লকডাউনে গার্মেন্ট খোলা,মার্কেট গণপরিবহন লঞ্চ নৌকা বন্ধ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:২০ পিএম, ২১ জুন ২০২১, সোমবার
লকডাউনে গার্মেন্ট খোলা,মার্কেট গণপরিবহন লঞ্চ নৌকা বন্ধ

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ডেলটা ভেরিয়েন্ট ইতোমধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা অতিক্রম করে ঢাকার পার্শবর্তী জেলাতেও ছড়িয়েছে। এটিকে প্রতিরোধ করার জন্য এবং নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে ২২ জুন ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

২১ জুন সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কোভিড এর বিস্তার রোধে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ বাস্তবায়ন করতে জরুরি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘এখন আমরা মনে করি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছি। এবারের লকডাউন নারায়ণগঞ্জকে রক্ষা করার জন্য। আগের বার আমরা অন্যদের জন্য হুমকি ছিলাম। এবার কিন্তু অন্যরা আমাদের জন্য হুমকি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই লকডাউনের মধ্যে সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। সকল ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। চলাচল সীমিত থাকবে। এর মধ্যে ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, জরুরি পণ্য ও সেবা যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এগুলো লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে। হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ রাখার অনুরোধ করব। তবে বিশেষ জায়গায় যদি খোলা রাখতে হয় তাহলে হোটেল থেকে খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারবে। এর বাইরে কাঁচাবাজার এবং মুদি দোকান খোলা রাখা যাবে। এবং অন্যান্য স্থাপনা বন্ধ থাকবে। সরকারের আলোকে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীকে অনুরোধ করব যে ৭০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য আমরা সকলেই যেন সরকারের এই লকডাউনের সিদ্ধান্তকে যথাযথভাবে মেনে চলি।’

নদীবন্দর এলাকায় খেয়াঘাটগুলো বন্ধ থাকবে কি না সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘খেয়াঘাট এবং যাত্রীবাহী লঞ্চ যেগুলো অন্য জেলার সাথে সেগুলো বন্ধ থাকবে। তবে নদীপথে পণ্যবাহী কার্গজাহাজ চলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ৬৮২ স্কয়ার কিলোমিটারের জেলায় ১০টি প্রবেশ পথ রয়েছে। ১০টি প্রবেশ পথেই আমাদের চেক পয়েন্ট থাকবে। নারায়ণগঞ্জের কেউ বা গণপরিবহন বাইরে যাবে না এবং বাইরের কোনো জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করবে না। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিৎ করে এমন সেবা যেমন এম্বুলেন্স ও কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রমের এবং জরুরী সেবা চলতে পারবে। আমরা ইতোমধ্যে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০টি টিম এবং অন্যান্য উপজেলায় আরো ৮টি টিম কাজ করবে।’
বিসিক, ইপিজেডসহ জেলার ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন লকডাউনের আওতায় থাকবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুভমেন্ট ছাড়া এসকল শিল্প কারখানা এবং ইন্ডাস্ট্রিগুলো খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অঞ্চল। দেশে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। এজন্য আমরা অর্থনৈতিক কর্মকা-গুলো এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্মকান্ডগুলো অভ্যন্তরিনভাবে সীমিত পরিসরে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট আছেন তাঁরা কোভিড প্রটোকল মেনটেইন করে আমাদের সহযোগীতা করবেন।

পোষাক শ্রমিকেরা কিভাবে যাতায়াত করবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পোষাক শ্রমিকদের কোনো রকম মুভমেন্ট করতে দিব না। আমরা অনুরোধ করেছি শ্রমিকদের কর্মস্থলে রেখে বা ওয়াকিং ডিস্টেন্সে বা শহরের কাছে রেখে কাজ করবে সেই নির্দেশনা দিয়েছি। ’

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘এবারের লকডাউন অন্যান্য সময়ের মতো না। অন্যান্য সময় লকডাউন দেওয়া হয়েছে জেলায় যখন সংক্রমন বৃদ্ধি পয়েছে সেটাকে কমানোর জন্য। এবারের লকডাউন হচ্ছে আমরা ভালো আছি বাইরে থেকে যেন আমাদের জেলায় ছড়িয়ে পড়ে বেড়ে না যায় সে জন্য।’

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানে পুলিশ থাকবে। ১০টি চেকপোস্টের কথা বলা আছে। সেগুলো ছাড়াও আরো ২০টি চেকপোস্ট অভ্যন্তরে থাকবে। যেসব গাড়ি নির্দেশনা অমান্য করবে সেগুলোকে আমরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করব।’

সোমবার (২১ জুন) বিকেলে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর,মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, মাদারিপুর ও গোপালগঞ্জে এই লকডাউন ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জরুরি পরিসেবা অর্থাৎ খাদ্য, ওষুধ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিসের মতো সেবা চলমান থাকবে। এছাড়া ওই অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি-আধা সরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমনকি সাধারণ জনচলাচল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এইসব জেলা থেকে ঢাকাগামী কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। কেবলমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি খাদ্য, অষুধ ও পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে করোনা পরিস্থিতি বিস্তাররোধে দেশে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।
চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার।
পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো আসন সংখ্যার অর্ধেক বসিয়ে খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিধিনিষেধে আগে থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া ছিল। এ ছাড়া জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া যথারীতি অফিস সীমিত পরিসরে চলছে। আর সীমিত পরিসরে হচ্ছে ব্যাংকের লেনদেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর