যানজটের নগরী নারায়ণগঞ্জ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৫৭ পিএম, ০৪ মে ২০২১, মঙ্গলবার
যানজটের নগরী নারায়ণগঞ্জ

৪ মে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মন্ডলপাড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে চাষাঢ়া থেকে রিকশায় উঠেছেন ফয়সাল হোসেন। যানজট এতটাই প্রকোট যে ৩০ মিনিট পর তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। এরপর সেখানে আটকে থাকেন আরও ১০ মিনিট। বাধ্য হয়ে রিকশা থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন ফয়সাল।

এ পরিস্থিতির শিকার শুধু ফয়সাল হোসেন নয়। গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে যানজট বেড়ে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগে পড়েছেন শহরে আসা প্রতিটি মানুষ। অনেকে আধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ যানজটে আটকে থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন।

গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কসহ সবগুলো সড়কেই এমন ভয়ানক যানজট। যানজট থেকে নিস্তার মেলেনি এসব সড়কের সঙ্গে যুক্ত ছোট রাস্তাগুলোও। আগে থেকেই নানান সমস্যায় জর্জরিত নারায়ণগঞ্জের জনজীবণ এখন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দিনভর এমন ভয়াবহ যানজটে ফয়সাল হোসেনের মতোই নগরবাসীর জীবন বিষিয়ে তুলছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায় শহরে যানজটের ভয়াবহ চিত্র। বাস লেগুনার মতো বড় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়কগুলোতেও শুধু রিকশা, ব্যাটারী চালিত রিকশা এবং ইজিবাইকের রাজত্ব। সামান্ন জায়গা পেলেই সেখানে ঢুকে যাচ্ছে। সেই সাথে উল্টো পথে চলাচলের প্রবণতাও বেশি। যে কারণে যানজট একবার শুরু হলে আরও বাড়তেই থাকে। শহরে চলমান এসব যানবাহনের দিকে খেয়াল করলে অনুমান করা যায় এর ২০ শতাংশ রিকশা, ১০ শতাংশ ইজিবাইক বাকি ৭০ শতাংশই ব্যাটারী চালিত রিবশা এবং মিশুক নামে ছোট ইজিবাইক।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্যমতে লাইসেন্সসহ চলাচলকারী রিকশার সংখ্যা ১৯ হাজার ৫২৬টি। ব্যাটারী চলিত রিকশা এবং ইজিবাইকের কোনো নিবন্ধন না থাকায় এর সঠিক সংখ্যা কারও কাছে নেই। তবে ব্যাটারী চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা রিকশার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ব্যাটারী চালিত রিকশা এবং ইজিবাইক শহরে প্রকেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে প্রবেশ করলে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। তবে করোনায় লকডাউনের মধ্যে মানবিক কারণে এসব যানবাহন শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চাষাঢ়ার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস।

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ‘যানজটের মূল কারণ হচ্ছে শহরে অত্যাধিক ব্যাটারী চালিত রিকশা, ইজিবাইক বেড়ে গেছে। লকডাউন তো কেউ মানছে না। সবাই শহরে আসছে। আবার যেহেতু সামনে ঈদ, মার্কেটে কেনাকাটা করতে মানুষ ভিড় করছে। এসব কারণেই শহরে যানজট বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘চাষাঢ়া থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত এডমিন ১ জন, সার্জেন্ট সকালে ১ জন বিকেলে ১ জন, এটিএসআই সকালে ১ জন বিকেলে ১ জন, কনেস্টেবল সকালে ৩ জন বিকেলে ৩ জন। এই জনবল দিয়েই যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে আগামীকাল থেকে জনবল আরও বাড়ানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউন চলছে তাই মানবিক কারণে আমরা ব্যাটারী চালিত রিকশা আটকাচ্ছি না। কঠোর কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছি না। যে কারণে আগে যেসব ব্যাটারী চালিত রিকশা এবং ইজিবাইক কখনই শহরে আসতো না। এখন তাঁরাও শহরে আসছে। মানবিক কারণেই আমরা কিছু বলছি না। তবে যেহেতু ঈদের কেনাকাটা করতে মানুষ শহরে আসছে তাই যানজট বেশ। ঈদের পর থেকে এমন যানজট থাকবে না। আর লকডাউন উঠে গেলে ইজিবাইক এবং ব্যাটারী চালিত রিকশা শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বাস চালু হয়ে যাবে। তখন যানজট থাকবে না।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তিতে নাসিকের লাইসেন্স পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন সুমনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর