মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নারায়ণগঞ্জবাসীর কৃতজ্ঞতা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৫৩ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নারায়ণগঞ্জবাসীর কৃতজ্ঞতা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তল্লায় মসজিদ ট্র্যাজেডিতে হতাহত পরিবারগুলোর প্রতি বাড়িয়ে দিলেন সহায়তার হাত। প্রতিটি পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। আর্তপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা বঙ্গবন্ধুর কন্যার কাছে নতুন যদিও নয়। তবুও নারায়ণগঞ্জবাসী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তল্লাবাসী ও নারায়ণগঞ্জের সুধীমহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই তল্লায় মসজিদ ট্রাজেডির ঘটনায় পোড়া রোগীদের খেয়াল রাখেন। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। বিনামূল্যে শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউটে ৩৭ জন পোড়া রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পোড়া থাকায় ও শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় আধুনিক চিকিৎসা সত্ত্বেও এ যাবত ৩৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। বাকী ২ জনের চিকিৎসা চলছে আইসিইউ ইউনিটে। ঘটনার পরপরই আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার খবরে তল্লাবাসী তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি শত ব্যস্ততার মধ্যেও তল্লার আগুণে পোড়া রোগীদের খোঁজ খবর রেখেছেন। মহান সংসদে দাঁড়িয়েও ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সারাক্ষণ বার্ণ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে রোগীদের অবস্থা ও চিকিৎসার খবর নিয়ে বার বার উন্নত চিকিৎসার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হাজারো কাজের ভিড়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর সেন্টিমেন্টকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এবার আর্থিক অনুদান দিলেন। যারা মারা গেছে তাদের লাশ কফিনবন্দি থেকে শুরু দাফন কাফনের ব্যবস্থাও করেছিলেন। এবং সে সময় লাশ নেয়ার জন্য স্বজনদের নগদ টাকাও দেয়া হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কথা তিনি ভোলেননি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের তল্লায় বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহত পরিবারগুলোর সকলকে পাঁচ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আর্থিক সহায়তার চেক স্ব স্ব পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই টাকার চেক আগামী রোববার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ধন্যবাদ মমতাময়ী মা। আগামী রোববার (২৭/০৯/২০২০) আমার অফিসের কনফারেন্স রুমে অনুদানের এ চেকগুলো নিহতদের পরিবারের অনুকূলে হস্তান্তর করা হবে।’

সূত্রমতে, এর আগে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে প্রদান করতে বলা হাইকোর্টের নির্দেশ স্থাগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। ১৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। তিতাসের গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান।

জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের তল্লায় বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ৭ দিনের মধ্যে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে এই টাকা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ওই টাকা বিতরণ করবেন বলেও আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এছাড়াও প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছিলেন আদালত। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও ব্যারিস্টার মার ই-য়াম খন্দকার।

গত ৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের পশ্চিমতল্লা এলাকার বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এ রিট দায়ের করা হয়। এছাড়াও ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাা নিতে রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার ই-য়াম খন্দকার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। নারায়ণগঞ্জের তল্লায় বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন দগ্ধ ২ জন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ চলাকালে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হন।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জবাসীর যে কোন বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ান এ কথা বললে ভুল হবে। তিনি সারাদেশবাসীকে নিয়েই ভাবেন। তবে আর্তপীরিতদের প্রতি সহায়তার হাত খুব দ্রুত প্রশস্ত করে থাকেন। যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করেন। নির্ভীক চিত্তে সমস্যা সমাধান করেন। তল্লায় মসজিদ ট্রাজেডিতে হতাহতদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি মমত্ববোধের বহি;প্রকাশ ঘটালেন। সবাই আশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অন্তত একজন করে হলেও চাকুরীর ব্যবস্থা করা যায় কিনা- সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর