শিক্ষার্থীদের ডেকে পরীক্ষা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:৪২ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার
শিক্ষার্থীদের ডেকে পরীক্ষা

কঠোর লকডাউন বা কঠোর বিধি নিষেধে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ভূঁইগড় এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ডেকে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সকল বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ পরীক্ষা নেয়।

শিক্ষকদের দাবি, নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাই মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্যথায় শিশুদের প্রাইভেটে পড়াবে না হুশিয়ারী দেয়। যার জন্য বাধ্য হয়ে সকল শিক্ষকরা শুধু মাত্র প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়।

শনিবার সকালে উপজেলার ভূঁইগড় ‘আলী আকবর একাডেমী’ নামে কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে ওই পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে শিশু থেকে দশম শ্রেনি পর্যন্ত ৬০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে স্কুলের সামনে উপস্থিত থাকা কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন তাদের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক বাচ্চাদের স্কুলে উপস্থিত রেখে শিক্ষকেরা পরীক্ষা নিচ্ছে। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছে স্মার্টফোনে কিন্তু তারা সকল বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক স্কুলে উপস্থিত করেছে।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, এই করোনা কালীন সময়ে বর্তমানে আমরা খুব আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে আছি স্কুল কর্তৃপক্ষ তা না ভেবে আমাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করে সকল বকেয়া পরিশোধ করে তারা পরীক্ষা নিচ্ছে, কোনভাবেই তারা শিশুদের করোনা ঝুঁকির কথা ভাবলো না। স্কুলে থাকা শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন তাদের স্কুলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই নিম্নআয়ের পরিবারের তাদের ঘরে স্মার্ট ফোন না থাকায় তাদেরকে স্কুলে ডেকে এনে পরীক্ষা নিচ্ছে কিন্তু অভিভাবকেরা অধিকাংশই বলছেন তাদের সবার ঘরেই স্মার্ট ফোন আছে শিক্ষকরা বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে তারা জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের স্কুলে ডেকে এনে পরীক্ষা নিচ্ছে।’

স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আমরা বেতন পাচ্ছি না। খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। এ সময় আমরা স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকা কিছু শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বাসায় গিয়ে পড়াই। ফলে তাদের অভিভাবকেরা চায় শিক্ষার্থীদের একটা পরীক্ষা নেওয়া হোক। যাতে তারা কেমন পড়ালেখা করছে এ বিষয়ে জানতে পারে। আমরা তাদের বলেছি যে স্কুল বন্ধ সেহেতু স্কুল চালু হলে এটা নেওয়া হবে। আপাতত এভাবে চলতে থাকুক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরিবারের লোকজন সেটা মানতে রাজি না তারা আর শিক্ষার্থীদের পড়াবে না এমন হুশিয়ারীও দেয়। তাই বাধ্য হয়ে স্কুলের সব শিক্ষক মিলে এ মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে শিশু শ্রেনি থেকে দশম শ্রেনি পর্যন্ত সময় আলাদা করে ৬০ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতিটি পরীক্ষা ছিল ২০ নম্বরের। ফলে ১০ মিনিট করে পরীক্ষা দিয়ে দ্রুত নিরাপদে শিক্ষার্থীরা বাসায় চলে যেতে পারছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভিভাবকদের অনুরোধে আমরা এ পরীক্ষার আয়োজন করেছিলাম। এখন এ অভিভাবকেরাই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আমরাতো চাইনি স্কুলে পরীক্ষা নিতে। আর পরীক্ষা নিলে সব শিক্ষার্থীর নেওয়া হতো এ কয়েকজন শিক্ষার্থীর তো নেওয়া হতো না।’

ফরিদা আক্তার বলেন, ‘অভিভাবকেরা যখনই আমাদের অভিযোগ দিয়েছে তখনই আমরা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। শিশুদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর পরীক্ষাও নেওয়া হবে না। আবার যখন সরকার স্কুল খোলবে তখনই স্কুলের কার্যক্রম চলবে। এতো দিন যেভাবে বন্ধ ছিল এখনও বন্ধই থাকবে।’

আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে সেটা মিথ্যা। স্কুলের বেতনের জন্য আমরা তাদের আসতে বলিনি। তাছাড়া শিশুদের স্কুলে নিয়ে এসেছে অভিভাকেরাই। আর এখানে অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা পড়ালেখা করে। তাদের অনেকেরই বাড়িতে স্মার্ট ফোন নেই। শিক্ষার্থীদের দূরের কথা আমাদের শিক্ষক শিক্ষিদের অনেকের স্মার্ট ফোন নেই। আমি নিজে বাটন মোবাইল ব্যবহার করি। আমাদের অনেক শিক্ষক খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করছে কেউ এ বিষয়ে নূন্যতম খবরও নেয় না। শুধু মাত্র প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের পড়ানো যেন বন্ধ না হয় সেজন্য অভিভাবকদের কথায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর