শহরের মার্কেটে বাড়ছে ক্রেতা কমছে সুরক্ষা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:৫১ পিএম, ০৩ মে ২০২১, সোমবার
শহরের মার্কেটে বাড়ছে ক্রেতা কমছে সুরক্ষা

সরকার লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে গেলেও দিন যাচ্ছে মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু ক্রেতা বাড়লেও করোনা সংক্রামন রোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নূন্যতমও বাড়েনি। বরং সুরক্ষার সর্বশেষ যে ব্যবস্থা মাস্ক ব্যবহার করা হতো এখন সেটাও অনেকের মুখে দেখা যাচ্ছে না। মার্কেটে এমন চিত্র থাকলেও সুরক্ষা নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না।’

৩ মে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত দখল করে নিয়েছে হকাররা। আর রাস্তায় রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাকে মূহূর্তে মুহূর্তে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। কখনো আধা ঘণ্টা আবার কখনো তারচেয়েও কম সময় যানবাহনে বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। একই সঙ্গে শহরের ডিআইটি, কালীরবাজার, চাষাঢ়া এলাকার সকল মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়। শরীরে ঘা-ঘেষে একে অন্যে চলাচল করছে। যততত্র হাচি-কাশি দেওয়ার পাশাপাশি ঘাম ঝারছে অনেকেই। কিন্তু এসব মার্কেটের সামনে জীবানুনাশক টানেল, হ্যান্ড স্যানেটাইজার ছিটানো, মাস্ক ব্যাধ্যতামূলক করার মতো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তবে এ বিষয় নিশ্চিত করতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মনিটরিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে ডিআইটি এলাকার এফ রহমান সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে,‘ দোকানদারদের মুখে মাস্ক নেই। আবার দোকানে আসা অনেক ক্রেতারও মুখে মাস্ক নেই। এছাড়াও বর্ষন সুপার মার্কেট, জলিল সুপার মার্কেট, গ্রীন সুপার মার্কেট, সোনারবাংলা সহ আশে পাশের মার্কেটগুলোতেও একই অবস্থা।’

নারায়ণগঞ্জের সব থেকে বেশি ভীড় চোখে পড়েছে কালীরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটে। থ্রি-পিসের প্রতিটি দোকানের ক্রেতাদের ধাক্কা ধাক্কা হচ্ছে কেনাকাটা নিয়ে। কিন্তু সেখানেও সচেতনতার নূন্যতম চিহ্নও দেখা যায়নি।

একই দৃশ্য ছিল চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটেও। গরমে ঘামে শরীর ভিজে অসুস্থ হয়ে পরলেও কেনাকাটার কমতি নেই। প্রেসিডেন্ট রোড যাওয়া আশার রাস্তাও ক্রেতাদের ভীড় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

উল্লেখ গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী প্রথম এক সপ্তাহ মানুষের চলাচল কম থাকায় আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে নতুন করে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের সীমা বাড়ানো হয়। তবে এর মধ্যে শুরু থেকেই গার্মেন্টস সচল থাকায় ছোট ছোট যানবাহন যেমন রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে প্রাইভেটকারও চলাচল করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বন্ধ ছিল জরুরী প্রয়োজনের দোকান, শিল্প কারখানা, গার্মেন্টস ছাড়া সকল কিছু। তবে পরবর্তীতে লকডাউনের মধ্যে মার্কেট খোলা রাখার বিষয়ে সিথিল হয়। তারপর থেকেই মূলত মার্কেটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। আর সেটা বাড়তে বাড়তে এখন গাদাগাদি হয়ে যাচ্ছে। করোনা সংক্রামণ হতে পারে সেই বিষয়ে মানুষের মধ্যে কোন ভয় বা ভবনাও নেই।

ডিআইটি এলাকার রাজধানী শাড়ির দোকানের বিক্রেতা বলেন,‘গত শুক্রবার থেকে মূলত বেচাকেনা লেগেছে। ক্রেতা আছে। তবে করোনার জন্য সবাই কমদামী পণ্য খুজছে। তবে আর কোন লকডাউন না হলে বিনিয়োগের টাকা উঠানো যাবে।’

সময়বায় মার্কেটের বিক্রেতা তুষার বলেন, ‘ক্রেতা আছে কিন্তু সবাই প্রচ- ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে ভীড় বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে অনেকেই দেখছে পছন্দ হয়েছে কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছে। তারা ভীড় করতে পছন্দ করছে না।’

অন্য বিক্রেতা বলেন, ‘দোকান রাত ৮টার পর বন্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে ক্রেতারা আসতে পারছে না। কারণ সন্ধ্যায় গার্মেন্ট ছুটি হওয়ার পরই মূলত ক্রেতারা আসে। ততক্ষনে দোকানও বন্ধ হয়ে যায়। এখন যারা আছে তাদের অর্ধেকের বেশি ক্রেতানা ঘুরতে এসেছে। ১০ থেকে ১২টা দোকান দেখে একটা কিনে। যার জন্য ভীড় বাড়ছে।’

মার্কেটের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। এমনকি মার্কেট কমিটির লোকজনকেও খোঁজে পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘শুরুতে লকডাউনের সুফাল পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রামন কমে এসেছে। কিন্তু এখন যেভাবে মানুষ বের হচ্ছে তাতে সংক্রামণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যারাও বের হচ্ছে তারাও যদি মাস্ক ব্যবহার করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে সংক্রামণ কম ছড়াবে। অন্যথায় এর জন্য একসময় দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর