ঘিঞ্জি নয়ামাটি, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতেও বিপত্তি


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:৪১ পিএম, ০৩ মে ২০২১, সোমবার
ঘিঞ্জি নয়ামাটি, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতেও বিপত্তি

বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি থান কাপড় ও হোসিয়ারী পন্য ব্যবসায়ের অন্যতম। ছোট বড় মিলে কয়েক হাজার দোকান প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। প্রতিদিন প্রায় কয়েক’শ কোটি টাকার হোসিয়ারী পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে লেনদেন হয়ে থাকে এই এলাকা থেকে। কিন্তু এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একে তো অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা মার্কেট আর দোকানের কারনে এলাকাটি ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে ওই এলাকার গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে রাখা হয়না প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। ফলে যে কোন ছোট খাট অগ্নিকান্ড ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্খা ছিল আগে থেকেই। এ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান উক্ত এলাকায় কল-কারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিয়মিত পর্যবেক্ষনের তাগিদ দিয়ে ছিলেন একাধিকবার।

বিষয়টি তিনি বেশ কয়েকবার জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাতেও উত্থাপন করে ছিলেন। কিন্তু উনার এই বক্তব্যের কল কারখানা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই একদিন তৎপরতা দেখালেও দুর্ঘটনার আশঙ্খা রোধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়নি।

সোমবার ৩ মে নয়মাটিতে অর্চনা মার্কেট নামের একটি মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে ঢুকার প্রবেশ পথ ঘিঞ্জি ও সরু হওয়ায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনা স্থলে গিয়ে পৌছে। কিন্তু অগ্নিকান্ড ঘটা মার্কেটের কাছে পৌছাতে পারেনি সেই গাড়ি লো। পাশাপাশি যে মার্কেট টিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে থেকে ধোয়া বের হওয়ার মত পর্যাপ্ত ফাকা জায়গা না থাকার কারণেও আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার কাজে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে পৌছে। কিন্তু ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ার কারনে গাড়ি ঢুকতে পারেনি। আর ভবনের আশপাশে খালি জায়গা মানে ভবন থেকে ধোয়া বের হওয়ার মত পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কাজ করতেও অনেক সমস্যা হয়েছে। যার ফলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নয়মাটি এলাকায় যেসকল ভবন গুলোতে এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেই সকল ভবনগুলোর প্রায় ৯০ ভাগই একটি ভবন ঘেসে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়ম মাফিক দুইটি ভবনের মাঝখানে যতক্ষানি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা তার এক ইঞ্চিও ছাড় দেওয়া হয়নি। এছাড়াও মার্কেটের ভেতরে এমন ভাবে দোকান তোলা হয়েছে যেখানে পাশাপাশি দুইজন মানুষও স্বাভাবিক ভাবে হাটা চলায় বিঘœ ঘটে। দোকান পাট গুলোতে রাখা হয়না অগ্নি নির্বাপক মেশিন, বালু বা পানির ব্যবস্থা। যাতে করে অগ্নিকান্ড শুরুতেই নিজস্ব স্বক্ষমতায় সেটি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়। প্রতিদিন এই মার্কেটে হাজার হাজার ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত হয়ে থাকে। মানুষের যাতায়াতের সংখ্যার তুলনায় সেখানেও রাস্তা গুলোও অত্যন্ত সংকোচিত। এর মধ্যে রাস্তা গুলোর প্রবেশ পথে অবৈধ দোকানপাট। সংকোচিত রাস্তা এবং প্রবেশ মুখে অবৈধ দোকান পাটের কারনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গুলো ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা গ্রস্থ হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, সোমবার নয়ামাটিতে ঘটা অর্চনা মার্কেটের অগ্নিকান্ডে ঘটনা থেকে আমাদের ভবিষ্যতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। নয়মাটি সহ এমন ঘিঞ্জি বাণিজ্যিক এলাকা গুলোকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা সহ প্রাণহানির মত ঘটনার আশঙ্খা থেকে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর