আওয়ামীলীগের নামে দখল, প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন মুক্তিযোদ্ধা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
আওয়ামীলীগের নামে দখল, প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন মুক্তিযোদ্ধা

মাতৃভূমির জন্য যিনি যুদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে গিয়ে আহত হয়েও যিনি পিছিয়ে যাননি, তিনি আজ নিজের শেষ সম্বল রক্ষার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাকবাহিনীর কাছ থেকে দেশের মাটি রক্ষা করলেও আজ ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে নিজের শেষ সম্বল রক্ষা করতে পারছেন না। পারছেন না পুলিশ, জেলা প্রশাসন ঘুরে ও আদালতে থেকে রায় পেলেও নিজের জায়গা উদ্ধার করতে। বরং একের পর এক মিথ্যা মামলা হামলা ও হয়রানী করে যাচ্ছে ভূমিদস্যুরা।

যুদ্ধাহত সেই মুক্তিযোদ্ধা হলেন ফতুল্লার সস্তাপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত হাতেম আলীর ছেলে জুলহাস মিয়া। আওয়ামী লীগ যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন, কর মওকুফ করছে, সরকারি দপ্তর সহ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছেন সেখানে সেই আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে তার জায়গ দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস মিয়া।

২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার সস্তাপুর পূর্বপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে ৯ শতাংশ জমি অবৈধ দখল মুক্ত প্রসঙ্গে ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন এবং সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জুলহাস মিয়া।

জুলহাস মিয়া বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। পাকবাহিনীর বেয়নেটের আঘাতের চিহ্ন এখনও আমার শরীরে আছে। ভাতা পাবো সেইজন্য মুক্তিযুদ্ধে যায়নি তাই সরকার যখন ভাতা দিতে শুরু করেছে তখন আমি আবেদন করিনি। আমি আমার যা কিছু ছিল তাই নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি। আজ আমি দুই চোখে দেখতে পাই না। এ ভূমিদস্যুরা আমার জায়গা দখল করে নিয়েছে। স্থানীয়রা দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এ ভূমিদস্যূ সন্তানদের ভয়ে কেউ কথা বলেনি। এ ভূমিদস্যুরা নিজেদের আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে আমার মতো নিরীহ মানুষের জায়গা জমি দখল করে নিচ্ছে। কিন্তু কেউ এর প্রতিবাদ করতে পারছে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন আপনি আমার জায়গা ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করুন।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৪ সালে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জোরপূর্বক আমার ৯ শতাংশ জমি দখল করে নেয়। কিন্তু আদালত থেকে এসব মিথ্যা মামলা খারিজ করে দেয়। এছাড়াও জমি নিয়ে যতগুলো মামলা করেছে সবগুলো আমার পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত। কিন্তু এখন কোন কাগজ ছাড়া জোরপূর্বক আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে আনোয়ার হোসেন, জুয়েল, খোরশেদ আলম খুশু, রাজ্জাক, রাজু ওরফে গাজু, জহিরুল আলম জহু সহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২জন জায়গা দখল করে রেখেছে। আমরা সেই জায়গায় গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এখন আসামিরা নির্মাণাধীন বাড়ি সহ অন্যান্য সম্পত্তি ও ৯ শতাংশ জায়গা লিখে দেওয়ার জন্য পায়তারা করে চলেছে।’

তিনি আরো করেন, ‘এ বিষয়ে স্থানীয় গনমাণ্য ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে মিমাংসা করার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এখন নতুন করে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি সহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আসমিরা আমার বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি সহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য বলে। এর প্রতিবাদ কলে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারের লোকজনদের মারধর করতে আসে। পরে আমাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বলে যায় আমাদের পরিবারের লোকজনদের যেখানে পাবে সেখানে শেষ করে ফেরবে। এরা সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু এবং খারাপ লোক। নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ায়। তাদের এ হুমকিতে আমি সহ পরিবারের সবাই আতংকিত ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

জুলহাস মিয়া বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী, এমপি, মন্ত্রী, ডিসি, এসপি, ওসি সকলের কাছে আমার ও আমার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চাই। আমার জমি ফিরিয়ে দিতে ব্যবস্থা করবেন এটাই আবেদন করছি।`

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর