সেদিন তাকে হত্যা করা হতো!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার
সেদিন তাকে হত্যা করা হতো!

নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত নির্বাচন ছিল ২০১১ সালের প্রথম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। এই নির্বাচনে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী দুই নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। একই দলের দুইজন প্রভাবশালী নেতা অংশগ্রহণ করায় এই নির্বাচনটি ছিল অনেক উত্তেজনাপূর্ণ। অনেক ঘটনার মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের সেবারের নির্বাচন শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় সারাদেশব্যাপী আলোচনায় চলে আসে। আর সেই নির্বাচনের প্রায় ১০ বছর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে তাঁরই অনুগামী একজন সে সময়ের ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের সকুমপট্টি থেকে শুরু করে শীতলক্ষ্যা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সড়কের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উপস্থিত ছিলেন। ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কবির হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘অনেকের জুনিয়র ছাত্রলীগের রনি (জামির হোসেন রনি)। আপনাদের অনেকেরই তয়তো মনে আছে ২০১১ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে রনিকে যেভাবে আমার বিপরীত পক্ষের প্রার্থী শামীম ওসমান মারধর করেছিল। যদি র‌্যাব সেখানে উপস্থিত না হতো তাহলে তাকে সেদিন মেরে ফেলতো। আমি শীতলক্ষ্যায় আসলে তার কথা মনে করি।’

প্রসঙ্গত রনি এখন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য। তিনি ঘটনার সময়ে জেলা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।

তবে সেদিন কি ঘটেছিল? সে বিষয়ে জানতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিও সূত্র ধরে জানা যায়, সেদিন শামীম ওসমান সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, ‘আমি খবর দৌড়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে নির্বাচনী কেন্দ্রের সামনে এসেছি। পাবলিক ধাওয়া দিয়ে ওকে ধরেছে। পুলিশ নাই। নিয়ম নাই। নিয়ম হচ্ছে এক এলাকার মানুষ আরেক এলাকার নির্বাচনের দিন কোনো সেন্টারের সামনে যেতে পারবে না। সে এই সেন্টারে ঢুকতে পারে না। পাবলিক করেছে।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, ‘তারা একটা এখানে ঢুকেছে। আমি খবরটা পেয়ে হাতেনাতে ধরার জন্য দৌড়ে এসেছি। এর আগে তোলারাম কলেজে দেখে আসছিলাম। নন্দিপাড়ার ভিতরে হিন্দু মহল্লার মধ্যে দেখে আসছি। তারপরে এখানে ঢুকেছে। যেই দেখছে আসছি বাকীগুলো দৌড় দিছে আর একে দৌড়িয়ে ধরেছে।’

সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রনি বলেন, ‘আমি জামি হাসান রনি। আমি নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আমার কার্ড আছে। আমি এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে আমাকে আটকিয়েছে। আমি কেন দৌড় দিব। আমি আওয়ামী লীগ করি ছাত্রলীগ করি। আমি নলুয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবো। আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। এখানে দৌড়ানো হচ্ছে। আমি দৌড় দিবো কেনো? আমি তো কোনো অপরাধ করি নাই। যদি অপরাধ করি তাহলে দৌড় দিবো।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর