হাইস্কুলে পরীক্ষার খাতা জমা না নিয়েই দ্বিতীয় মূল্যায়ন পরীক্ষা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪৬ পিএম, ০৬ জুন ২০২১, রবিবার
হাইস্কুলে পরীক্ষার খাতা জমা না নিয়েই দ্বিতীয় মূল্যায়ন পরীক্ষা

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে আবারো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে ৩০০ টাকা করে ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশু শ্রেণী হতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই পরিমাণের ফি আদায় করা হচ্ছে।

গত ২ জুন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এমন একটি নোটিশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে স্কুলে সাটানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে আগামী ১৪ জুন হতে শিশু হতে দশম শ্রেণীর প্রত্যেকের মূল্যায়ন পরীক্ষা-২ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সাথে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট-২ গ্রহণ করা হবে। সেই লক্ষ্যে আগামী ২ জুন হতে ১০ জুনের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর জুন সহ বকেয়া বেতন এবং মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা ফি অবশ্যই স্কুলে জমা দিতে হবে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা জানান, করোনার সময় স্কুল বন্ধ থাকলে গত ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে মূল্যায়ন পরীক্ষা জন্য ৩০০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউনের কারনে সেই পরীক্ষার খাতাই এখন পর্যন্ত জমা নেয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে উনারা আবারা মূল্যায়ণ পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা করে ফি আদায় করছেন। উনারা অভিভাববকের কোন কথাই শুনতে চায়না।

বর্তমানে সরকারী ভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন প্রকার ফি নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রথম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে পরীক্ষা ফি আদায় করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। পরীক্ষার ফি নেওয়া এমন একটি রশিদ নিউজ নারায়ণগঞ্জের হাতে এসেছে। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন করোনাকালীন সময় স্কুলগুলোতে এভাবে ফি নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কোন নির্দেশনা নাই। তবে পরীক্ষা ফি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি নন।

জানা গেছে দেশে সালে করোনা প্রার্দুভাব শুরু হলে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ সরকার সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা করেন। লকডাউনের কারণে কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার। করোনার কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অটোপাশের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সবশেষ তথ্যমতে আগামী ১৩জুন থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ব্যাপারে বেশ কিছু গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে। ওই গাইড লাইনে উল্লেখ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দুই মাসের মধ্যে কোন প্রকার পরীক্ষা নেওয়া যাবেনা।

সরকারী নিদের্শনা ও মাউশির দেওয়া গাইড লাইনের তোয়াক্কা না করে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজ প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে পরীক্ষা ফি আদায় করে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহন করছেন।

এর আগে নিউজ নারায়ণগঞ্জডটকমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, করোনা কালীন সময় এক সময়েরর অধিক সময় ধরে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েকমাস পূর্বে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও স্কুলের বেতন, জেনারেট বিল, সহ যাবতীয় সকল খরচই স্কুল কর্তৃপক্ষ আদায় করছেন। এর মধ্যে পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা করে ফি আদায় করেছেন তারা। ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ৭এপ্রিল উক্ত পরীক্ষার খাতা জমা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারনে ওই সময়ে আর খাতা জমা নেওয়া হয়নি। স্কুল থেকে শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রশ্ন গুলো গুগল ক্লাস রুম অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উত্তর লেখার জন্য স্কুল থেকে খাতা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার ফি নিয়ে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহন করতে পারেন কিনা এ বিষয়ে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা: আফরোজা বানু এর কাছে জানতে চাওয়া হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, সরকারী নিয়ম গুলো টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। সেভাবে আমরাও জানি, স্কুল গুলোও জানে, আপনারাও জানেন। দেশের প্রতিটি মানুষ জানে। এখন যদি এটা কেউ না মানে তখন আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু এই মুহুর্তে কেউ পরীক্ষার জন্য ফি নিতে পারে না।

এ ব্যাপারে এর আগে ১৮ এপ্রিল জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমার জানামতে বর্তমানে স্কুল গুলোতে পার্বিক পরীক্ষা নেওয়ার কোন নির্দেশনা নেই। যার যার বাসায় থেকে অনলাইনে শ্রেনী কার্যক্রম চলছে। নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে পরীক্ষা ফি আদায় করার ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন কোন নির্দেশনা আমার জানা নাই। আপনার কোন বক্তব্য থাকলে আপনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিডিয়াতে নিয়ে আসেন। আপনি আপনার কাজটা করেন আমরা আমাদের কাজটা করবো।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর