‘ওজু ঘরে গিয়া দাঁড়াইছি, এর মধ্যেই সব শেষ’


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম হতে নেওয়া | প্রকাশিত: ১০:৪২ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
‘ওজু ঘরে গিয়া দাঁড়াইছি, এর মধ্যেই সব শেষ’

“আমার ভায়রা ইমরান ভাইও সেদিন আমার লগে নামাজ পড়তে গেছিলো। আমি আগেই তার জুতা পইরাই বাইরে বের হয়ে গেছিলাম, ওজু ঘরে গিয়া দাঁড়াইছি, এর মধ্যেই সব শেষ। দশটা সেকেন্ডও টাইম নেয় নাই, ইমরান ভাই বাঁচে নাই, আল্লাহ আমারে বাঁচাইয়া রাখছে।” কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন আমজাদ।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ যে দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই দু’জন হলেন পটুয়াখালীর চুন্নু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কেনান (২৪) এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসিরহাট গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে আমজাদ (৩৭)। অবস্থার উন্নতি ঘটনায় কেনানকে গত শনিবারই ওয়ার্ডে আনা হয়েছিল। এরপর আমজাদকেও ওয়ার্ডে আনা হয়। নিউজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণে ৩৭ জন দগ্ধ হয়েছিলেন।

তাদের সবাইকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে ৩৪ জন মারা যান। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন একজন।

কেনান ও আমজাদকে ওয়ার্ডে পাঠানো হলেও কেউই পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হলেও আমজাদের দেহের ২৫ শতাংশ এবং কেনানের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদেরও শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।”

কেনান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন শরীরের জ্বালাপোড়া কম, বেশি জ্বালা করলে ওষুধ দিই।”

ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে একটু পর পরই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন আমজাদ। মনে করছেন ভয়াবহ সেই ৪ সেপ্টেম্বরের কথা।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার ভায়রা ইমরান ভাইও সেদিন আমার লগে নামাজ পড়তে গেছিলো। আমি আগেই তার জুতা পইরাই বাইরে বের হয়ে গেছিলাম, ওজু ঘরে গিয়া দাঁড়াইছি, এর মধ্যেই সব শেষ। দশটা সেকেন্ডও টাইম নেয় নাই, ইমরান ভাই বাঁচে নাই, আল্লাহ আমারে বাঁচাইয়া রাখছে।”

নারায়ণগঞ্জেরই একটি পোশাক কারখানার গাড়ি চালান আমজাদ।

তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত যে বাঁইচা আছি, মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তানের সাথে কথা কইতে পারতেছি, এইটাই আমার কাছে অনেক কিছু। এখন আবার নতুন কইরা আমার সব শুরু করতে হইব।”

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর