১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায়


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:০১ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায়

নৌযান শ্রমিক কর্মচারীদের খাদ্যভাতা নির্ধারণ করে চলতি বছরের মার্চ থেকে কার্যকর করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে সোমবার ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের অর্ন্তভুক্ত বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

এ লক্ষ্যে রোববার ১৮ অক্টোবর দিনব্যাপী নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয় শীতলক্ষ্যা, ধলেশ^রী ও বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রচারণা চালায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এসময় নদীপথে বিভিন্ন পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদারের নেতৃত্বে কর্মবিরতি পালন কর্মসূচীর গণসংযোগকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিআইডব্লিউটিসি’র ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নিজামউদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কবির হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক ও দশআনি মোহনপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যে সবুজ শিকদার বলেন, খাদ্য ভাতা একটি মিমাংসিত দাবি হলেও সেই দাবি মানা হচ্ছেনা। শ্রমিক নামধারী কিছু দুস্কৃতিকারীর সঙ্গে মালিকপক্ষ আতাঁত করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। সকল সেক্টরে মালিকরা সুবিধা পেলেও শ্রমিকরা কোন সুবিধা পায়না। নৌপথের শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অবিলম্বে আমাদের ১১ দফা দাবি মেনে নেয়া না হলে সোমবার ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে নৌযান শ্রমিকরা একযোগে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করবে।

নৌযান শ্রমিকদের ১১ দফা দাবিগুলো হলো, নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারীদের খাদ্য ভাতা নির্ধারণ করে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে কার্যকর করতে হবে। নৌ আইন মেনে ডব্লিউটিসি সিরিয়াল অনুযায়ী সকল চট্টগ্রাম সমুদ্রগামী সকল লাইটারেজ জাহাজ চলাচল করতে হবে। মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, সার্ভিসবুক দিতে হবে এবং কথায় কথায় কোন শ্রমিকের চাকুরীচ্যুত করা চলবে না ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে তার দায় মাস্টারদেরকে দেওয়া যাবেনা। জাহাজে সকল শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। নৌযানে কাগজপত্র দেখার নামে নৌ প্রশাসনের সকল হয়রানী জুলুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা বন্ধ করতে হবে। ইনল্যান্ড মাস্টার ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায় ও ডিপিডিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং কোর্স চলাকালীন সময়ে নৌযান থেকে শ্রমিকদের ছুটি বাধ্যতামূলক দিতে হবে। নৌযান শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নৌযান শ্রমিক কর্মচারীদে ১২ লাখ টাকা মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সরকার কর্তৃক কল্যাণ তহবিল অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি সহজপন্থ ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতগামী নৌযান শ্রমিকদের লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে ল্যান্ডিং পাশ, সার্ভিস ভিসা ও জাহাজে ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকদের সুবিধামতো স্থানে দৈনন্দিন বাজারঘাট করার জন্য পারাপারের নৌকার ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন পয়েন্টে নদীপথে ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে। নৌপথে ড্রেজিং ও পর্যাপ্ত বয়াবাতি স্থাপন করতে হবে। ৮ ঘন্টার অধিক কাজের জন্য ওভারটাইম হিসেব করে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে। ঈদের পূর্বে ও ১ মে শ্রমিক দিবসে নৌযান শ্রমিকদের ছুটি দিতে হবে।

এর আগে ১২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের ৫নং ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে ১১ দফা দাবিতে ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
সংগঠন সংবাদ এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর