নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড মানের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করেনা


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১২ জুন ২০২১, শনিবার
নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড মানের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করেনা

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরে লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে পড়া নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড, খুলনা ও চট্টগ্রামের ড্রাইডককে নৌবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। এছাড়াও গাজীপুরে মেশিন টুলস প্রতিষ্ঠানকে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্তে আজকে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজকে বাংলাদেশ জাহাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সুখ্যাতি অর্জন করেছে। নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড মানের ক্ষেত্রে কোন কম্প্রোমাইজ করেনা। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তারা মানসম্পন্ন নৌযান তৈরী করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বহুমাত্রিক চিন্তা করে উন্নয়ন কাজ করছেন। মংলা পোর্ট এলাকায় ড্রেজিং এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সমপর্যায়ে নেয়ার কার্যক্রম চলছে। বরিশালের পায়রা বন্দরে ১ম টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর চুক্তি সাক্ষর হবে। ৬৫ কিলোমিটার চ্যানেল ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হলে পায়রা বন্দর হবে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। ২৬০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। আরো একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নৌবাহিনীর ঘাটি নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমূল পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। আগে চট্টগ্রামে শুধু মেরিন একাডেমী ছিল বর্তমান সরকার বরিশাল, খুলনা ও রংপুরে ৪টি মেরিন একাডেমী নির্মাণ করেছে। বরিশালের মানুষ আগে কখনো রেললাইন দেখেনি। এখন পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মিত হচ্ছে। একটা সময়ে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। আজকে কিন্তু বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হয়না। সরকারকে বিতর্কিত করতে বাসন্তীদের শাড়ি পড়িয়ে জালের চেয়ে শাড়ির দাম বেশী বলে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এতে কিন্তু উত্তরাঞ্চলের বাসন্তীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। রংপুর নীলফামারিসহ অনেক এলাকা মঙ্গা কবলিত ছিল। কিন্তু আজকে এই ১০ বছরে সেখানে মঙ্গার কোন চিহ্নই নেই। আজকে চিলমারী বন্দরে ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী বন্দর নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। এতে ভুটান নেপালসহ আঞ্চলিক নদীবন্দর প্রতিষ্ঠিত হবে। আজকে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিয়ে যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এতে আর কেউ বাসন্তীদের দিয়ে ষড়যন্ত্র করতে পারছেনা। বাসন্তীদের ব্যবহার করে বিদেশীদের মদদ পাচ্ছেনা। বাসন্তীদের ব্যবহার করে ধনাঢ্য হতে পারছেনা।

তিনি বলেন, নদীপথ রক্ষার বিষয়টি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে অনুভব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নৌপথ খননের লক্ষ্যে সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। এরপরে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোন সরকার ড্রেজার সংগ্রহ করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে ৩৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে, আরও ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যা ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে ছিল। নদী পথের জায়গা অবৈধ দখল ও দূষণরোধে ঢাকা শহরের চারিদিকে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু এবং তুরাগ নপীর তীরভূমি থেকে ২০ হাজার ১৫৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ৭২৬ একর ভূমি উদ্ধার করা, উচ্ছেদকৃত জায়গা পুনঃদখলরোধে ২ হাজার টি স্থায়ী ও টেকসই সীমানা পিলার নির্মাণ, ২৩.৫ কিলােমিটার ওয়াকওয়ে এবং শ্যামপুর ও খানপুরে দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃতে দেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দিন বদলের সনদ ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ মনে করে দিন বদলে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেননা, তিনি আগামীর স্বপ্ন দেখান। তাঁর নেতৃত্বে দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছি। সেখান থেকে ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

শনিবার (১২ জুন) নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সােনাকান্দা এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড অন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে ১০টি ১২ টন বোলার্ড পুল টাগবোটের (কিল লেয়িং) নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রতিটি টাগবোটের ওজন ১২ টন। আরো ৭ টি টাগবোটের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী নৌপ্রধান রিয়ার এডমিরাল এম শফিউল আজম, নৌ মন্ত্রনালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ`র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, প্রকল্প পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ`র প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এম এ মতিন প্রমুখ।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৬৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি ১২ টন বোলার্ড পুলের টাগবোট সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড ২০২৩ সালের মে’র মধ্যে টাগবোটগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবে। এছাড়া ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ টন বোলার্ড পুলের ২টি টাগবোট এবং ৭ টন বোলার্ড পুলের ৫টি টাগবোটসহ খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ প্রকল্পটিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর