লকডাউনে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:১৮ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার
লকডাউনে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফায় ৭দিনের লকডাউনে ভাল নেই শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ। নগরীতে লকডাউন খুব বেশি কঠোর ভাবে পালিত না হলেও আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের।

জানা গেছে, ১৪এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফায় ৭দিনের কঠোর লকডাউন। এ লকডাউন চলবে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে লকডাউনে আওতামুক্ত রাখা হয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত সহ সকল ধরনের শিল্প কারখানা, ব্যাংক সহ উল্লেখ যোগ্য আরো বিভিন্ন সেক্টর। ফলে চলতি এই লকডাউনে সমাজের বিত্তশালীদের উপর খুব বেশি প্রভাব না ফেললেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই লকডাউন অনেকটাই বিষফোড়ার মত। না তারা ঘরে বসে থাকতে পারছেন না বাইরে বের হয়ে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন।

শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসে কলা বিক্রি করা আলী আকবর জানান, করোনার জন্য সবারই বেচা বিক্রি একটু কম ছিল। তেমনটা আমারো কম ছিল। কিন্তু কোন রকমে সংসার চলে যেত। কিন্তু লকডাউনের কারনে এখন ফুটপাতে বসতে পারছি। মনের মধ্যে ভয় থাকে এই বুঝি পুলিশ এসে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিলো। অনেক সময় পুলিশ আসতে দেখলে কলার পাথি নিয়ে সরে যেতে হয়। তাই না পারছি ঘরে বসে থাকতে না পারছি রাস্তায় বসে কলা বিক্রি করতে। লকডাউন তো আর বড় লোকের জন্য না। এই লকডাউনে আমরা গরীব মানুষের না খেয়ে মরার অবস্থা।

শহরের ফুটপাতের এক পাশে চায়ের দোকান চালানো কালাচাঁন মিয়া তিনি জানান, একে তো রমজান মাস চলছে। এর উপর আবার লকডাউন। আগে তো রমজান মাসে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দোকান চালাতে পারতাম। কিন্তু এবার তো তাও পারছি না লকডাউনের কারণে। সরকার ৭দিন লকডাউন দিয়েছে। কিন্তু বড় বড় গার্মেন্ট কারখানা সবই খোলা। শুধু আমাদের গরীবের পেটে লাথি পড়ছে। এই লকডাউন যদি আরো বাড়ানো হয় তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার দ্বিতীয় দফায় আরো ৭দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। প্রথম ধাপের ৭দিনের লকডাউন ঢিলে ঢালা হলেও দ্বিতীয় দফার লকডাউনকে কঠোর ভাবে সম্পূর্নরূপে লকডাউন বলা হয়েছে। তবে লকডাউনের আওতামুক্ত রয়েছে তৈরী পোশাক খাত সব সকল ধরনের শিল্প কারখানা। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে শিল্প কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সেই সাথে ওষুধের ফার্মেসী সহ জরুরি সেবাদান কারী প্রতিষ্ঠান লকডাউনের আওতামুক্ত রয়েছে। লকডাউনে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন, বাস, লঞ্চ ট্রেন, তবে চালু রয়েছে পন্য পরিবহনকারী যানবাহন। লকডাউন চলাকালে দেশের সকল ব্যাংক এবং ব্যাংকের সকল শাখা উপশাখা চালু রয়েছে। তবে চালু থাকবে ব্যাংকের এটিএম বুথ। হোটেল রেস্তোরা খোলা রাখার ব্যাপারে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হোটেল রেস্তোরা খোলা রাখা যাবে। বন্ধ থাকবে সকল প্রকার শপিংমল। খোলা থাকবে কাচাঁবাজার তবে সেখানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লকডাউন চলাকালে জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় চলাচলের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে মুভমেন্ট পাস। তবে এই মুভমেন্ট পাস সকলের জন্য নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর