সার্ভে সম্পন্ন, নারায়ণগঞ্জ শহরে গভীর ড্রেন


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৪৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার
সার্ভে সম্পন্ন, নারায়ণগঞ্জ শহরে গভীর ড্রেন

নগরীর ড্রেনেজ সিস্টেম এর আধুনিকায়নে হাত দিয়েছেন নাসিক মেয়র ডা. আইভী। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে আর হাটু পানি জমবে না। ব্রিটিশ আমলের তৈরী করা ড্রেনেজ সিস্টেম আমূল সংস্কার হতে যাচ্ছে। নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের পুরনো ড্রেন এর আধুনিকায়ন করা হবে। পুরনো ব্রিক ড্রেন ভেঙ্গে নির্মাণ করা হবে আরসিসি ডিপ ড্রেন। বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের ড্রেনেজ সিস্টেম পরিবর্তনে মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এই মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা থাকবে না। ড্রেনেজ সিস্টেম পরিবর্তনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের ড্রেনেজ সিস্টেম এর ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে ডিজিটাল সার্ভে করা হয়েছে। গত একমাস ধরে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সার্ভে করেছে প্রকৌশলীরা। কয়েক দিনের মধ্যে সার্ভে রিপোর্ট মেয়রের দপ্তরে জমা হওয়ার কথা। এ রিপোর্ট দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, এক ঘন্টা বৃষ্টি হলেই শহরের প্রধান সড়কে পানি জমে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীসমাজ ও নাগরিকগণ এ ব্যাপারে মেয়র আইভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিলেন। সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের ড্রেন অনেক পুরনো। দেড় থেকে ২ ফুট চওড়া ও ৪ ফুট গভীর। যখন লোকসংখ্যা কম ছিল এবং শহরের জলাধার ও পুকুর -নালা ছিল তখন এই ড্রেনেই পানি নেমে যেত। বর্তমান যুগে এসে এই ড্রেনে আর কাজ চলছে না।

সম্প্রতি নাসিক এর বাজেট ঘোষনার অনুষ্ঠানেও এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মেয়র জানান, বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের ব্রিক ড্রেন আর থাকছে না। ব্রিক ড্রেনের স্থলে আরসিসি ডিপ ড্রেন করা হবে। এ লক্ষ্যে সার্ভে চলছে। সার্ভে শেষ হলেই ড্রেনের কাজ শুরু হবে। নতুন করে নির্মিত ড্রেন কমপক্ষে ৪ ফুট চওড়া হবে। ড্রেনের গভীরতা হবে ৬ থেকে ৮ ফুট। একাধিক নতুন আউটলেট থাকবে। তাছাড়া ভূমির উচু নিচুতাও দেখা হবে। আউটলেটের দিকে কিছুটা ঢালু থাকবে। যাতে পানি দ্রুত আইটলেট দিয়ে দ্রুত নদীতে নেমে যেতে পারে।

নাসিক এর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের দুপাশের ড্রেন পুরনো আমলের। এ যাবত ড্রেনের আধুনিকায়ন হয়নি। এবার নাসিক মেয়র জনদুর্ভোগ লাঘবে ড্রেনেজ সিস্টেম আমূল সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ভিড়েও মেয়র এ কাজটি হাতে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের ড্রেনের কি অবস্থা এবং কোথায় কতটুকু টেকনিক্যাল সমস্যা সে সব নির্ণয়ে সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকৌশলীরা জানান, সার্ভে করার সময় ড্রেনেজ সিস্টেম এর কদর্য্য চিত্র উঠে এসেছে। চিত্রটা এমন; বর্তমান ড্রেন ২ ফুট চওড়া ও ৪ ফুট গভীর। ড্রেনের র্দৈঘ্য চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২১০০ মিটার। এই ড্রেনের সম্পূর্ণটাই ছিল অপরিকল্পিত। বছরের পর বছরের সংস্কার হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এর জন্য শহরের নাগরিকরাও দায়ী। ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিনে জ্যাম হয়ে থাকে। বার বার পরিস্কার করেও সুফল মিলেনা। তার কারণ মানুষের বদঅভ্যাস। ড্রেন পরিস্কার হয়েছে তো আবারো রাস্তার পাশের দোকানদার তার ময়লা ড্রেনে ফেলে দিলেন। কাজটা তিনি করেন চুপি চুপি। ভাবেন কেউ দেকেনি। আমি একা একটু ময়লা-পলিথিন ফেললে কি আর ড্রেন ভরে যাবে ? সবাই যে যার মত এমনটা ভেবেই আড়ালে-আবডালে ময়লা ফেলেন। ড্রেন জ্যাম হয়ে যায়। এবার বৃষ্টি এলে ড্রেন ফুলে উঠে পানি উপচে আসে রাস্তায়।

সূত্রমতে, আরেকটি সমস্যা হলো শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশের ড্রেনগুলোতে রাস্তা থেকে পানি সরে যাওয়ার পয়েন্টগুলোতে খুবই ছোট ছিদ্র চোখে পড়ে। ওই ছিদ্র বিভিন্ন মার্কেটের দোকানদাররা ঢালাই করে বন্ধ করে দেয়। এমনভাবে ঢেকে দেয় যে, পানি নিষ্কাশিত হবার ছিদ্রটি ঢেকে যায়। আরেকটা কারণ হল, ফুটপাতের পাশেই ড্রেনের ছিদ্রগুলোর সামনে বাক্স বা প্লাস্টিকের বোতল ফেলা হয়। বৃষ্টির পানি দ্রুত ওই ছিদ্র দিয়ে যাওয়ার সময় প্লাস্টিকের বোতল বা কোন বাক্স যায় আটকে। ব্যস ওই ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে গেল। পানি আর সরছে না। বৃষ্টির পানি ড্রেনে নামতে না পেরে ওভার ফ্লো হচ্ছে। উপরের দিকে ফুলে উঠছে। দেখা যায় নগরীর কোথাও কোথাও রাস্তায় পানি জমে ফুটপাতও ডুবে যায়।

জানাগেছে, এসব পুরনো ও কঠিন সমস্যা দূর করতেই মেয়র নতুন করে ড্রেনেজ সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছেন। শহরের রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই কারণগুলো দূর করেই নতুন করে ড্রেন নির্মাণ করা হবে ডিপ ড্রেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর