পপুলারে পদে পদে তলায় তলায় ভোগান্তি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩১ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার
পপুলারে পদে পদে তলায় তলায় ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে পৌছেছে সেবার মান। একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা, একজনের রিপোর্ট ভুল করে আরেকজনকে দিয়ে দেয়া, ময়লা আবর্জনার পাশে অপেক্ষমানদের বসতে দেয়া, বিভিন্ন ফ্লোরে সিলিং ভেঙ্গে পড়ার মত অবস্থায় ঝুঁকিতে রোগীরা, লিফট থাকতেও সেটি সকল ফ্লোরে না থামা, গুরুতর রোগীদেরকেও সিড়ি দিয়ে নামতে বাধ্য হওয়া, টোকেন বিড়ম্বনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনদের। এর মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় তো আছেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, পপুলারের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে তীব্র যানজট। এর প্রধান কারণে সড়কের অর্ধেক দখল করে আছে পপুলার সংশ্লিষ্টদের মোটরসাইকেল ও গাড়ি পার্কিং করে রেখে। এর মধ্যে ফুটপাতেও ওষুধ কোম্পানিত রিপ্রেজেন্টিটিভদের মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য। ফুটপাতে পথচারীদের হাঁটার পথে দেখা যায় ভিড়। উত্তর দিকের পপুলারে প্রবেশের আরেকটি ফটকে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। মূলত ডাক্তার দেখাতে আসা রোগী, টেস্ট করতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তারা উপরে উঠার জন্য লিফটে উঠবেন কিন্তু সেখানে অনেক মানুষ থাকায় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এই লাইন সন্ধ্যার পর ছাড়িয়ে যায় পপুলার ভবনের বাইরে মূল সড়কেও। এর মধ্যে গুরুতর রোগীদের নিয়েও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় স্বজনদের।

উপরে তৃতীয় তলায় উঠতেই দেখা যায় কাউন্টার আর টোকেনের। টোকেন নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় টেস্ট করতে আসা রোগীদের রিসিট কাটতে কিংবা রিপোর্ট ডেলিভারী নিতে। টোকেনধারী ব্যক্তি যদি তার টোকেন সিরিয়াল ফলো না করেন কিংবা কোন কারণে তার সিরিয়াল পার হয়ে যায় তাহলে আবার তাকে টোকেন করতে হয়।

তৃতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলায় উঠতেই চোখে পড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের বসার যায়গার মাঝখানে রাখা ময়লার স্তুূপ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই এসব ময়লার স্তুূপ থাকে এখানে। অনেক টেস্ট করতে আসা রোগীদের স্যাম্পল, সিরিঞ্জসহ নানা ময়লা এখানে জমানো হয় যা পরে ফেলা হয়। ময়লার কারণে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা হাটাহাটি করলেও ময়লার আশেপাশে বসেন না।

পঞ্চম তলায় যেখানে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হয় সেখানে আরো ভয়াবহ অবস্থা দেখা যায়, একদিকে ময়লা অপরদিকে মাথার উপরে সিলিং খুলে পড়ছে। যেকোন সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন এখানে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। অনেকেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তা এড়িয়ে যান। এর মধ্যে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিকে রাসেল নামে একজন ময়লা ও সিলিং ভাঙ্গার বিষয় দেখিয়ে ঝুঁকির কথা জিজ্ঞাসা করলে উনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমরা তো প্রতিদিন আসে কই কিছু তো হয়না। অবশ্যই এখান থেকে ভেঙ্গে পড়া কিছু অংশ ৫ তলায় লিফটের সামনে ফেলে রাখতে দেখা গেছে। যা দিয়ে যেকোন সময় যেকোন মানুষ খেয়াল না করলেও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

এর মধ্যে রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, পঞ্চম ও চতুর্থ তলায় লিফট থামেনা। লিফটের সিগন্যাল দিয়ে রাখলেও লিফটম্যান তা থামায় না। অনেক গুরুতর রোগীকে হুইল চেয়ারে করে নীচ থেকে লিফটে উঠালেও নামানোর সময় আর লিফট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। সরেজমিনেও মেলে অভিযোগের সত্যতা।

এদিকে সকল রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সকল পরীক্ষাতেই অনেক বেশী অর্থ রাখা হয় পপুলারে। এ ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মজুমদার জানান, ফার্মেসী করার জন্য ড্রাগ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। সেগুলো তাদের আছে কিনা জানা নেই আর পপুলারে ফার্মেসী আছে বলে জানতাম না। রিপোর্ট অদল বদল হবার অভিযোগ গুরুতর। বাকি সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, গুরুতর রোগীরা লিফট পাবেনা কেন, এটা তো ঠিক না। আর রিপোর্ট বদল হবার কিংবা ময়লা রাখা এটাও ঠিক না। আমি বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (এডমিন) কামরুল পপুলারের সামনের ফুটপাত ও সড়কের দখলের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আমি মাঝে মাঝেই অভিযান পরিচালনা করি। পপুলার কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তারা তাদের ব্যবস্থায় ফুটপাত ও সড়ক ফাঁকা রাখবে এমনটাই হবার কথা। যখনি আমরা খবর পাই রেকার দিয়ে কিংবা আমরা সরাসরি গিয়ে অভিযান পরিচালনা করি। বিষয়টি শহরে যানজটের অন্যতম কারণ।

অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করে পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারের গণসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) হারুন জানান, প্রতিদিন আমাদের হাজারো রিপোর্ট দিতে হয়। এর মধ্যে হয়তো কিছু ভুল হতে পারে।

ময়লার বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি সংশ্লিষ্টদের জানাবো। লিফটে রোগীদের ও মানুষের চাপ বেশী থাকলে বাঁ স্থান না থাকলে অনেক সময় কিছু তলায় থামেনা। এটি চাপ বেশী থাকলে হয়। আর সিলিং যদি আসলেই ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা হয় তবে তা সত্যি দুঃখজনক। প্রতি তলায় আমাদের অভিযোগ দেয়ার বুথ আছে, সেখানে রোগী কিংবা তার স্বজনরা চাইলে অভিযোগ করতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর