নারায়ণগঞ্জের রাশেদ যেভাবে মীরাক্কেলে


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৯ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
নারায়ণগঞ্জের রাশেদ যেভাবে মীরাক্কেলে

‘মীর দার মতো একজন ব্যক্তিত্ব যখন নিজের বজ্রকণ্ঠে আমার নাম ডাকে তখন আমার বুক খুব কাঁপছিল। তবে ভয়ের সাথে খুব ভালো লেগেছে যে আমি আমার নিজের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছি। আমার জেলা নারায়ণগঞ্জকে রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছি। নিজেকে মীরাক্কেলের মঞ্চে দেখতে পেয়েছি। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মত।’ দুই বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মীরাক্কেল সিজন ১০ এর মঞ্চে নিজের প্রথম এপিসোডের অনুভূতি নিউজ নারায়ণগঞ্জের কাছে এভাবেই প্রকাশ করছিলেন নারায়ণগঞ্জের ছেলে আফনান আহমেদ রাশেদ।

২০০৬ সালে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি ভারত, বাংলাদেশ এবং সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষার মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। প্রায় চার বছর বিরতির পর দুই বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মীরাক্কেল সিজন ১০ এর প্রথম এপিসোড জি বাংলায় প্রচারিত হয় ৩ জানুয়ারি। মীরাক্কেল সিজন ১০ এর মঞ্চে এবার বাংলাদেশ থেকে রাশেদ সহ মোট তিনজন অংশগ্রহণ করেছে।

আফনান আহমেদ রাশেদের জন্ম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। দুই ভাইবোনের মধ্যে রাশেদ ছোট। ফতুল্লা পাইলট স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নরত আছেন তিনি।

মীরাক্কেলের মঞ্চে যাওয়ার গল্প

মীরাক্কেলের মঞ্চে পৌঁছানোর গল্প বলতে গিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে রাশেদ বলেন, ‘টুকটাক বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছি। এছাড়া রম্য লেখালেখি করতাম। ২০১৯ সালে ঢাকার গুলশানে মীরাক্কেলের টিম আসে। কয়েক হাজার প্রতিযোগী ছিল। অডিশনে সিলেক্ট হওয়ার জন্য গিয়েছি তা না। আমার বোন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। পরীক্ষা শেষে আমার বোনের হাতে খাতা কলম দিয়ে ওই পোশাকেই অডিশনে চলে যাই। আমি অডিশনে লেট করে যাই। লেট করার কারণে আমি ভেবেছিলাম অডিশন দিতে পারব না। কিন্তু ফরম ফিলআপ করলাম। প্রথম দিন অডিশন দিয়ে সিলেক্ট হলাম। এভাবে দুইদিনে ৬ বার অডিশন দেওয়ার পর এক পর্যায়ে আমিসহ কয়েকজনকে বলা হলো যে আপনারা সিলেক্টেড।’

মীরাক্কেলের মঞ্চে আরো আগেই দেখা যেতো রাশেদকে। ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মীরাক্কেল টিম এর অডিশনের মাধ্যমে বাছাই করার পর ২০২০ সালের মার্চের দিকে কোলকাতায় গিয়েছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার পর পরেই বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে মীরাক্কেল টিম বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করা তিনজনকেই দেশে ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত মীরাক্কেলের মঞ্চে উঠতে পেরে খুশী রাশেদ।

এ প্রসঙ্গে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে রাশেদ বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চের দিকে আমরা কোলকাতায় গিয়েছিলাম। এরপর করোনার মহামারির মুখোমুখী হই। পরে আমাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

রাশেদের পরিবারের অনুভূতি

রাশেদকে মীরাক্কেলের মঞ্চে দেখে সব থেকে খুশি রাশেদের মা। এছাড়া বড় বোনের সাপোর্টও ছিল সব থেকে বেশি। অধিকাংশ অভিভাবকের সন্তানকে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর ইচ্ছে থাকলেও রাশেদের মা এবং বোন কখনই রাশেদের উপর এসব চাপিয়ে দেয়নি। রাশেদ যখন যা করতে চেয়েছে তখন সেই কাজেই তাঁর মা এবং বোন সাপোর্ট করেছে বলে জানায় সে।

এ প্রসঙ্গে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে রাশেদ বলেন, ‘আমার মা প্রচন্ড খুশি। সত্যি কথা বলতে আজকে এই অবস্থানে আসতে পেরেছি সম্পূর্ণ আমার মায়ের জন্য। আমার মা আমার বোন সব সময় আমাকে সাপোর্ট দেয়। কখনো আমাকে বাধা দেয়নি।’

রাশেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রাশেদের ক্যামেরার সামনে কাজ করার চেয়ে ক্যামেরার পেছনে কাজ করা বেশি পছন্দের। তবে কিভাবে ক্যামেরার সামনে চলে আসে এটা সে নিজেও জানে না। রাশেদের ভাষায় এটিও একটি ‘মিরাকল’। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো স্থির না হলেও লক্ষ্য ঠিক করেছে মিডিয়াতেই থাকবে। রাশেদের ইচ্ছে সিনেমা নির্মাতা হবে।

এ প্রসঙ্গে রাশেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এখনো সেভাবে ঠিক করা হয়নি। তবে সম্ভবত মিডিয়ায় থেকে যাব নয়তো ফিল্ম ডিরেক্টর হিসেবে থেকে যাব। তবে আমার ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে বেশি ভালো লাগে। কিন্তু কিভাবে যেন বার বার ক্যামেরার সামনে চলে যাই। যদি জিজ্ঞেস করেন এখানে কিভাবে এসেছি তাহলে আমি বলতে পারব না। আমি কিভাবে এসেছি আমি নিজেও জানি না। এক কথায় ‘মিরাকল’!’

সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে রাশেদের কাজ

সদা হাস্যোজ্জল রাশেদ নিজে যেমন সংস্কৃতিমনা মানুষ। সংস্কৃতির জুয়ার দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতেও কাজ করে যাচ্ছে সে। সেই লক্ষ্যেই ২০১৭ সালে রাশেদ ‘রাইজিং বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। যেটার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বেশি বেশি কালচারাল একটিভিটির মাধ্যমে দেশে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে অবদান রাখা। এছাড়া সংগঠনটি মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ও পরিচালনা করা হয়।

নিজের তৈরী সংগঠন রাইজিং বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার একটি সংগঠন আছে রাইজিং বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে আমি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এটার মূল কার্যক্রম হচ্ছে কালচারাল একটিভিটিজ। এছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান সহ বেশ কিছু কাজ আমরা করছি।’

এক নজরে মীরাক্কেল সিজন ১০

মীরাক্কেল সিজন ১০ এর উপস্থাপক হিসেবে এবারও রয়েছেন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মীর আফসার আলি। তবে এবারের সিজনে বিচারকদের প্যানেলে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে আছেন বলিউড সহ ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী পাউলি দাম। অভিনেতা ও নায়ক সোহম চক্রবর্তী এবং অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। অনুষ্ঠানের পরিচালক শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর