হয়রানী না করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি বিকেএমইএর


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১, সোমবার
হয়রানী না করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি বিকেএমইএর

নীট গার্মেন্টসগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু না থাকা সাপেক্ষে কারখানার নিরাপত্তা ও সংরক্ষনের স্বার্থে নিয়োজিত স্বল্প সংখ্যক জনবল ও উদ্যোক্তাদের কারখানায় অবস্থানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার হয়রানী না করতে দেশের কয়েকটি জেলার প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ ।

সোমবার ২৬ জুলাই সংগঠনটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান স্বাক্ষরিত উক্ত চিঠিটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্রগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লা ও ফেনীর জেলার প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যদি কোন শিল্প কারখানা খোলা রেখে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখে সেক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এতে করে বিকেএমইএ এর কোন প্রকার আপত্তি নেই। কিন্তু কারখানার রক্ষনাবেক্ষনে জন্য কারখানার অভ্যন্তরে কিছু সংখ্যক জনবল অথবা উদ্যোক্তরা অবস্থান করলে তাদেরকে কোন অবস্থায় হয়রানী না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিকেএমইএ কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত চলমান লকডাউনের প্রতি বিকেএমইএ’র পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সবার আগে মানুষের জীবন এবং রাষ্ট্রীয় শৃংখলা। তাই লকডাউন বিষয়ে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ প্রতিপালনে আমরা প্রতিশ্রুতবদ্ধ।

তবে এ বিষয়ে অবহিত করা প্রয়োজন যে, নিট শিল্প কারখানাগুলো বিরাট পুঁজি নির্ভর ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ রপ্তানিমুখী শিল্প। চলমান লকডাউনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই শিল্পে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এত বড় বড় কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে কারখানার অভ্যন্তরে বাধ্যতামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক লোকবল নিয়োজিত রাখতে হয়। কারখানা বন্ধ থাকার সময় গ্যাস ও বিদ্যুতের চাপ বেশি থাকে। তার উপর বর্তমানে প্রচন্ড গরম পরেছে। ফলে প্রতিনিয়ত গ্যাস ও বিদ্যুতের নিয়ন্ত্রণ সুইচ বোর্ড চেক করতে হয়, অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। ফলে এই বিষয়গুলি মনিটরিং করার জন্যও বর্তমান সময়ে কারখানাগুলোতে স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়োজিত রাখতে হচ্ছে।

কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত মেশিনারীজগুলো অত্যন্ত ব্যয় বহুল এবং এগুলোর নিয়মিত চেকিং প্রয়োজন। অন্যথায় মেশিন চালু না থাকলে যেকোন সময় মেশিনগুলো অকেজো হয়ে যেতে পারে। এধরনের সংবেদনশীল মেশিনগুলোর মধ্যে রয়েছে, বয়লার, বৈদ্যুতিক মটর, গ্যাস জেনারেটর ইত্যাদি। এইসমস্ত মেশিনগুলো কোন কারণে অকেজো হয়ে গেলে পুনরায় মেরামত করতে বিশাল অংকের টাকার প্রয়োজন হয়। তাই চলমান লকডাউনে এই সব দামী মেশিনারীজগুলো রক্ষনাবেক্ষন ও মনিটরিং এর জন্য আমাদের কারখানায় স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়োজিত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

লকডাউনকালীন সময়ে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ফ্যাক্টরী তাদের কারখানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, ফ্যাক্টরী ভবনের রং ও রিপেয়ারিং করার সুযোগ পান। এই কাজ পরিচালনার জন্যও কিছুসংখ্যক লোকবলের প্রয়োজন হয়। যার সাথে উৎপাদনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

কিন্তু বর্তমানে ক্ষেত্র বিশেষে কারখানার উদ্যোক্তা ও অত্যাবশ্যকীয় ওইসব জনবলকে তাঁদের নিজ নিজ কারখানায় যেতে প্রচুর বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন, সরকার লকডাউন নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানেও আমদানী রপ্তানির স্বার্থে ব্যাংক, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা আছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এমন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় প্রশাসনের লোকজন কারখানা খোলা দেখতে পেলে উদ্যোক্তাদের নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন এবং সে কারণে তাদের হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে। আমরা কোনভাবেই চলামান লকডাউনকালীন সময়ে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালুর পক্ষে নই। তাই কোন কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলমান পাওয়া গেলে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপনারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করলে তাতে বিকেএমইএ’র কোন আপত্তি নেই। তবে কারখানার নিরাপত্তা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সুইচ বোর্ড মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনা এবং মেশিনারিজ নৈমিত্তিক পরিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উক্ত স্বল্প সংখ্যক জনবল ও উদ্যোক্তাদের কারখানায় উপস্থিত থাকলে, বিশাল বিনিয়োগকৃত এই শিল্পের স্বার্থে তাদেরকে যেন কোনভাবেই হয়রানি করা না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

একইসাথে উল্লেখিত ব্যক্তিদের উক্ত কাজের উদ্দেশ্যে কারখানায় যাতায়াতে রাস্তায় যেন কোন রকম হয়রানির শিকার না হয়, তার সুবন্দোবস্ত করার জন্য আপনার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর