পুত্রের লাশে মাথার উপর শত পৃথিবী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার
পুত্রের লাশে মাথার উপর শত পৃথিবী

সন্তানের জন্মদিনে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়ে থাকে বাবা মা। কারণ তাকে ঘিরে সেই বাবা মায়ের পুরো পৃথিবী রঙিন হয়ে উঠে। তবে কোন কোন সন্তানের জন্মদিনে বাবা মার উপরে ভেঙে পড়ে কষ্টের পাহাড়। ঠিক তেমনটি হয়েছে বন্দরের সাংবাদিকপুত্র জিসানের নৃশংস খুনের পর আগত জন্মদিনে। জিসানের ১৬ তম জন্মদিনে সন্তানহারা পিতা কাজিম আহম্মেদ আক্ষেপ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। সেই সাথে খুনিদের বিচারের দাবিও করেছেন সন্তানহারা এই পিতা।

২১ জানুয়ারী সকালের নিহত জিসানের বাবা ও বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী কাজিম আহম্মেদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দেয়।

সেই স্ট্যাটাসে নিহত জিসানের বাবা কাজিম আহম্মেদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘আজ ২১ জানুয়ারি আমার একমাত্র সন্তান শহীদ জিসান আহমেদ এর শুভজন্মদিন। আমি এক হতভাগা পিতা, আল্লাহ আমার বুক থেকে কেড়ে নিয়েছে। আপনারা বলেন, এ হাসি কি কোন মা-বাবা ভুলতে পারে। কি অপরাধ করে ছিল নবম শ্রেণির ছাত্র জিসান। তাকে ও তার বন্ধু মিহাদকে মাদক ব্যবসায়ি ও সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হলো। আমি কি এ খুনিদের বিচার দেখে মরতে পারবোনা। আমার মাথার উপরে মনে হয় একশটা পৃথিবী আমি এ ভার ধারণ করতে পারছি না। আল্লাহ আমাকে আমার সন্তানের নিকট নিয়ে যাও আমি আর এ নির্দয়, নিষ্ঠুর পৃথিবীতে থাকতে চাই না। হে আল্লাহ যত দ্রুত আমার মৃত্যু দান কর।’’

উল্লেখ্য গত বছরের ১০ আগস্ট বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকার বিকেলে কাজিমউদ্দিনের ছেলে জিসান (১৫) ও নাজিমউদ্দিন খানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম মিহাদ (১৮) নিখোঁজ হয়। রাতেই তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত জিসানের বাবা বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারী কাজিমউদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামী সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৮ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে বন্দর থানা তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটি ডিবিতে বদলী করা হয়। ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক ফকির হাসানুজ্জামান তদন্ত করেন। গত ৫ জানুয়ারী তিনি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।এতে ৮ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারা হলেন মোক্তার হোসেন, আলী আহাম্মদ, কাশেম, কাউসার, আনোয়ার হোসেন, শিপলু, মনির হোসেন, জাকির হোসেন।

মামলায় ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলো আলভী, বড় শামীম, ছোট শামীম, শাকিল, সুজন, বাবু ওরফে টিঅ্যান্ডটি বাবু, নাহিদ, দেলোয়ার হোসেন বাবু, রাকিব, রয়েল, জাহান, বাবু, রবিন, সাজ্জাদ, ইমন, জয়, শান্ত, সজীব, রিয়াদ, রনি, রাজন, আবু মুসা, পাপ্পু। তাদের সকলের বাড়ি বন্দর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। আসামীদের মধ্যে আলভী, দেলোয়ার হোসেন বাবু ও আবু মুসা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।

চার্জশীটের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিহত জিসানের বাবা কাজিমউদ্দিন বলেন, ডিবি পুলিশের এস আই হাসানুজ্জামান বিভিন্ন দফায় দফায় আমার কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়া বসার জন্য চেয়ার নিয়েছে। চেয়ার নেয়ার পরে চার্জশীট দেয়ার আগে সে আমার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছে। আমি তার চাহিদা মত টাকা দিতে পারি নাই। অন্যদিকে তিনি আসামীদের লোকজনদের সাথে যোগাযোগ করছে। চার্জশীট থেকে আসামীদের নাম বাদ দেয়ার জন্য তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে তিনি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে। এই ঘুষ নিয়ে তিনি চার্জশীট থেকে আসামীদের নাম বাদ দিয়েছে। আমি এই চার্জশীটে সন্তুষ্ট নই। সুষ্ঠু সমাধান না দিলে না রাজি দিব।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর