মূল্যায়ন করবে জনগণ : শকু


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪৯ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার
মূল্যায়ন করবে জনগণ : শকু

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেছেন, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমার ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। ইসদাইরে ডাক বাংলো থেকে রেলওয়ের উপর দিয়ে গেছে সম্পূর্ণ নতুন সড়ক হয়েছে। এখন আমরা থাকি আর না থাকি একটি নতুন সড়ক হলে মানুষ বলবে যে অমুকের সময় সড়কটি হয়েছে। এটি মাইলফলক একটি সড়ক হয়েছে, আমরা এটিকে গ্রিন রোড বলি, একদম সবুজ গাছ লাগানো, ধুলোবালু মুক্ত। বিকেলে ডায়বেটিকের রোগীসহ সাধারণ মানুষ এ সড়কে হাঁটেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ৪ বছরে নিজের ওয়ার্ডের নানা উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আর্মিদের চাঁদমারির যে জায়গা সেখানে পানি নিষ্কাশন হত, বীর মুক্তিযোদ্দগা ফরিদা আপার নামে সেই সড়কের নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রেললাইন থেকে ইসদাইর বাজার পর্যন্ত এ অঞ্চলটি পুরো এক বছর পানিতে ডুবে ছিল। সেটা আমাদের জাইকার সহায়তায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে সড়কটি ড্রেনসহ নির্মাণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, পুরনো সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সারাবছর হয়েছে। কিছু কিছু কাজ বাকি আছে সেগুলোও দ্রুত করা হবে। সব কাজতো একসাথে শেষ করা যায়না তবে আমি প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো পূরনের চেষ্টা করেছি। বাকিটা জনগন মূল্যায়ন করবে।

শকু বলেন, ৮টি নলকূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সহায়তায় স্থাপন করা হয়েছে। তারা আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং এখানকার উন্নয়নে আমি মাঝে মাঝেই তাদেরকাছ থেকে সহায়তা নেই। ওয়াসার যেই অবস্থা তাতে এই পানি ব্যবহার করা কষ্টকর।

তিনি আরো বলেন, গঞ্জে আলী খালের একটি মেঘা প্রজেক্ট। এটি চাঁদমারি থেকে শুরু করে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত যাবে। অবৈধভাবে যারা এখানে স্থাপনা করে রেখেছিল সেই স্থাপনা আমরা উচ্ছেদ করেছি। এখানে এখন আগের সেই খাল আবার দৃশ্যমান হয়েছে। প্রতিদিন এখানে পরিষ্কার করার কাজ চলছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে এখানে নতুন রূপ দেখবে মানুষ। এখানে বিনোদনের ব্যবস্থা হবে।

কাউন্সিলর বলেন, করোনার কারণে ৮টি মাস আমাদের এখানে অতিবাহিত করতে হয়েছে। করোনায় আমরা অনেক কাজ করছি এবং আল্লাহকে রাজী খুশি করার একটি সুযোগ পেয়েছি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। হাসপাতালে ডাক্তার নার্স ও মানুষের সেবা করার জন্য সংসদ সদস্যের অর্থায়নে অনেক কাজ করেছি। অনেকেই অনেক সহযোগিতা করেছেন এবং তাদের সহযোগিতা মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার পরিবার থেকে করোনার এই সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করতে উৎসাহ পেয়েছি। সর্ব প্রথম ১১ মার্চ আমার স্ত্রীর জমানো টাকা দিয়ে মানুষের মাঝে ৫ হাজার মাস্ক বিতরণ করি আমরা। সেটি করতে গিয়ে আমি অনুধাবন করলাম মানুষের মধ্যে যে অবস্থা তাকে নানা প্রভাব পড়বে আর তাই পরবর্তী আমরা আনো নানা পদক্ষেপ নেই। যেমন স্যানিটাইজার বিতরণ, যানবাহন জীবাণুমুক্ত করণ, মানুষের মাঝে সাবান বিতরণ, হেক্সিসোল বিতরণ এসব করি।

`ইতোমধ্যে ৩ বার নির্বাচিত হয়েছে এবং ২০০৪ এ একটি বন্যা পেয়েছি সেসময়ও আমার পরিবার আমাকে সহযোগিতা করেছে। সেরকম আমার পরিবার এবারো বলেছে যে একটি সুযোগ পেয়েছ কাজে লাগাও। আমার সহকর্মী ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদও নেমেছে এবং দুজনের পাল্লা দিয়ে কাজ করেছি। ও আমাকে সহযোগিতা করেছে নামার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে।`

শকু বলেন, করোনার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি রোগী আনার পর মারা গেলে মানুষ এ্যাম্বুলেন্স ধরে কাঁদলেও স্বজনকে ধরেনি। এখান থেকে আমরা শিখেছি এসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময়। আমি এসময় কুইক রেসপন্স ১২ নামে একটি টিম গঠন করেছি। আমাদের পাশে থেকে অর্থায়ন করে সহায়তা করেছেন মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুর রহমান। পাশাপাশি বিত্তমান অনেকে আমার সহায়তা করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনও করেছে। অনেক বিত্তবান আছেন যাদের নাম বলা নিষেধ তবে তারা মানুষের সেবায় কাজ করতে পেরে তারা ধন্য মনে করেন নিজেকে।

তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে যেমন কাজ করেছি আগামীতেও ঠিক সেভাবেই কাজ করবো। সেপ্টেমর পর্যন্ত পুরোপুরি আমাদের করোনাকালীন কার্যক্রম চলেছে পরেও চলছে। কারো সহযোগিতা না পেলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমার কাজ আমি করে যাবো। বর্তমানে পিপিই কিছুটা সংকট রয়েছে আমাদের তবে অনেক স্থানেই পিপিই পড়ে আছে সেগুলো কাজে লাগছেনা। আমরা সেগুলো পেলে আমাদের উপকার হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর