নারায়ণগঞ্জে পশু বিক্রি ৯০০ কোটি টাকা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪৬ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১, সোমবার
নারায়ণগঞ্জে পশু বিক্রি ৯০০ কোটি টাকা

এবার পবিত্র ঈদুল আযহায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ৯০০ কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। মোট পশু বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার। এরমধ্যে গরু বিক্রি হয়েছে ৫৫ হাজার, ছাগল ৫০ হাজার ও ভেড়া ৩০ হাজারের মত। গরু, ছাগল মিলিয়ে চামড়া সংগ্রহের টার্গেট ছিল ১ লাখ পিস। চামড়া সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস। পশু বিক্রেতা ও হাট ইজারদার সূত্রে জানাগেছে, এবার জেলায় গরু বিক্রির হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা, ছাগল বিক্রি হয়েছে ১০০ কোটি টাকা ও ভেড়া বিক্রি হয়েছে ৪০ কোটি টাকার। তাছাড়া অনলাইনে পশু বিক্রি হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এবার ঈদের জন্য কয়েকদিন লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ জেলায় সবপশু বিক্রি হয়েছে। কোন হাট থেকেই পশু ফেরত যায়নি বলে জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্র দাবি করেছে।

হাট ইজারাদারগণ বলছেন, ঈদের দু’দিন বাকি থাকতেই হাটের ৭০ ভাগ পশু বিক্রি হয়ে গেছে। আকাশে মেঘ করেছিল। গরুর বেপারীরা একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কোন সমস্যা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বেপারীদের মুখে হাসি ফুটেছে। নারায়ণগঞ্জের হাটে তোলা সব পশু বিক্রি হয়ে গেছে। অবিক্রিত কোন পশু ছিল না।

সূত্রমতে, অনেকেই এবার কোরবানি দেয়া না দেয়া নিয়ে হতাশার দোলাচলে দুলেছেন। শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছিল কোরবানির পশুর হাটগুলো। জুন মাসের শুরু থেকেই কঠোর লকডাউন ছিল। জুলাই মাসে ঈদের জন্য কয়েকদিন লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। বছর জুড়েই ব্যবসা-বাণিজ্যে চলছিল স্থবিরতা। তবুও শেষমেষ অনেকেই কোরবানির প্রস্তুতী নেন। কিনেছেন পছন্দের গরু। এবার বেশি গরু বিক্রি হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার ২০২১ সালে ৭৫ টি হাট বসেছিল। ডিজিটাল যুগে বিভিন্ন খামারেই গরু কিনে অনেকে রেখে দিয়েছিলেন। ঈদের আগের দিন অথবা দু’দিন আগে কোরবানিদাতা খামার থেকে গরুটি নিয়ে আসেন। গত কয়েক বছর ধরে প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জ শহরে ‘অনলাইন খামার’ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অনলাইন খামারের মাধ্যমে এবার ঈদের আগে ১০০ কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার। তাঁরমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৩৩ টি অনলাইন খামার রয়েছে। এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ। কোরবানির পশু উৎপাদন হয়েছে দেড়লাখ। ৩৩ টি অনলাইন খামারের ১০০ কোটি টাকার পশু বিক্রি হয়ে গেছে। শেষ মূহুর্তে এসে খোলা হাটেও পশু বিক্রি জমে উঠেছিল।

প্রতি বছর জেলায় ৭০/৮০ টি হাট বসলেও এবার প্রথম দিকে ৫০ টির মত হাট বসতে পারে বলে আলোচনা হয়েছিল তবে শেষমেষ ৭৫ টি হাট বসেছে। অনলাইন খামারগুলোতে বিদেশের মত উন্নত সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। কোরবানিদাতা চাইলে পশু জবাই করে তাঁর বাড়িতে মাংস পৌঁছে দেয়া যাবে। কোরবানির দ্বিতীয় দিনেও তা সম্ভব। খামারীরা আশা করছেন তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে।

সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার ২০২১ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোরবানির টার্গেট ছিল ১ লাখ। চামড়া সংগ্রহের টার্গেটও ১ লাখ। পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার। এবারের টার্গেট পুরণ হয়েছে। মোট পশু বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার। এরমধ্যে গরু বিক্রি হয়েছে ৫৫ হাজার, ছাগল ৫০ হাজার ও ভেড়া ৩০ হাজারের মত। গরু, ছাগল মিলিয়ে চামড়া সংগ্রহের টার্গেট ছিল ১ লাখ পিস। চামড়া সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস। পশু বিক্রেতা ও হাট ইজারদার সূত্রে জানাগেছে, এবার জেলায় গরু বিক্রির হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা, ছাগল বিক্রি হয়েছে ১০০ কোটি টাকা ও ভেড়া বিক্রি হয়েছে ৪০ কোটি টাকার। তাছাড়া অনলাইনে পশু বিক্রি হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।

জানাগেছে, ২০২০ সালে সরকারিভাবে ১ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের টার্গেট ছিল। সেবারও টার্গেট পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০২০ সালে জেলায় মোট ৯৯ হাজার ৯৬৩ টি চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল। এর মধ্যে গাভী/বকনা ছিল ১১ হাজার ৫৭০ টি, ষাড়/বলদ ৪৯ হাজার ১৬৯ টি ও মহিষ ৩৪৭ টি, ছাগল ৪১ হাজার ৩৫২ টি, ভেড়া ৭ হাজার ৫০৫ টি ও উট-দুম্বা ২০ টি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় গাভী/বকনা জবাই হয়েছিল ১৩১০ টি, ষাড়/বলদ ৮৫৯৫ টি, মহিষ ৫৫টি, ছাগল ১০৪১২ টি ও ভেড়া ২৩৩৫ টি। বন্দর উপজেলায় জবাই করা হয়েছিল গাভী/বকনা ৬৫১৫ টি, ষাড়/বলদ ৭১২৪ টি, মহিষ ১৫ টি, ছাগল ২৫১৫ টি ও ভেড়া ১০৯ টি। সোনারগাঁও উপজেলায় জবাই হয়েছিল গাভী/বকনা ১০৭০ টি, ষাড়/বলদ ৭৯৮০ টি, মহিষ ৯৫ টি, ছাগল ১০৪৪৫ টি ও ভেড়া ১৩২২ টি। রূপগঞ্জ উপজেলায় জবাই হয়েছিল গাভী/বকনা ১১২০ টি, ষাড়/বলদ ৭৪১০ টি, মহিষ ৫০ টি, ছাগল ৯৮৯০ টি ও ভেড়া ২০৫৯ টি। আড়াইহাজার উপজেলায় জবাই হয়েছিল গাভী/বকনা ২০৫৫ টি, ষাড়/বলদ ৮০৬০ টি, মহিষ ১৩২ টি, ছাগল ৮০৯০ টি ও ভেড়া ১৬৮০ টি।

দ্বিগুবাবুরবাজারে মাংসপট্টিতে এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এবার ২০২১ সালে জেলায় এক লাখ ত্রিশ হাজার পিস পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়েছে। চামড়ার কারবারে লোকসান হয়নি। সেবার চামড়ার দাম উঠেছিল সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

৫০০ টাকার চামড়া সংরক্ষণ করতে ১০০ টাকার লবণ লাগে। মোটামুটি ৮০০ টাকা দরে চামড়া বিক্রি করতে পারলে লাভ হবে। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারনে ২০১৯ সালে লোকসান গুণতে হয়েছিল। ২০২০ সালে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মাঠে নামেনি। জেলায় প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা ২০০ জন। এবার প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই মাঠে ছিলেন। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ঠিকমত চামড়া কিনতে পারেনা বিধায় লোকসান খেতে হয়। যা ২০২০ সালে হয়নি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২০১৯ মার খেয়েছিল চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ বছর কোরবানির পশু বিক্রির টার্গেট ১ লাখ। টার্গেট ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০ সালে চামড়ার দাম ছিল স্থিতিশীল। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার বলেছেন, ২০১৯ সালের কারণ গুলি চিহ্নিত করে আমরা এ বছর প্রতিটি উপজেলায় চামড়া সংগ্রহকারী কসাই ও তাদের সহযোগীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম। যাতে সঠিক পদ্ধতীতে চামড়া সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নামমাত্র মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ে বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০২০ সালেও ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় গরুর চামড়ার দরে হতবাক হয়েছে পশু কোরবানিদাতা ও দেশের সাধারণ মানুষ। আর প্রকৃতমূল্য না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের এতিম, দুস্থ মানুষ ও লাখ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থী।

সরকার নির্ধারিত মূল্যকে তোয়াক্কা না করে মওসুমি ব্যবসায়ীরা নামমাত্র দামে পশু কোরবানিকারীদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনেছে। এ দিকে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আর বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বিভিন্ন খাতের মতো এখানেও লুটপাট করে খাওয়ার জন্যই কাঁচা চামড়ার মূল্য নিয়ে খেলছে।

২০১৯ সালে কমদামে বিক্রি না করে কোরবানির পশুর কয়েক হাজার চামড়া সড়কে ফেলে দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। পরের বছর ২০২০ সালে সেই চিত্র দেখা যায়নি। তবে চামড়ার দাম করোনার কারনে পড়ে গিয়েছে। এ বছর ২০২১ সালে চামড়া ব্যবসায়ীরা আশা করছেন চামড়ার ব্যবসা ভাল হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর