকা লুন্ঠনকৃত ৪ টন রড উদ্ধার করে পুলিশ।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শত সঞ্জয় সরকার জানান, ১৮ মার্চ রাতের কোন এক সময়ে ডিএনডি প্রকল্পের (সেনাবাহিনীর আওতাধীন) কুতুবপুর দেলপাড়াস্থ ক্যানেল পাড়ের সেতু নির্মাণের কাজের জন্য নিয়ে আসা সায়ীদ এন্টার প্রাইজ ও জেআর এন্টারপ্রাইজের ১৩ টন রড কে বা কারা নিয়ে যায়।এ ঘটনায় নির্মাণাধীন সেতু তৈরীর দায়িত্বরত ঢাকার মিরপুর পল্লবীর সায়ীদ এন্টার প্রাইজ ও জেআর এন্টারপ্রাইজের প্রজেক্ট ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯মার্চ অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারে যে ১৩ টন রড নিয়ে যাওয়ার পেছনে আন্তঃ জেলা একটি অপরাধী চক্র জড়িত রয়েছে। এরপর তারা অভিযান চালিয়ে মার্চ মাসের শেষের দিকে ইব্রাহিম ও জাফর কে গ্রেফতার করে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িতের বিষয়টি স্বীকার সহ তাদের সহোযোগিদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে।সেই সূত্র ধরেই বুধবার (৮এপ্রিল) রাতভর অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও লুন্ঠনকৃত ১৩ টন রডের মধ্যে সাড় ৪ টন রড সহ চার জনকে তারা গ্রেফতার করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর