সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী কারুশিল্প মেলা লোকজ উৎসবের উদ্বোধন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী কারুশিল্প মেলা লোকজ উৎসবের উদ্বোধন

প্রাচীন বাংলার রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। মেলা চত্বর প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলা চলবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি উদ্বোধনের সময় বলেন, এই লোকজ উৎসব আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমাদের চিত্ত ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে এই মেলা। উৎসবে বাঙালির ইতিহাস ঐতিজ্যও ফুটে উঠে মেলায়।

উদ্বোধন শেষে মেলা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, মাত্র সাত দিন হয়েছে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। সেজন্য এখনও কিছু বলতে পারছি না। তবে আমরা একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করবো। আর ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে যেন আমরা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে পারি সেই ভাবে চেষ্টা করবো। এ দেশের আদি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করবো। এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি বিষয়ে তিনি বলেন, এটা শুধু আমরা ধারণায় এনেছি। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, ওনার কাছ থেকে মৌখিক অনুমোদন নিয়ে পরবর্তীতে প্রজেক্ট প্রফাইল তৈরি করবো। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমরা খুব আন্তরিক।

তিনি আরো বলেন, সংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা ঠিক করা হয়নি। এটা শুধু আমরা মাথায় এনেছি। জাতির জনকের নামে এটি হতে পারে। অনুমোদন ও জায়গা দিলে আমাদের জন্য ভালো হয়। তবে বিষয়টি দেখতে হবে যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয় সেখানে করা হবে। সোনারগাঁয়ের উন্নয়নের জন্য একটি বাজেট প্রনয়ন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় একটি অর্থের চাহিদার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ফাইল দেখে ব্যবস্থা নিবো।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসের সাবেক কমান্ডার সোহেল রানা প্রমুখ।

এবারের মেলার আকর্ষণ ছিল গ্রামীন লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম “ভালবাসার তামা- কাঁসা- পিতল শিল্পের” বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শনী উপলক্ষে গবেষনামূলক একটি ক্যাটালগ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহন করেছে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। এবারের মেলায় বাজেট ধরা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। অন্যান্য বছরের মতো এবছরও মেলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পুরো এলাকা বর্ণাঢ্যভাবে সাজানো হয়েছে।

ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬০ জন কারুশিল্পী মেলায় প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ও মাগুরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি, চট্টগ্রামের নকশী পাখা, রংপুরের শত রঞ্জি, সোনারগাঁয়ের হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারু শিল্প, নকশিকাঁথা, নকশি হাতপাখা, মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, মানিকগঞ্জের তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরা কোটা শিল্প, সোনারগাঁয়ের পাটের কারু শিল্প, নাটোরের শোলার মুখোস শিল্প, মুন্সিগঞ্জের পট চিত্র, ঢাকার কাগজের হস্তশিল্পসহ মোট ১৭০টি স্টল থাকছে মেলায়।

এছাড়াও লোক কারু শিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান,লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, বায়োস্কোপ, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাউন্ডেশনে আগত দর্শনার্থীরা মেলা উদ্বোধনের সঙ্গে তাদের কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর