জবানের, জীবনের নিরাপত্তার উপর কর্তৃত্ব


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, শুক্রবার
জবানের, জীবনের নিরাপত্তার উপর কর্তৃত্ব

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও ডিজিটাল আইনে বন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পূর্বে একটি মিছিল নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ২নং রেল গেইট হয়ে আবার প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেত হয়।

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাসের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক পপি রাণী সরকার, রাজনৈতিক শিক্ষা সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড, কেন্দ্রীয় ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, জেলার সভাপতি শুভ দেব, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামান, মহানগরের আহ্বায়ক ফারহানা মানিক মুনা প্রমুখ।

আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘গতকাল লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দী ছিলেন। তার অপরাধ ছিল তিনি কার্র্টুনিস্ট কিশোরের আঁকা কার্টুন শেয়ার করেছিলেন। আমাদের এখানে জেলের ভিতরে কেউ অসুস্থ হলে রাষ্ট্র তার চিকিৎসা খরচ বহন করে থাকে। অথচ সে জায়গায় রাষ্ট্র তার চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা না রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের এত নাজুক অবস্থা যে সামান্য একটা কার্টুন শেয়ারের জন্য মৃত্যুবরণ করতে হয়। জবানের উপর, জীবনের নিরাপত্তার উপর কর্তৃত্ব চালানো হচ্ছে। এ রাষ্ট্র রাতের আধারে ভোট ডাকাতি করে জনগণের উপর ফ্যাসিবাদী শাসন চালাচ্ছে। আমরা লেখক মুশতাক আহমেদের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই। এই ডিজিটাল নিরাপত্তার কালো আইন থেকে সাংবাদিক, চিকিৎসক, ডাক্তার এমনকি নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেহাই পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার কোন সমালোচনা নিতে পারছে না বরং দেশজুড়ে ভীতি ও লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে। আর কেউ এর সমালোচনা করলেই তার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে তাদের উপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সরকার একটি স্বৈরাচারী সরকার। আমাদের এই হত্যাকান্ডের শোককে সংগ্রামে রুপান্তরিত করতে হবে।’

তরিকুল সুজন বলেন, ‘সমাবেশের বিষয় ছিল চাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে। অথচ সে জায়গায় কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদ এর মৃত্যুর কারনে সমাবেশ করতে হচ্ছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহর গুম খুনের শহর হিসেবে বেশ পরিচিত। দেশে চঞ্চল, ভুলু, ত্বকী, সিয়াম, মিঠু হত্যাকান্ডের বিচার হচ্ছে না। এই সরকার জনগণের সরকার নয় বরং এই সরকার জালিমের সরকার। এই পরিস্থিতিতে জনগণের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন প্রয়োজন নেই। বরং সেখানে জনগণের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায় প্রয়োজন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবীতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর