লকডাউনের বিপরীতে নাই করোনা ভীতি


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৫৮ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১, সোমবার
লকডাউনের বিপরীতে নাই করোনা ভীতি

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ঈদের আগে এবং পরে এই সংখ্যার হেরফের নেই বললেই চলে। সংক্রমণের রেকর্ড ভেঙ্গে উপরে উঠতে থাকলেও মানুষের মাঝে নেই করোনা ভীতি। জেলাজুড়ে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি থাকার কথা বার বার বলা হলেও নেই মানুষের ভয়। অথচ করোনা মোকাবেলার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা।

গত এক বছরের বেশী সময় ধরে বার বার বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। আর এই স্বাস্থ্যবিধি মানুষ তখনই মানবে যখন মানুষ করোনার সংক্রমণের বিষয়ে অবগত হবে এবং এর থেকে বাঁচার চেষ্টা করবে। অর্থ্যাৎ কোন না কোন ভাবে করোনার ভীতি থাকতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ভাইরাস দেশে অবস্থান করায় মানুষ প্রথম দিকে জীবন বাজি রেখেই নেমে এসেছিলো জীবিকার টানে। সেসময় অনেকেই হার্ড ইমিউনিটির কারনে নিস্তার পেয়ে যাওয়ায় কেটে গেছে করোনা ভীতি। আর এই পরিস্থিতিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বত্র।

লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষ করোনার চাইতে পুলিশ, র‍্যাব কিংবা সেনাবাহিনীকে বেশী ভয় পায়। অথচ তাদের নামানো হয়েছে মানুষকে নিরাপদ এবং সচেতন করার জন্য। কিন্তু তারা কিভাবে এদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন সেই চিন্তায় থাকেন। এভাবে তো লকডাউন বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। মানুষের মাঝে ভীতি না থাকলে, মানুষের মাঝে সচেতনতা বোধ না থাকলে কতটা সময় ঘরে আটকে রাখা যায়?

ঈদের পূর্বে ঘোষণা করা লকডাউন পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে মানুষ লকডাউন সম্পর্কে ভীত না হলেও কারফিউ শব্দটির সাথে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত। তাতে তারা বুঝতে পারে সেনাবাহিনী এই মুহুর্তে কঠোর অবস্থানে আছে। এতে করে মানুষ ঘর থেকে বের হবার পূর্বে কয়েকবার ভাববে।

ঈদের পর নতুন করে লকডাউন ঘোষণা দেয়া হলে তাতে যুক্ত করা হয় গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়টি। তবে এর মাঝেও কতিপয় কারখানা মালিকরা চুপিসারে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। কাজে যোগদান না করলে বেতন কেটে রাখারও হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র এবং ছোট পরিসরে কারখানা চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকেই এই অভিযোগ বেশী দেখা যায়।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডাঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন,, নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকলেই করোনা মোকাবেলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা বার বার বলি মাস্ক পরতে, সাবান দিয়ে হাত ধৌত করতে, ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা কোনভাবেই মানতে চায় না। এর অন্যতম কারন হচ্ছে উদাসীনতা এবং করোনা ভীতি না থাকা। প্রথমদিকের লকডাউনে আমরা দেখেছি অনেকেই করোনা সংক্রমণের ভয়ে বের হননি। এখন অনেক শিক্ষিত এবং সচেতন মানুষ ইচ্ছে করেই রাস্তায় নেমে যাচ্ছেন। অথচ তারা কিন্তু প্রতিনিয়ত টিভি ও পত্র পত্রিকায় দেখছেন কিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তারপরেও তারা ভাবেন তাদের এমন কিছুই হবেনা। এমন মন মানসিকতা পরিবর্তন না করা গেলে এদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর