লালপুরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কাজ শুরু


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১, বৃহস্পতিবার
লালপুরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কাজ শুরু

ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংলগ্ন জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে খাল খনন শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত ১৪ জুলাই থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেন তারা। জলাবদ্ধতা নিরসন মিটিংয়ের মাত্র ৭ দিনের মাথায় নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। তবে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের দ্রুত সহযোগীতা প্রত্যাশা করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তাবৃন্দ।

ফতুল্লার লালপুর এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কক্ষে ৩টি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়। তিনটি প্রস্তাবনার ভেতর ৩য় প্রস্তাবনার ম্যাপ অনুসারে কাজ শুরু করেছে ডিএনডি প্রকল্পের কর্মকর্তারা। আগামী কয়েকদিনের ভেতরে সওজ অংশের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন প্রকল্প পরিচালক।

সোমবার ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে অবস্থিত জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায় সেনাবাহিনীর বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখানে সওজের জায়গা দখল করে অবস্থান করা দলিল লেখক সমিতির অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী এক্সাভেটর দিয়ে ম্যাপে উল্লেখিত এনআরটুএ খালটি খনন করে জেলা পরিষদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের সাথে সংযোগ স্থাপন করে দিয়েছেন। আগে এই খালটি একটি ড্রেনের মাধ্যমে কোনমতে প্রবাহ টিকিয়ে রেখেছিল। নতুন করে খাল খনন করায় দ্রুতই সরে যাবে জলাবদ্ধতার পানি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএনডির প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর মোস্তাকিম সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এই কাজটি লালপুরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্যে করা হচ্ছে। ৩য় প্রস্তাবনাটি আমাদের হাতে ছিলো। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় প্রস্তাবনাটি রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম এই দুটো সহ যেন কাজটি করা হয়। তাহলে অনেক দ্রুত পানি নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত রেলওয়ে আমাদের কোন সহযোগিতা করেনি এবং জেলা প্রশাসনও এনআরটুএ বুঝিয়ে দেয়নি।

একই বিষয়ে ডিএনডির প্রজেক্ট ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আহসানুত তাকবীম সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আসলে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আমাদের নিজ প্রজেক্টের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হচ্ছে। আমরা প্রধান লক্ষ্য রেখেছে মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন। আর ডিএনডি ও তার আশেপাশের এলাকাগুলো কানেক্টেড। দেখা যাবে বাইরের একটি যায়গার জন্য পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না। তাই আমরা বাইরে গিয়েও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজ করছি। আমরা যেসকল খাল খনন করছি তা দ্রুতই ভরাট হয়ে যায় আবর্জনায়। এটি আমাদের বড় একটি সমস্যা। বর্তমানে প্রতিটি এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও কাউন্সিলরদের বলে আসছি তারা যেন খালগুলো দেখভাল করে। তা না হলে কিছুদিন পরে খনন করা খালগুলো ভরাট হয়ে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে দুর্ভোগে পড়বেন স্থানীয় বাসিন্দারাই।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন সভায় লালপুরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩টি প্রস্তাবনা তোলেন ডিএনডি প্রকল্পের কর্মকর্তারা। এসময় ৩টি প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন ও তার সম্ভাব্য সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তারা। তবে প্রস্তাবনা ৩টির ভেতর ২য় এবং ৩য় প্রস্তাবনায় আশা রয়েছে এমন বার্তা জানানো হয় দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জের প্রতিবেদনে। তারই প্রেক্ষিতে এবার ৩য় প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ শুরু করতে দেখা গেছে প্রকল্পের কর্তাব্যক্তিদের।

প্রকল্পের ৩য় প্রস্তাবনায় বলা হয়। লালপুর অঞ্চল থেকে দক্ষিন দিকে ইসদাইর অঞ্চলটির দূরত্ব ১.৩ কিলোমিটার। রেললাইনের পাশ দিয়ে পানি প্রবাহ সচল করে জলাবদ্ধতার পানি ইসদাইরের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এরপর ইসদাইর রেললাইনের নিচ থেকে এনআরটুএ নামক একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে যেটি ইতিপূর্বে খাল ছিলো। সেই এনআরটুএ খাল খনন করে এনআরটুবি খালের সাথে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দিকে ড্রেন ও পাইপের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পাশ দিয়ে যেই খালটি বয়ে গেছে সেখানে গিয়ে পতিত হবে লালপুরের পানি। মূলত ইসদাইর হয়ে পানির প্রবাহ একটি যাবে এনআরটুবি খাল হয়ে নলখালী খালের দিকে, আরেকটি লিংক রোডের নিচ দিয়ে জেলা পরিষদ এলাকার খালের দিকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর