টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে মানববন্ধন, প্যানেল মেয়রের একাত্মতা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে মানববন্ধন, প্যানেল মেয়রের একাত্মতা

বহুদিনের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে টানা কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের এক নম্বর বাবুরাইল এলাকার বৌ-বাজারে সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল নামে একটি সমিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে ভুক্তভোগীরা।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস্লকাবের সামনে সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিলের গ্রাহকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সেই সাথে টাকা ফেরত না পাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।

মানববন্ধনে সম্মতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নুরুদ্দিন আহমেদ।

এসময় প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা বলেন, আমার জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করে যাবো আপনাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। আমি নারায়ণঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্দেশনায় গত ৭ অক্টোবর থেকে কাজ করে যাচ্ছি। সেই দিন থেকে আমি বসে নেই। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি টাকা উদ্ধারের জন্য। আপনাদের টাকা উদ্ধারের জন্য যেখানে যাওয়ার প্রয়োজন হয় আমি সেখানেই যাবো।

সমিতির গ্রাহক রুবেল বলেন, আমার সারা জীবনের আয় জমানো ছিল এই সমিতিতে। অনেক স্বপ্ন ছিল এই টাকা নিয়ে। হঠাৎ করেই শুনি টাকা নিয়ে সমিতির মালিক রমজান মিয়া পালিয়েছে। এখন কি করবো কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

সুমাইয়া নামের এক নারী গ্রাহক বলেন, আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। সমিতির মালিক রমজান মিয়া ৮ হাজার গ্রাহকের দশ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এই ৮ হাজার মানুষ তাদের জীবনের সমস্ত উপার্জন এখানে জমিয়েছিল। এখন তারা কোথায় যাবে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি আমাদের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেন। অন্যথায় আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

সমিতির বেশ কয়েকজন গ্রাহক ও অর্থ বিনিয়োগকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন এই সমিতিতে। মাসিক ভিত্তির সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় (ডিপিএস) ও দুই থেকে দশ বছর মেয়াদে (এফডিআর) মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ তারা।

তবে কোন ধরণের লাইসেন্স বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ আঠারো বছর যাবত এভাবেই অবৈধভাবে সমিতি পরিচালনা করে আসছেন মালিক রমজান আলী। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি, জমি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হওয়াসহ অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার কথা স্থানীয়রা বলছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর