শিক্ষা কর্মকর্তার চিকিৎসার জন্য টাকা উত্তোলন


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার
শিক্ষা কর্মকর্তার চিকিৎসার জন্য টাকা উত্তোলন

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল হকের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এগিয়ে এসেছেন। ১২১টি স্কুলের ৮ শতাধিক শিক্ষকের কাছ থে‌কে ২ হাজার টাকা ক‌রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলাধীন ৬ ক্লাস্টারের মধ্যে এক ক্লাস্টারের কাছে তিন লক্ষাধিক টাকাও জমা পড়েছে।

তবে শিক্ষা কর্মকর্তাকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে অজানা কারণে সরাসরি মুখ খুলতে নারাজ শিক্ষকরা।

এমনকি এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল হকের স্ত্রী জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানা আফরোজও কিছু জানেন না। তার ভাষ্য, এ কাজে আমাদের কোন সায় নেই। আর যদি এমনটি করা হয়, তাহলে আমরা বিব্রত হবো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল হক জটিল রোগ কিডনি ও ক্যান্সারে আক্রান্ত। দীর্ঘ ২ বছর ধরে তাঁকে দেশে-বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। তাঁর চিকিৎসা ব্যয়ভার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তিনি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে ৭ বছর ধরে রয়েছেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৪ বার বদলি বাতিল হয়েছে।

গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব ফেসবুকে মনিরুল হকের অসুস্থতা নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। এরপর কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে ভার্চুয়াল মিটিং করা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত আসে উপজেলার সকল স্কুলের শিক্ষককে ‘স্যার’ এর চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে হবে। মিটিংয়ে অর্থ প্রদানের পরিমাণ নিয়ে কিছুটা বাদানুবাদের পর মাথা পিছু ২ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। একেক স্কুলের টাকা প্রধান শিক্ষক উঠাবেন; পরবর্তীতে তা নির্দিষ্ট ক্লাস্টারের হাতে পৌঁছানো হবে।

নাম প্রকাশে একাধিক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক জানিয়েছেন, টাকা নির্ধারণ করে দেওয়াটা ঠিক হয়নি। এখানে উন্মুক্ত রাখা দরকার ছিলো। যার যেমন সাধ্য তিনি তেমন দিতেন। কারণ সবার অর্থনৈতিক অবস্থা এক নয়। ইতিপূর্বে তাদের এক সহকর্মী অসুস্থ হয়েছিলো। তাঁর চিকিৎসার জন্য ৫০০ টাকা করেও অনেক শিক্ষক দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল হকের ঘনিষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ‘স্যারের সাথে অনেকদিন ধরে কাজ করি। ওনি অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাঁর শারীরিক দূরাবস্থার কথা চিন্তা করেই আমি প্রথমে টাকা উত্তোলনের বিষয়টা প্রস্তাব করি। কাজের মধ্যে আমি এটুকুই করেছি। বাকীটুকু দেখছেন প্রধান শিক্ষক সুলতানা নীলা। তিনি ৯২ জালকুড়ি উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুলতানা নীলার সাথে কথা হয় গত মঙ্গলবার। তিনি অর্থ সহায়তার উদ্যোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কোনও শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে না। টাকার জন্য কাউকে চাপও দেওয়া হচ্ছে না। যে পারবে দিবে, যে পারবে না সে দিবে না। কারণ সবাই টাকা দিলে উঠবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০-১২ লাখ টাকা। সব শিক্ষক যে টাকা দিতে পারবে না, সেটা আমরাও বুঝি।’

গোদনাইল ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমার স্কুলের শিক্ষকরা আমার কাছে টাকা দিতে চাইছে, কিন্তু আমি এখনও নিইনি। আর ক্লাস্টার হিসেবে আমার কাছে এখন অবধি কোন শিক্ষক বা স্কুল থেকে কোনও টাকা জমা পড়েনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক জানান, আমার স্কুলের সব শিক্ষক থেকে উঠানো ১৭ হাজার টাকা ক্লাস্টারের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। শিক্ষকরা ছাড়াও স্কুলের সভাপতি অর্থ সহায়তা করেছেন।

এ বিষয়ে একটি ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা এক প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হয় গত মঙ্গলবার। তিনি বলেন, ‘স্যারের অর্থ সহায়তার লক্ষ্যে ২৪টি স্কুলের ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা আমার কাছে জমা পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপাতত এ কার্যক্রম স্থগিত। শুনেছি, ডিসি সাহেবের কাছে কেউ নাকি মৌখিক অভিযোগ করেছেন। এ জন্য স্থগিত রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর