চাষাঢ়ায় বিক্ষোভ, আন্দোলনে সিনহা শ্রমিকেরা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:১৫ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার
চাষাঢ়ায় বিক্ষোভ, আন্দোলনে সিনহা শ্রমিকেরা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকার ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের গার্মেন্টস ইউনিট এবং ওয়াশ প্লান্ট সহ সকল ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক। এসময় শ্রমিকেরা বকেয়া দুই মাসের বেতন, কারখানা খুলে দেওয়া ও শ্রম আইন অনুযায়ী চাকরির ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় এক সপ্তাহ পর কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছেন শ্রমিকেরা।

২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী অীধকার আদায় কমিটির ব্যানারে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সিনহা গার্মেন্টেসের শ্রমিক মো. হালিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন অন্দোলনের ফলে মালিকপক্ষ আমাদের বকেয়া ৩ মাসের বেতনের মধ্যে দুই মাসের বেতন গত ১৭ অক্টোবর পরিশোধ করে। কিন্তু বেতন নিয়ে পরদিন কাজে এসে দেখি নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। কিন্তু এখনও আমরা বকেয়া একমাস সহ চলতি মাসের বেতন পাবো। কবে বেতন দিবে, কবে কারখানা খুলবে এসব কোন কিছু লিখেনি।’

শ্রমিক আকলিমা বেগম বলেন, ‘এ কারখানায় আমি ১৪ বছর ধরে কাজ করি। হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দিবে? আমাদের জানাবে না। এখন হঠাৎ করে কোথায় গিয়ে চাকরি নিবো। বেতনও দেয়নি। চাকরি নেই বাসা ভাড়া কোথায় থেকে দিবো আর খাবো কি।

মর্জিনা বেগম বলেন, ‘এখানে ১০ থেকে ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করে। এভাবে কোন ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের বিপদে ফেলে দিয়েছে। আমাদের অন্তত দুই মাস আগে জানাবে। আমাদের সকল পাওনা পরিশোধ করে দিবে। এখন আমরা কোথায় যাবো?

জামিলা বেগম বলেন, ‘আমরা কারখানার সামনে আন্দোলন করতে চেয়েছি। কিন্তু মালিকপক্ষের লোকজন বাইরে লোকজনদের দিয়ে আমাদের হুমকি ধমকি দিয়েছে। আন্দোলন করলে আমাদের মারধর করা হবে। তাছাড়া আমরা আমাদের পাওনা চেয়ে আন্দোলন করলেও পুলিশ পানি দেয়, গ্যাস ছাড়ে আবার গুলিও করে। তাই শহরে আসছি।’

শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলার সভাপতি এমএ শাহীন বলেন, ‘কোন কারখানা বন্ধ করলে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সময় দিয়ে এবং সকল পাওনা পরিশোধ করে বন্ধ করতে হয়। কিন্তু সিনহা গার্মেন্টস মালিকপক্ষ সেটা করেনি। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।’

ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপের পরিচালক (প্রশাসন) কমান্ডার বানিজ আলীর (অবঃ) স্বাক্ষরিত কারখানাবন্ধের নোটিশে জানানো হয়, ‘গ্রুপের স্বত্বাধিকারী ২০১২ সাল থেকে সমস্ত গার্মেন্টস কারখানায় আর্থিক ক্ষতি হওয়া সত্বেও ঋণ করে এবং জমি বিক্রি করে সকলের বেতন ভাতা ও অন্যান্য খরচ প্রদান করে কারখানা চালু রেখেছিলেন। কিন্তু করোনায় অর্ডারের অভাব, শ্রমিককর্মচারীদের বিশৃঙ্খলা, শ্রমিকদের কাজে অনিহা ও নি¤œদক্ষতা এবং সময়ে সময়ে কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কারণে কারখানা খোলার সমস্ত পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং মালিকের আর্থিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় বর্তমানে কারখানা আর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় মালিকের কারখানা চালিয়ে রাখার মতো আর্থিক সঙ্গতি বা সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়ে শিল্প ও শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইন অনুযায়ী ওপেক্ষ গ্রুপের কাঁচপুর শাখার সকল গার্মেন্টস ইউনিট এবং ওয়াশ প্লান্টসহ সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিট ১৯ অক্টোবর থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হল।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়,‘ বকেয়া বেতন সহ পাওনাদি পরিশোদের ক্ষেত্রে শ্রমমন্ত্রণালয়/শ্রমঅদিদপ্তর বিজিএমইএ, শ্রমিক প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং পরিশোধ করা হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর